১০:২৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সোনাতলায় ভিটেমাটি গিলছে যমুনা, স্থায়ী বাঁধের দাবি এলাকাবাসীর

  • Reporter Name
  • ০১:৫৮:১২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
  • ৫৮

সোনাতলা (বগুড়া) প্রতিনিধি: বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার যমুনা নদী তীরবর্তী এলাকায় ভয়াবহ নদীভাঙন অব্যাহত রয়েছে। বছরের পর বছর ধরে চলা এই ভাঙনে নদীগর্ভে হারিয়ে যাচ্ছে বসতভিটা, ফসলি জমি ও গাছপালা। স্থানীয়দের অভিযোগ, ভাঙন ঠেকাতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে জিও ব্যাগ ফেলা হলেও তা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না। ফলে দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জোরালো হয়ে উঠেছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রায় দুই থেকে আড়াই দশক ধরে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় যমুনার ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। বর্ষা মৌসুম শুরু হলেই নদীর তীব্র স্রোতে ভাঙনের মাত্রা বেড়ে যায়। দীর্ঘ সময়েও স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা না হওয়ায় উপজেলার খাবুলিয়া, জন্তিয়ারপাড়া, দাউদিয়ারপাড়া, সরলিয়া, মহব্বতেরপাড়া, ভিকনেরপাড়া, খাটিয়ামারি ও পূর্ব সুজাইতপুর এলাকার বিস্তীর্ণ অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।

নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত প্রবীণ বাসিন্দারা জানান, তাদের পূর্বপুরুষদের ভিটেমাটি, গাছপালা এমনকি পারিবারিক কবরস্থানও যমুনার গর্ভে হারিয়ে গেছে। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে ভবিষ্যতে আরও বড় এলাকা নদীগর্ভে চলে যেতে পারে।

সম্প্রতি ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব কাজী রফিকুল ইসলাম। এ সময় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সঙ্গে কথা বলেন এবং নদীভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দেন।

এ বিষয়ে বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান জানান, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলার কাজ চলমান রয়েছে। পাশাপাশি নদীভাঙনের স্থায়ী সমাধানে প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।

নদীপাড়ের মানুষের দাবি, প্রতি বছর অস্থায়ী ব্যবস্থা নয়, যমুনার ভয়াল ভাঙন থেকে স্থায়ীভাবে রক্ষা পেতে দ্রুত টেকসই বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হোক। এতে হাজারো মানুষের বসতভিটা ও জীবিকা রক্ষা পাবে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

জনপ্রিয়

বগুড়ায় প্রেস কাউন্সিলের দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

সোনাতলায় ভিটেমাটি গিলছে যমুনা, স্থায়ী বাঁধের দাবি এলাকাবাসীর

০১:৫৮:১২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

সোনাতলা (বগুড়া) প্রতিনিধি: বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার যমুনা নদী তীরবর্তী এলাকায় ভয়াবহ নদীভাঙন অব্যাহত রয়েছে। বছরের পর বছর ধরে চলা এই ভাঙনে নদীগর্ভে হারিয়ে যাচ্ছে বসতভিটা, ফসলি জমি ও গাছপালা। স্থানীয়দের অভিযোগ, ভাঙন ঠেকাতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে জিও ব্যাগ ফেলা হলেও তা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না। ফলে দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জোরালো হয়ে উঠেছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রায় দুই থেকে আড়াই দশক ধরে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় যমুনার ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। বর্ষা মৌসুম শুরু হলেই নদীর তীব্র স্রোতে ভাঙনের মাত্রা বেড়ে যায়। দীর্ঘ সময়েও স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা না হওয়ায় উপজেলার খাবুলিয়া, জন্তিয়ারপাড়া, দাউদিয়ারপাড়া, সরলিয়া, মহব্বতেরপাড়া, ভিকনেরপাড়া, খাটিয়ামারি ও পূর্ব সুজাইতপুর এলাকার বিস্তীর্ণ অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।

নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত প্রবীণ বাসিন্দারা জানান, তাদের পূর্বপুরুষদের ভিটেমাটি, গাছপালা এমনকি পারিবারিক কবরস্থানও যমুনার গর্ভে হারিয়ে গেছে। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে ভবিষ্যতে আরও বড় এলাকা নদীগর্ভে চলে যেতে পারে।

সম্প্রতি ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব কাজী রফিকুল ইসলাম। এ সময় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সঙ্গে কথা বলেন এবং নদীভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দেন।

এ বিষয়ে বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান জানান, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলার কাজ চলমান রয়েছে। পাশাপাশি নদীভাঙনের স্থায়ী সমাধানে প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।

নদীপাড়ের মানুষের দাবি, প্রতি বছর অস্থায়ী ব্যবস্থা নয়, যমুনার ভয়াল ভাঙন থেকে স্থায়ীভাবে রক্ষা পেতে দ্রুত টেকসই বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হোক। এতে হাজারো মানুষের বসতভিটা ও জীবিকা রক্ষা পাবে।