০৯:৪১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সোনাতলায় মরা গরু জবাইয়ের অভিযোগে এক নারীকে ভ্রাম‌্যমাণ আদালতে জরিমানা

  • Reporter Name
  • ০৪:১২:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬
  • ১১৬

স্টাফ রিপোর্টারঃ বগুড়ার সোনাতলা পৌরসভার খানপাড়া এলাকায় অসুস্থ হয়ে মারা যাওয়া একটি গরু জবাই করার অভিযোগে এক নারীকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খানপাড়া এলাকার রুপা বেগম (সুলতা) নামের এক খামারির একটি গরু গত(২৪শে জুন)বুধবার সকাল থেকে অসুস্থ হয়ে পড়ে। তিনি স্থানীয়ভাবে গরুটির চিকিৎসা করান। তবে রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গরুটির অবস্থার অবনতি ঘটে। অভিযোগ রয়েছে,গভীর রাতে গরুটি মারা যাওয়ার পর রুপা বেগম স্থানীয় একজনকে সঙ্গে নিয়ে নিজেই গরুটি জবাই করেন। রুপা বেগম জানান,গরুটি অসুস্থ হয়ে পড়ার পর চিকিৎসা করা হলেও অবস্থার উন্নতি হয়নি। রাতে গরুটি বেশি অসুস্থ হয়ে পড়লে সেটি জবাই করা হয়। পরদিন সকালে মাংস বিক্রির জন্য কসাই ডাকা হয়েছিল। তবে স্থানীয়দের আপত্তির মুখে কসাই তার জিনিসপত্র রেখে চলে যান।স্থানীয় একজন বাসিন্দা জানান,রাত দেড়টার দিকে তাকে ডেকে নেন রুপা বেগম। ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি গরুটিকে ছটফট করতে দেখেন। পরে গরুটি নিস্তেজ হয়ে গেলে তিনি মাথা চেপে ধরেন আর রুপা বেগম বটি দিয়ে সেটি জবাই করেন।স্থানীয়রা জানান রুপা বেগম বেশ কয়েক বছর ধরে খানপাড়ায় বসবাস করছেন। তিনি কয়েকটি গরু নিয়ে খামার গড়েছেন। ইতিপূর্বেও নাকি একটি গরু এমন অবস্থা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন। তবে তাদের দাবি গরুটি মারা যাওয়ার পরই জবাই করা হয়েছে। এবং তারা বিষয়টি প্রশাসনকে অবহিত করেন। পরে ঘটনাস্থলে উপজেলা প্রশাসন, প্রাণিসম্পদ বিভাগ ও পুলিশ উপস্থিত হয়ে তদন্ত করেন।সোনাতলার প্রাণিসম্পদ সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ মোস্তফা কামাল বলেন,ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রাথমিকভাবে ধারণা পাওয়া গেছে,গরুটি সঠিকভাবে জবাই করা হয়নি। গরুটি মারা যাওয়ার পর জবাই করা হয়েছে বলে মনে হয়েছে। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও পৌর প্রশাসক জুয়েল মিয়া বলেন,স্থানীয়দের বক্তব্য ও ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি বিবেচনায় গরুটি মারা যাওয়ার পর জবাই করা হয়েছে বলে প্রতীয়মান হওয়া গেছে। এ ঘটনায় পশু জবাই ও মাংসের মানদণ্ড নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী রুপা বেগমকে ১৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে।তিনি আরও জানান,জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি এড়াতে মৃত গরুটি মাটিচাপা দিয়ে অপসারণ করা হয়েছে।
ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। প্রশাসন আরো জানিয়েছেন,জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এমন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতেও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

জনপ্রিয়

বগুড়ায় প্রেস কাউন্সিলের দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

সোনাতলায় মরা গরু জবাইয়ের অভিযোগে এক নারীকে ভ্রাম‌্যমাণ আদালতে জরিমানা

০৪:১২:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টারঃ বগুড়ার সোনাতলা পৌরসভার খানপাড়া এলাকায় অসুস্থ হয়ে মারা যাওয়া একটি গরু জবাই করার অভিযোগে এক নারীকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খানপাড়া এলাকার রুপা বেগম (সুলতা) নামের এক খামারির একটি গরু গত(২৪শে জুন)বুধবার সকাল থেকে অসুস্থ হয়ে পড়ে। তিনি স্থানীয়ভাবে গরুটির চিকিৎসা করান। তবে রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গরুটির অবস্থার অবনতি ঘটে। অভিযোগ রয়েছে,গভীর রাতে গরুটি মারা যাওয়ার পর রুপা বেগম স্থানীয় একজনকে সঙ্গে নিয়ে নিজেই গরুটি জবাই করেন। রুপা বেগম জানান,গরুটি অসুস্থ হয়ে পড়ার পর চিকিৎসা করা হলেও অবস্থার উন্নতি হয়নি। রাতে গরুটি বেশি অসুস্থ হয়ে পড়লে সেটি জবাই করা হয়। পরদিন সকালে মাংস বিক্রির জন্য কসাই ডাকা হয়েছিল। তবে স্থানীয়দের আপত্তির মুখে কসাই তার জিনিসপত্র রেখে চলে যান।স্থানীয় একজন বাসিন্দা জানান,রাত দেড়টার দিকে তাকে ডেকে নেন রুপা বেগম। ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি গরুটিকে ছটফট করতে দেখেন। পরে গরুটি নিস্তেজ হয়ে গেলে তিনি মাথা চেপে ধরেন আর রুপা বেগম বটি দিয়ে সেটি জবাই করেন।স্থানীয়রা জানান রুপা বেগম বেশ কয়েক বছর ধরে খানপাড়ায় বসবাস করছেন। তিনি কয়েকটি গরু নিয়ে খামার গড়েছেন। ইতিপূর্বেও নাকি একটি গরু এমন অবস্থা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন। তবে তাদের দাবি গরুটি মারা যাওয়ার পরই জবাই করা হয়েছে। এবং তারা বিষয়টি প্রশাসনকে অবহিত করেন। পরে ঘটনাস্থলে উপজেলা প্রশাসন, প্রাণিসম্পদ বিভাগ ও পুলিশ উপস্থিত হয়ে তদন্ত করেন।সোনাতলার প্রাণিসম্পদ সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ মোস্তফা কামাল বলেন,ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রাথমিকভাবে ধারণা পাওয়া গেছে,গরুটি সঠিকভাবে জবাই করা হয়নি। গরুটি মারা যাওয়ার পর জবাই করা হয়েছে বলে মনে হয়েছে। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও পৌর প্রশাসক জুয়েল মিয়া বলেন,স্থানীয়দের বক্তব্য ও ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি বিবেচনায় গরুটি মারা যাওয়ার পর জবাই করা হয়েছে বলে প্রতীয়মান হওয়া গেছে। এ ঘটনায় পশু জবাই ও মাংসের মানদণ্ড নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী রুপা বেগমকে ১৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে।তিনি আরও জানান,জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি এড়াতে মৃত গরুটি মাটিচাপা দিয়ে অপসারণ করা হয়েছে।
ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। প্রশাসন আরো জানিয়েছেন,জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এমন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতেও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।