০৫:২৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মহাস্থান মহাসড়কের মাঝের সেই ভবন অবশেষে উচ্ছেদ: চালক ও পথচারীদের স্বস্তি

  • Reporter Name
  • ০২:৪১:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
  • ৭৭
​গোলাম রব্বানী শিপন, মহাস্থান- বগুড়াঃ ​বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মহাস্থানগড় সংলগ্ন রংপুর-ঢাকা মহাসড়কের ঠিক মাঝখানে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকা সেই বহুল আলোচিত বহুতল ভবনটি অবশেষে উচ্ছেদ করা হয়েছে। সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের  উদ্যোগে ভারী উচ্ছেদকারী যন্ত্র (ভেকু) ব্যবহার করে ভবনটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
​দীর্ঘদিন ধরে মহাসড়কের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ কাজের প্রধান প্রতিবন্ধকতা হিসেবে দাঁড়িয়ে থাকা এই ভবনটি অপসারিত হওয়ায় উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বারের এই ব্যস্ততম সড়কে স্বস্তিতে চলাচল করতে পারছেন চালক, যাত্রী ও পথচারীরা।
​চার লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের আওতায় ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে হলেও মহাস্থান বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এই ভবনটির কারণে একটি অংশ সংকুচিত হয়ে ছিল। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মহাস্থানের আলহাজ্ব আব্দুল জলিল গংদের ভবনের মালিকানা এবং ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত আইনি জটিলতা ও আপত্তির কারণে দীর্ঘদিন ধরে এটি উচ্ছেদ করা সম্ভব হচ্ছিল না। মহাসড়কের ঠিক মাঝখানে ২তলা ভবনটি দাঁড়িয়ে থাকায় চার লেনের সড়কটি সেখানে এসে হঠাৎ সরু হয়ে দ্বিমুখী যাতায়াতের ঝুঁকিপূর্ণ মোড়ে পরিণত হয়েছিল।
​ভবনটি মহাসড়কের মাঝে থাকায় গত কয়েক বছর ধরে এই স্থানে নিয়মিত যানজট ঘটত। বিশেষ করে রাতের বেলা দূরপাল্লার দ্রুতগামী বাস ও ট্রাক চালকেরা হঠাৎ এ লেনে এসে সামনে ভবনটি দেখে আবার পিছন হঠত। এ ছাড়া উৎসবের সময় বা ছুটির দিনগুলোতে এই স্থানে মাইলের পর মাইল তীব্র যানজটের সৃষ্টি হতো, যা উত্তরবঙ্গের ১৬ জেলার মানুষের জন্য চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
​সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সকল আইনি প্রক্রিয়া ও নোটিশ প্রদানের সময়সীমা পার হওয়ার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই চূড়ান্ত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
শনিবার বেলা ১টায় শক্তিশালী ভেকু (এস্কেভেটর) ব্যবহার করে ১ ঘন্টার প্রচেষ্টায় ভবনের অগ্রভাগ ও মহাসড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী অংশ সম্পূর্ণ ভেঙে ফেলা হয়।
এঘটনায় ​চালক ও পথচারীদের প্রতিক্রিয়ায় জানা যায়, ভবনটি উচ্ছেদের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় বাসিন্দা ও নিয়মিত যাতায়াতকারীদের মাঝে আনন্দের বন্যা বয়ে যায়।
​ঢাকা-রংপুর রুটের এক বাস চালক বলেন, ​”এই বিল্ডিংটা আমাদের জন্য একটা মরণফাঁদ ছিল। দূর থেকে হুট করে মহাসড়কের মাঝে বিল্ডিং দেখলে বুক কেঁপে উঠত। এখন রাস্তা একদম পরিষ্কার। আমরা বুক হালকা করে মহাস্থান বাসষ্ট্যান্ড হয়ে গাড়ি চালাতে পারব।”
​স্থানীয় এক ব্যবসায়ী জানান,
​”মহাস্থানগড় একটি ঐতিহাসিক স্থান এবং পর্যটন এলাকা। এখানে মহাসড়কের মাঝে এমন ভবন থাকাটা যেমন ঝুঁকিপূর্ণ ছিল, তেমনি দেখতেও বাজে লাগত। প্রশাসনকে ধন্যবাদ এই সাহসী পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য।”
​সড়ক ও জনপথ বিভাগের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, “মহাসড়কটি সম্পূর্ণ নিরাপদ ও বাধাহীন করাই আমাদের মূল লক্ষ্য ছিল। এই ভবনটির কারণে চার লেনের সুফল পুরোপুরি পাওয়া যাচ্ছিল না। উচ্ছেদ কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ায় এখন দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই অংশের সড়ক পাকাকরণ ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ শেষ করা হবে।”
​
মহাসড়কের মাঝখানের এই প্রতিবন্ধকতা দূর হওয়ার মাধ্যমে উত্তরবঙ্গের সড়ক যোগাযোগে এক নতুন গতির সঞ্চার হলো এবং হাজারো মানুষের প্রতিদিনের যাতায়াত নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন হলো।
Tag :

Write Your Comment

About Author Information

জনপ্রিয়

বগুড়ায় প্রেস কাউন্সিলের দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

মহাস্থান মহাসড়কের মাঝের সেই ভবন অবশেষে উচ্ছেদ: চালক ও পথচারীদের স্বস্তি

০২:৪১:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
​গোলাম রব্বানী শিপন, মহাস্থান- বগুড়াঃ ​বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মহাস্থানগড় সংলগ্ন রংপুর-ঢাকা মহাসড়কের ঠিক মাঝখানে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকা সেই বহুল আলোচিত বহুতল ভবনটি অবশেষে উচ্ছেদ করা হয়েছে। সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের  উদ্যোগে ভারী উচ্ছেদকারী যন্ত্র (ভেকু) ব্যবহার করে ভবনটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
​দীর্ঘদিন ধরে মহাসড়কের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ কাজের প্রধান প্রতিবন্ধকতা হিসেবে দাঁড়িয়ে থাকা এই ভবনটি অপসারিত হওয়ায় উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বারের এই ব্যস্ততম সড়কে স্বস্তিতে চলাচল করতে পারছেন চালক, যাত্রী ও পথচারীরা।
​চার লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের আওতায় ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে হলেও মহাস্থান বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এই ভবনটির কারণে একটি অংশ সংকুচিত হয়ে ছিল। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মহাস্থানের আলহাজ্ব আব্দুল জলিল গংদের ভবনের মালিকানা এবং ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত আইনি জটিলতা ও আপত্তির কারণে দীর্ঘদিন ধরে এটি উচ্ছেদ করা সম্ভব হচ্ছিল না। মহাসড়কের ঠিক মাঝখানে ২তলা ভবনটি দাঁড়িয়ে থাকায় চার লেনের সড়কটি সেখানে এসে হঠাৎ সরু হয়ে দ্বিমুখী যাতায়াতের ঝুঁকিপূর্ণ মোড়ে পরিণত হয়েছিল।
​ভবনটি মহাসড়কের মাঝে থাকায় গত কয়েক বছর ধরে এই স্থানে নিয়মিত যানজট ঘটত। বিশেষ করে রাতের বেলা দূরপাল্লার দ্রুতগামী বাস ও ট্রাক চালকেরা হঠাৎ এ লেনে এসে সামনে ভবনটি দেখে আবার পিছন হঠত। এ ছাড়া উৎসবের সময় বা ছুটির দিনগুলোতে এই স্থানে মাইলের পর মাইল তীব্র যানজটের সৃষ্টি হতো, যা উত্তরবঙ্গের ১৬ জেলার মানুষের জন্য চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
​সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সকল আইনি প্রক্রিয়া ও নোটিশ প্রদানের সময়সীমা পার হওয়ার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই চূড়ান্ত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
শনিবার বেলা ১টায় শক্তিশালী ভেকু (এস্কেভেটর) ব্যবহার করে ১ ঘন্টার প্রচেষ্টায় ভবনের অগ্রভাগ ও মহাসড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী অংশ সম্পূর্ণ ভেঙে ফেলা হয়।
এঘটনায় ​চালক ও পথচারীদের প্রতিক্রিয়ায় জানা যায়, ভবনটি উচ্ছেদের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় বাসিন্দা ও নিয়মিত যাতায়াতকারীদের মাঝে আনন্দের বন্যা বয়ে যায়।
​ঢাকা-রংপুর রুটের এক বাস চালক বলেন, ​”এই বিল্ডিংটা আমাদের জন্য একটা মরণফাঁদ ছিল। দূর থেকে হুট করে মহাসড়কের মাঝে বিল্ডিং দেখলে বুক কেঁপে উঠত। এখন রাস্তা একদম পরিষ্কার। আমরা বুক হালকা করে মহাস্থান বাসষ্ট্যান্ড হয়ে গাড়ি চালাতে পারব।”
​স্থানীয় এক ব্যবসায়ী জানান,
​”মহাস্থানগড় একটি ঐতিহাসিক স্থান এবং পর্যটন এলাকা। এখানে মহাসড়কের মাঝে এমন ভবন থাকাটা যেমন ঝুঁকিপূর্ণ ছিল, তেমনি দেখতেও বাজে লাগত। প্রশাসনকে ধন্যবাদ এই সাহসী পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য।”
​সড়ক ও জনপথ বিভাগের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, “মহাসড়কটি সম্পূর্ণ নিরাপদ ও বাধাহীন করাই আমাদের মূল লক্ষ্য ছিল। এই ভবনটির কারণে চার লেনের সুফল পুরোপুরি পাওয়া যাচ্ছিল না। উচ্ছেদ কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ায় এখন দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই অংশের সড়ক পাকাকরণ ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ শেষ করা হবে।”
​
মহাসড়কের মাঝখানের এই প্রতিবন্ধকতা দূর হওয়ার মাধ্যমে উত্তরবঙ্গের সড়ক যোগাযোগে এক নতুন গতির সঞ্চার হলো এবং হাজারো মানুষের প্রতিদিনের যাতায়াত নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন হলো।