১০:২৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সোনাতলার পলিনেট হাউজে শসা চাষে কৃষকদের সাফল্য, বাড়ছে লাভ ও আগ্রহ

  • Reporter Name
  • ০২:৩১:১৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬
  • ৬৬

সোনাতলা (বগুড়া) প্রতিনিধি: আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ‘পলিনেট হাউজ’ পদ্ধতিতে শসা চাষ করে সাফল্যের মুখ দেখছেন বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার কৃষকেরা। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব থেকে ফসলকে সুরক্ষা দিয়ে বছরজুড়ে নিরাপদ ও বিষমুক্ত শসা উৎপাদনের সুযোগ থাকায় দিন দিন এই প্রযুক্তির প্রতি কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে।

পলিনেট হাউজ মূলত বিশেষ ধরনের স্বচ্ছ পলিথিন ও নেট দিয়ে তৈরি নিয়ন্ত্রিত পরিবেশের একটি কৃষি কাঠামো। এর মাধ্যমে অতিরিক্ত রোদ, বৃষ্টি ও ক্ষতিকর পোকামাকড়ের আক্রমণ থেকে ফসলকে রক্ষা করা যায়। আধুনিক সেচব্যবস্থা ও প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহের ফলে গাছের বৃদ্ধি ভালো হয় এবং ফলনও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়।

সোনাতলার যমুনা নদী তীরবর্তী ও পলিপ্রবণ এলাকায় গ্রীষ্মকালে খোলা মাঠে শসা চাষ নানা ঝুঁকির মুখে পড়ে। তীব্র তাপদাহ, ফুল ঝরে যাওয়া ও রোগবালাইয়ের কারণে অনেক সময় কাঙ্ক্ষিত ফলন পাওয়া যায় না। তবে পলিনেট হাউজে এসব সমস্যা তুলনামূলক কম হওয়ায় কৃষকেরা অধিক ফলন পাচ্ছেন।

স্থানীয় কৃষকদের তথ্য অনুযায়ী, উন্নত ও হাইব্রিড জাতের শসা চাষের ফলে প্রতিটি গাছে প্রচুর ফল ধরে। বাজারে সাধারণ শসার সরবরাহ কম থাকাকালে পলিনেট হাউজে উৎপাদিত শসা বেশি দামে বিক্রি করা সম্ভব হয়। এতে কৃষকের লাভও কয়েকগুণ বেড়ে যায়।

কামারপাড়া এলাকার এক কৃষক জানান, তিনি গত বছর ১৫ শতক জমিতে পলিনেট হাউজ পদ্ধতিতে শসা চাষ করে প্রায় দেড় লাখ টাকার বেশি আয় করেছেন। তার সাফল্য দেখে আশপাশের অনেক কৃষকও এই প্রযুক্তিতে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।

কৃষকদের মতে, কৃষি বিভাগের বিভিন্ন প্রদর্শনী কার্যক্রম ও পরামর্শের কারণে আধুনিক এ প্রযুক্তি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে শসা চাষের পরিধি বাড়ছে এবং অনেক কৃষক অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হচ্ছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সোহরাব হোসেন বলেন, পলিনেট হাউজ প্রযুক্তি কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। বিশেষ করে শিক্ষিত যুবক ও উদ্যোক্তারা এ পদ্ধতিতে বাণিজ্যিকভাবে শসা চাষ করলে স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি দেশের অন্যান্য এলাকাতেও সরবরাহ করে ভালো মুনাফা অর্জন করতে পারবেন।

তিনি আরও জানান, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি সম্প্রসারণের মাধ্যমে সোনাতলার কৃষি অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

জনপ্রিয়

বগুড়ায় প্রেস কাউন্সিলের দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

সোনাতলার পলিনেট হাউজে শসা চাষে কৃষকদের সাফল্য, বাড়ছে লাভ ও আগ্রহ

০২:৩১:১৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

সোনাতলা (বগুড়া) প্রতিনিধি: আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ‘পলিনেট হাউজ’ পদ্ধতিতে শসা চাষ করে সাফল্যের মুখ দেখছেন বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার কৃষকেরা। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব থেকে ফসলকে সুরক্ষা দিয়ে বছরজুড়ে নিরাপদ ও বিষমুক্ত শসা উৎপাদনের সুযোগ থাকায় দিন দিন এই প্রযুক্তির প্রতি কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে।

পলিনেট হাউজ মূলত বিশেষ ধরনের স্বচ্ছ পলিথিন ও নেট দিয়ে তৈরি নিয়ন্ত্রিত পরিবেশের একটি কৃষি কাঠামো। এর মাধ্যমে অতিরিক্ত রোদ, বৃষ্টি ও ক্ষতিকর পোকামাকড়ের আক্রমণ থেকে ফসলকে রক্ষা করা যায়। আধুনিক সেচব্যবস্থা ও প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহের ফলে গাছের বৃদ্ধি ভালো হয় এবং ফলনও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়।

সোনাতলার যমুনা নদী তীরবর্তী ও পলিপ্রবণ এলাকায় গ্রীষ্মকালে খোলা মাঠে শসা চাষ নানা ঝুঁকির মুখে পড়ে। তীব্র তাপদাহ, ফুল ঝরে যাওয়া ও রোগবালাইয়ের কারণে অনেক সময় কাঙ্ক্ষিত ফলন পাওয়া যায় না। তবে পলিনেট হাউজে এসব সমস্যা তুলনামূলক কম হওয়ায় কৃষকেরা অধিক ফলন পাচ্ছেন।

স্থানীয় কৃষকদের তথ্য অনুযায়ী, উন্নত ও হাইব্রিড জাতের শসা চাষের ফলে প্রতিটি গাছে প্রচুর ফল ধরে। বাজারে সাধারণ শসার সরবরাহ কম থাকাকালে পলিনেট হাউজে উৎপাদিত শসা বেশি দামে বিক্রি করা সম্ভব হয়। এতে কৃষকের লাভও কয়েকগুণ বেড়ে যায়।

কামারপাড়া এলাকার এক কৃষক জানান, তিনি গত বছর ১৫ শতক জমিতে পলিনেট হাউজ পদ্ধতিতে শসা চাষ করে প্রায় দেড় লাখ টাকার বেশি আয় করেছেন। তার সাফল্য দেখে আশপাশের অনেক কৃষকও এই প্রযুক্তিতে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।

কৃষকদের মতে, কৃষি বিভাগের বিভিন্ন প্রদর্শনী কার্যক্রম ও পরামর্শের কারণে আধুনিক এ প্রযুক্তি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে শসা চাষের পরিধি বাড়ছে এবং অনেক কৃষক অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হচ্ছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সোহরাব হোসেন বলেন, পলিনেট হাউজ প্রযুক্তি কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। বিশেষ করে শিক্ষিত যুবক ও উদ্যোক্তারা এ পদ্ধতিতে বাণিজ্যিকভাবে শসা চাষ করলে স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি দেশের অন্যান্য এলাকাতেও সরবরাহ করে ভালো মুনাফা অর্জন করতে পারবেন।

তিনি আরও জানান, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি সম্প্রসারণের মাধ্যমে সোনাতলার কৃষি অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।