সোনাতলা সংবাদ ডেস্কঃ বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলায় প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিকভাবে পান চাষ করে সফলতার মুখ দেখেছেন এক কৃষক। মাত্র ১০ শতক জমিতে গড়ে তোলা পানের বরজ থেকে প্রতিদিন ৬০০ থেকে ৭০০ টাকার পান বিক্রি করে লাভবান হচ্ছেন উপজেলার ফুলবাড়ী ইউনিয়নের হরিণা গ্রামের কৃষক মোরশেদ। তার এ সাফল্যে উদ্বুদ্ধ হয়ে স্থানীয় অনেক কৃষকও পান চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।
একসময় গৃহনির্মাণ শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন মোরশেদ। গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে পানের বরজ দেখে নিজ এলাকায় এ চাষের সম্ভাবনা খুঁজে পান তিনি। পরে প্রায় দেড় বছর আগে সেখান থেকে চারা এনে বাড়ির পাশের ১০ শতক জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে পান চাষ শুরু করেন।
বর্তমানে তার বরজের গাছগুলো বড় হয়ে পানে ভরে গেছে। গত কয়েক মাস ধরে নিয়মিত পান সংগ্রহ ও বিক্রি করছেন তিনি। প্রতিদিনের বিক্রি থেকে ভালো আয় হওয়ায় সংসারের আর্থিক অবস্থারও উন্নতি হয়েছে। পানের বরজে পর্যাপ্ত ছায়া নিশ্চিত করতে খড় ও বাঁশের কাঠামো ব্যবহার করা হয়, যা গাছের পরিচর্যার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
কৃষক মোরশেদ জানান, বরজ স্থাপনে তার প্রায় এক লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েক মাসে প্রায় ৭০ হাজার টাকার পান বিক্রি করেছেন। তার আশা, সঠিক পরিচর্যা অব্যাহত রাখতে পারলে আগামী ১০ বছরে এই বরজ থেকে প্রায় ২০ লাখ টাকার পান বিক্রি করা সম্ভব হবে।
সারিয়াকান্দি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বলেন, উপজেলায় এই প্রথম কোনো কৃষক সফলভাবে পান চাষ করে ভালো আয় করছেন। এটি স্থানীয় কৃষকদের জন্য একটি অনুপ্রেরণামূলক উদ্যোগ। কৃষি বিভাগ থেকে তাকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের কারিগরি সহযোগিতা দেওয়া হবে।
কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, পান একটি অর্থকরী ও ঔষধি গুণসম্পন্ন ফসল। পান পাতায় রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, বিভিন্ন ভিটামিন ও উপকারী উপাদান, যা হজমশক্তি বৃদ্ধি, মুখের দুর্গন্ধ দূর করা এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক। ফলে পান চাষ কৃষকের জন্য যেমন লাভজনক, তেমনি এর স্বাস্থ্যগত গুরুত্বও রয়েছে।
সারিয়াকান্দিতে মোরশেদের এই সফল উদ্যোগ প্রমাণ করেছে, নতুন প্রযুক্তি ও ভিন্নধর্মী কৃষি চাষাবাদ গ্রহণ করলে অল্প জমি থেকেও উল্লেখযোগ্য আয় করা সম্ভব।
Reporter Name 


















