০৯:৪১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সোনাতলায় ১৬ হাজার মানুষের ব্যতিক্রমী গণভোজ, এলাকায় ব্যাপক আলোচনা

  • Reporter Name
  • ১১:১৭:০৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬
  • ১৩২

স্টাফ রিপোর্টার: বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার বালুয়া ইউনিয়নের দাউদপুর কর্নিবাড়ি গ্রামে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যতিক্রমধর্মী এক বিশাল গণভোজ। আয়োজকদের দাবি, শুক্রবার (২৬ জুন) সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত প্রায় ৩০-৪০টি চুলায় একযোগে রান্না করা হয়। পরদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ধাপে ধাপে প্রায় ১৫ থেকে ১৬ হাজার মানুষকে খাবার পরিবেশন করা হয়।

আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, অনুষ্ঠানের জন্য প্রায় ১,৬০০টি চেয়ার এবং প্রায় ১৫০টি ডেকোরেটরের ডেকচি ব্যবহার করা হয়। প্রতিটি ব্যাচে প্রায় দেড় হাজার মানুষকে বসিয়ে পর্যায়ক্রমে খাবার পরিবেশন করা হয়। সীমিত পরিসরের জায়গায় এত বিপুল সংখ্যক মানুষের উপস্থিতি ও সুশৃঙ্খল আয়োজনকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।

অনুষ্ঠানের প্রধান আয়োজক দাউদপুর কর্নিবাড়ি গ্রামের মৃত হাফিজার প্রধানের ছেলে মো. সোহাগ প্রধান। তিনি জানান, পুরো আয়োজনে প্রায় ১৬ লাখ টাকার কিছু বেশি ব্যয় হয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা ৮-৯ জন মিলে এই আয়োজন করেছি। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ব্যাচভিত্তিকভাবে অতিথিদের খাবার পরিবেশন করা হয়েছে।”

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোহাগ প্রধান এসএসসি পাস এবং বর্তমানে “ইন্টারন্যাশনাল হিউম্যান রাইটস এডুকেশন ফাউন্ডেশন” নামে একটি প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি জানান, প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্যালয় ঢাকার কেরানীগঞ্জের চুনকুড়িয়া চৌরাস্তায়। তবে তিনি সুনির্দিষ্ট সড়ক বা ভবন নম্বর জানাতে পারেননি।

স্থানীয়দের একাংশের দাবি, সোহাগ প্রধান কিছুদিন আগেও রাজমিস্ত্রীর কাজ করতেন। অল্প সময়ের ব্যবধানে এত বড় আয়োজন করায় এলাকায় নানা জল্পনা-কল্পনার সৃষ্টি হয়েছে। তবে অলৌকিকভাবে অর্থ প্রাপ্তি বা এ ধরনের বিভিন্ন গুঞ্জনের পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রবীণ ব্যক্তি বলেন, “এত মানুষের সমাগম আমি জীবনে দেখিনি।”

ভোজের প্রধান আকর্ষণ ছিল বগুড়ার ঐতিহ্যবাহী খাবার ‘আলুঘাটি’। আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, গরু ও ছাগলের মাংস দিয়ে খাবারটি রান্না করা হয়। সোনাতলা ছাড়াও আশপাশের তিনটি উপজেলার বিভিন্ন এলাকা এবং দূর-দূরান্ত থেকে হাজারো মানুষ অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

অনুষ্ঠানস্থল তুলনামূলক ছোট হওয়ায় এত মানুষের উপস্থিতি কীভাবে সম্ভব হলো, তা নিয়েও জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তবে আয়োজকরা কোনো অলৌকিক ঘটনার দাবি করেননি। তাদের ভাষ্য, সারাদিন ধরে ধারাবাহিকভাবে ব্যাচভিত্তিক খাবার পরিবেশন করায় বিপুলসংখ্যক মানুষকে আপ্যায়ন করা সম্ভব হয়েছে।

স্থানীয়দের মতে, ধর্মীয় পরিবেশ, সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা এবং বগুড়ার ঐতিহ্যবাহী খাবারের সমন্বয়ে এই ব্যতিক্রমী গণভোজ দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

জনপ্রিয়

বগুড়ায় প্রেস কাউন্সিলের দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

সোনাতলায় ১৬ হাজার মানুষের ব্যতিক্রমী গণভোজ, এলাকায় ব্যাপক আলোচনা

১১:১৭:০৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার: বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার বালুয়া ইউনিয়নের দাউদপুর কর্নিবাড়ি গ্রামে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যতিক্রমধর্মী এক বিশাল গণভোজ। আয়োজকদের দাবি, শুক্রবার (২৬ জুন) সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত প্রায় ৩০-৪০টি চুলায় একযোগে রান্না করা হয়। পরদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ধাপে ধাপে প্রায় ১৫ থেকে ১৬ হাজার মানুষকে খাবার পরিবেশন করা হয়।

আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, অনুষ্ঠানের জন্য প্রায় ১,৬০০টি চেয়ার এবং প্রায় ১৫০টি ডেকোরেটরের ডেকচি ব্যবহার করা হয়। প্রতিটি ব্যাচে প্রায় দেড় হাজার মানুষকে বসিয়ে পর্যায়ক্রমে খাবার পরিবেশন করা হয়। সীমিত পরিসরের জায়গায় এত বিপুল সংখ্যক মানুষের উপস্থিতি ও সুশৃঙ্খল আয়োজনকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।

অনুষ্ঠানের প্রধান আয়োজক দাউদপুর কর্নিবাড়ি গ্রামের মৃত হাফিজার প্রধানের ছেলে মো. সোহাগ প্রধান। তিনি জানান, পুরো আয়োজনে প্রায় ১৬ লাখ টাকার কিছু বেশি ব্যয় হয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা ৮-৯ জন মিলে এই আয়োজন করেছি। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ব্যাচভিত্তিকভাবে অতিথিদের খাবার পরিবেশন করা হয়েছে।”

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোহাগ প্রধান এসএসসি পাস এবং বর্তমানে “ইন্টারন্যাশনাল হিউম্যান রাইটস এডুকেশন ফাউন্ডেশন” নামে একটি প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি জানান, প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্যালয় ঢাকার কেরানীগঞ্জের চুনকুড়িয়া চৌরাস্তায়। তবে তিনি সুনির্দিষ্ট সড়ক বা ভবন নম্বর জানাতে পারেননি।

স্থানীয়দের একাংশের দাবি, সোহাগ প্রধান কিছুদিন আগেও রাজমিস্ত্রীর কাজ করতেন। অল্প সময়ের ব্যবধানে এত বড় আয়োজন করায় এলাকায় নানা জল্পনা-কল্পনার সৃষ্টি হয়েছে। তবে অলৌকিকভাবে অর্থ প্রাপ্তি বা এ ধরনের বিভিন্ন গুঞ্জনের পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রবীণ ব্যক্তি বলেন, “এত মানুষের সমাগম আমি জীবনে দেখিনি।”

ভোজের প্রধান আকর্ষণ ছিল বগুড়ার ঐতিহ্যবাহী খাবার ‘আলুঘাটি’। আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, গরু ও ছাগলের মাংস দিয়ে খাবারটি রান্না করা হয়। সোনাতলা ছাড়াও আশপাশের তিনটি উপজেলার বিভিন্ন এলাকা এবং দূর-দূরান্ত থেকে হাজারো মানুষ অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

অনুষ্ঠানস্থল তুলনামূলক ছোট হওয়ায় এত মানুষের উপস্থিতি কীভাবে সম্ভব হলো, তা নিয়েও জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তবে আয়োজকরা কোনো অলৌকিক ঘটনার দাবি করেননি। তাদের ভাষ্য, সারাদিন ধরে ধারাবাহিকভাবে ব্যাচভিত্তিক খাবার পরিবেশন করায় বিপুলসংখ্যক মানুষকে আপ্যায়ন করা সম্ভব হয়েছে।

স্থানীয়দের মতে, ধর্মীয় পরিবেশ, সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা এবং বগুড়ার ঐতিহ্যবাহী খাবারের সমন্বয়ে এই ব্যতিক্রমী গণভোজ দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।