০৫:২৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বগুড়া শহরের বাইরে যাচ্ছে রেলস্টেশন, চার লেন সড়কের পরিকল্পনা

  • Reporter Name
  • ০৪:০৯:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
  • ২১১

বগুড়া প্রতিনিধি: বগুড়া শহরের দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যার স্থায়ী সমাধানে শহরের ভেতরের রেললাইন ও রেলস্টেশন স্থানান্তরের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, নির্মাণাধীন বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথের রাণীরহাট জংশনকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠবে নতুন বগুড়া রেলস্টেশন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আধুনিক নগর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে শহরকে বাইপাস করে নতুন রেল সংযোগ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম রেলপথ মন্ত্রণালয়ে একটি ডিও পত্র পাঠিয়েছেন। তার প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে নতুন প্রকল্পের উন্নয়ন প্রস্তাব (ডিপিপি) তৈরির কাজ শুরু হয়েছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী রাণীরহাট থেকে গাবতলী পর্যন্ত নতুন রেল সংযোগ স্থাপন করা হবে। একইসঙ্গে শহরের মধ্য দিয়ে চলা বর্তমান রেলপথ অপসারণ করে সেখানে চার লেনের সড়ক নির্মাণের চিন্তাভাবনা চলছে। এছাড়া বর্তমান রেলস্টেশনকে আধুনিক দূরপাল্লার বাস টার্মিনালে রূপান্তরের পরিকল্পনাও রয়েছে।

প্রতিমন্ত্রীর মতে, কাহালু থেকে বগুড়া শহর হয়ে গাবতলী পর্যন্ত বিদ্যমান রেলপথটি ঘনবসতিপূর্ণ ও ব্যস্ত এলাকাগুলোর মধ্য দিয়ে যাওয়ায় সাতটি গুরুত্বপূর্ণ রেলক্রসিংয়ে প্রায়ই যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, রোগীসহ সাধারণ মানুষকে নানা ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়।

তিনি জানান, বুয়েটের প্রকৌশলীদের মাধ্যমে সম্ভাব্যতা যাচাই করে দেখা গেছে, ফ্লাইওভার নির্মাণের পরিবর্তে রেললাইন ও স্টেশন শহরের বাইরে স্থানান্তর করাই অধিক কার্যকর সমাধান হতে পারে। এতে শহরের ভেতরে বড় ধরনের অবকাঠামোগত চাপও কমবে।

স্থানীয়দের মধ্যেও এ পরিকল্পনা নিয়ে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। গাবতলীর বাসিন্দারা মনে করছেন, নতুন রেল সংযোগ ও স্টেশন নির্মাণের ফলে এলাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়বে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটবে। একইভাবে রাণীরহাটের বাসিন্দারাও নতুন জংশনকে কেন্দ্র করে এলাকার ব্যাপক উন্নয়নের আশা করছেন।

সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বগুড়া শহর রেলক্রসিংজনিত যানজট থেকে অনেকটাই মুক্ত হবে। পাশাপাশি উত্তরাঞ্চলের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থাও আরও আধুনিক, নিরাপদ ও গতিশীল হয়ে উঠবে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

জনপ্রিয়

বগুড়ায় প্রেস কাউন্সিলের দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

বগুড়া শহরের বাইরে যাচ্ছে রেলস্টেশন, চার লেন সড়কের পরিকল্পনা

০৪:০৯:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬

বগুড়া প্রতিনিধি: বগুড়া শহরের দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যার স্থায়ী সমাধানে শহরের ভেতরের রেললাইন ও রেলস্টেশন স্থানান্তরের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, নির্মাণাধীন বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথের রাণীরহাট জংশনকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠবে নতুন বগুড়া রেলস্টেশন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আধুনিক নগর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে শহরকে বাইপাস করে নতুন রেল সংযোগ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম রেলপথ মন্ত্রণালয়ে একটি ডিও পত্র পাঠিয়েছেন। তার প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে নতুন প্রকল্পের উন্নয়ন প্রস্তাব (ডিপিপি) তৈরির কাজ শুরু হয়েছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী রাণীরহাট থেকে গাবতলী পর্যন্ত নতুন রেল সংযোগ স্থাপন করা হবে। একইসঙ্গে শহরের মধ্য দিয়ে চলা বর্তমান রেলপথ অপসারণ করে সেখানে চার লেনের সড়ক নির্মাণের চিন্তাভাবনা চলছে। এছাড়া বর্তমান রেলস্টেশনকে আধুনিক দূরপাল্লার বাস টার্মিনালে রূপান্তরের পরিকল্পনাও রয়েছে।

প্রতিমন্ত্রীর মতে, কাহালু থেকে বগুড়া শহর হয়ে গাবতলী পর্যন্ত বিদ্যমান রেলপথটি ঘনবসতিপূর্ণ ও ব্যস্ত এলাকাগুলোর মধ্য দিয়ে যাওয়ায় সাতটি গুরুত্বপূর্ণ রেলক্রসিংয়ে প্রায়ই যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, রোগীসহ সাধারণ মানুষকে নানা ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়।

তিনি জানান, বুয়েটের প্রকৌশলীদের মাধ্যমে সম্ভাব্যতা যাচাই করে দেখা গেছে, ফ্লাইওভার নির্মাণের পরিবর্তে রেললাইন ও স্টেশন শহরের বাইরে স্থানান্তর করাই অধিক কার্যকর সমাধান হতে পারে। এতে শহরের ভেতরে বড় ধরনের অবকাঠামোগত চাপও কমবে।

স্থানীয়দের মধ্যেও এ পরিকল্পনা নিয়ে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। গাবতলীর বাসিন্দারা মনে করছেন, নতুন রেল সংযোগ ও স্টেশন নির্মাণের ফলে এলাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়বে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটবে। একইভাবে রাণীরহাটের বাসিন্দারাও নতুন জংশনকে কেন্দ্র করে এলাকার ব্যাপক উন্নয়নের আশা করছেন।

সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বগুড়া শহর রেলক্রসিংজনিত যানজট থেকে অনেকটাই মুক্ত হবে। পাশাপাশি উত্তরাঞ্চলের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থাও আরও আধুনিক, নিরাপদ ও গতিশীল হয়ে উঠবে।