০৯:০৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বগুড়ায় সেঞ্চুরী মোটেলে ফুর্তি করতে গিয়ে প্রেমিকের রহস্যজনক মৃত্যু, প্রেমিকা আটক

  • Reporter Name
  • ০২:৩৫:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬
  • ১৪১

মুহাম্মাদ আবু মুসাঃ বগুড়া মহানগরের চারমাথা এলাকায় আবাসিক ‘সেঞ্চুরী মোটেলে’ পরকীয়া প্রেমের টানে ফুর্তি করতে এসে বিপুল (৪০) নামের এক ব্যক্তির রহস্যজনক মৃ ত্যু হয়েছে। এ ঘটনার পরপরই মোটেলে লা/শ রেখে পালিয়ে যান প্রেমিকা মোর্শেদা বেগম (৩৫)। তবে শেষ রক্ষা হয়নি তার। ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশ তাকে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আটক করতে সক্ষম হয়েছে।
মৃত বিপুল চন্দ্র পাল বগুড়া সদরের এরুলিয়া ইউনিয়নের স্থানীয় বাসিন্দা এবং ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক মেম্বার। আটক হওয়া মোর্শেদা বেগম দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার ছয়পুকুরিয়া গ্রামের তোফাজ্জল হোসেনের কন্যা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ৬জুন/২৬ বিকেলে বিপুল ও মোর্শেদা বেগম নিজেদের স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দিয়ে সেঞ্চুরী মোটেলের একটি কক্ষ ভাড়া নেন। তারা দীর্ঘদিনের পরকীয়া প্রেমের সম্পর্কে জড়িত ছিলেন এবং সুযোগ পেলেই বিভিন্ন স্থানে দেখা করতেন। মোটেলের কক্ষটিতে অবস্থানের সময় হঠাৎ করেই বিপুল অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং একপর্যায়ে বিছানায় লুটিয়ে পড়েন।
বিপুলকে নিস্তেজ অবস্থায় দেখে মোর্শেদা বেগম ভয় পেয়ে যান। তিনি হোটেল কর্তৃপক্ষ বা ডাক্তারকে না জানিয়ে এবং কাউকে কোনো কিছু না বলে কৌশলে মোটেল থেকে পালিয়ে যান। পরবর্তীতে দীর্ঘ সময় রুমের কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে এবং রুমের দরজা সামান্য খোলা দেখে মোটেল স্টাফদের সন্দেহ হয়। পরে তারা কক্ষে প্রবেশ করে বিপুলকে অচেতন অবস্থায় বেডে পড়ে থাকতে দেখেন। এরপর পুলিশকে খবর দিলে
খবর পেয়ে বগুড়া সদর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং লা/শের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
পুলিশ মোটেলের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখতে পায় যে, বিপুল নামের ওই ব্যক্তির সাথে এক নারী কক্ষে প্রবেশ করেছিলেন এবং পরবর্তীতে তিনি তড়িঘড়ি করে মোটেল থেকে একাকী বের হয়ে যান। সিসিটিভি ফুটেজ এবং মোটেলে দেওয়া মোবাইল নম্বরের সূত্র ধরে পুলিশ দ্রুত অভিযানে নামে। বগুড়া সদর থানার একটি বিশেষ টিম কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে রবিবার ঠাকুরগাঁও শহরের একটি এলাকা থেকে অভিযুক্ত প্রেমিকা মোর্শেদা বেগমকে আটক করে।
বগুড়া সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইব্রাহীম আলী সংবাদমাধ্যমকে জানান, “প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে অতিরিক্ত উত্তেজক কোনো ওষুধ সেবনের কারণে বা হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে বিপুলের মৃ*ত্যু হতে পারে। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পরেই মৃ/ত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। ঘটনার পর পালিয়ে যাওয়া মোর্শেদা বেগমকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তিনি পরকীয়া সম্পর্কের বিষয়টি এবং বিপুলের অসুস্থতার পর পালিয়ে যাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার পর বগুড়া মহানগরের আবাসিক হোটেল ও মোটেলগুলোতে তদারকি এবং বোর্ডারদের পরিচয়পত্র যাচাইয়ের বিষয়টি নিয়ে আবারো কঠোর অবস্থানে যাওয়ার কথা জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

জনপ্রিয়

বগুড়ায় প্রেস কাউন্সিলের দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

বগুড়ায় সেঞ্চুরী মোটেলে ফুর্তি করতে গিয়ে প্রেমিকের রহস্যজনক মৃত্যু, প্রেমিকা আটক

০২:৩৫:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬

মুহাম্মাদ আবু মুসাঃ বগুড়া মহানগরের চারমাথা এলাকায় আবাসিক ‘সেঞ্চুরী মোটেলে’ পরকীয়া প্রেমের টানে ফুর্তি করতে এসে বিপুল (৪০) নামের এক ব্যক্তির রহস্যজনক মৃ ত্যু হয়েছে। এ ঘটনার পরপরই মোটেলে লা/শ রেখে পালিয়ে যান প্রেমিকা মোর্শেদা বেগম (৩৫)। তবে শেষ রক্ষা হয়নি তার। ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশ তাকে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আটক করতে সক্ষম হয়েছে।
মৃত বিপুল চন্দ্র পাল বগুড়া সদরের এরুলিয়া ইউনিয়নের স্থানীয় বাসিন্দা এবং ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক মেম্বার। আটক হওয়া মোর্শেদা বেগম দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার ছয়পুকুরিয়া গ্রামের তোফাজ্জল হোসেনের কন্যা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ৬জুন/২৬ বিকেলে বিপুল ও মোর্শেদা বেগম নিজেদের স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দিয়ে সেঞ্চুরী মোটেলের একটি কক্ষ ভাড়া নেন। তারা দীর্ঘদিনের পরকীয়া প্রেমের সম্পর্কে জড়িত ছিলেন এবং সুযোগ পেলেই বিভিন্ন স্থানে দেখা করতেন। মোটেলের কক্ষটিতে অবস্থানের সময় হঠাৎ করেই বিপুল অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং একপর্যায়ে বিছানায় লুটিয়ে পড়েন।
বিপুলকে নিস্তেজ অবস্থায় দেখে মোর্শেদা বেগম ভয় পেয়ে যান। তিনি হোটেল কর্তৃপক্ষ বা ডাক্তারকে না জানিয়ে এবং কাউকে কোনো কিছু না বলে কৌশলে মোটেল থেকে পালিয়ে যান। পরবর্তীতে দীর্ঘ সময় রুমের কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে এবং রুমের দরজা সামান্য খোলা দেখে মোটেল স্টাফদের সন্দেহ হয়। পরে তারা কক্ষে প্রবেশ করে বিপুলকে অচেতন অবস্থায় বেডে পড়ে থাকতে দেখেন। এরপর পুলিশকে খবর দিলে
খবর পেয়ে বগুড়া সদর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং লা/শের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
পুলিশ মোটেলের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখতে পায় যে, বিপুল নামের ওই ব্যক্তির সাথে এক নারী কক্ষে প্রবেশ করেছিলেন এবং পরবর্তীতে তিনি তড়িঘড়ি করে মোটেল থেকে একাকী বের হয়ে যান। সিসিটিভি ফুটেজ এবং মোটেলে দেওয়া মোবাইল নম্বরের সূত্র ধরে পুলিশ দ্রুত অভিযানে নামে। বগুড়া সদর থানার একটি বিশেষ টিম কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে রবিবার ঠাকুরগাঁও শহরের একটি এলাকা থেকে অভিযুক্ত প্রেমিকা মোর্শেদা বেগমকে আটক করে।
বগুড়া সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইব্রাহীম আলী সংবাদমাধ্যমকে জানান, “প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে অতিরিক্ত উত্তেজক কোনো ওষুধ সেবনের কারণে বা হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে বিপুলের মৃ*ত্যু হতে পারে। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পরেই মৃ/ত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। ঘটনার পর পালিয়ে যাওয়া মোর্শেদা বেগমকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তিনি পরকীয়া সম্পর্কের বিষয়টি এবং বিপুলের অসুস্থতার পর পালিয়ে যাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার পর বগুড়া মহানগরের আবাসিক হোটেল ও মোটেলগুলোতে তদারকি এবং বোর্ডারদের পরিচয়পত্র যাচাইয়ের বিষয়টি নিয়ে আবারো কঠোর অবস্থানে যাওয়ার কথা জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।