সোনাতলা (বগুড়া) প্রতিনিধি: এক সময় দিনমজুরির আয়ে পাঁচ সদস্যের সংসার চালাতেই হিমশিম খেতে হতো। অভাব-অনটন ছিল নিত্যসঙ্গী। তবে হতাশ না হয়ে কঠোর পরিশ্রম আর সঠিক পরিকল্পনাকে পুঁজি করে সবজি চাষে নেমে আজ স্বাবলম্বী হয়েছেন বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার মধুপুর ইউনিয়নের মধুপুর গ্রামের চাম্পা বেগম ও সামছুল হক দম্পতি।
কয়েক বছর আগে মাত্র ৪০ শতক জমি বর্গা নিয়ে বেগুন ও পটলের চাষ শুরু করেন তারা। নিজেদের কোনো বড় পুঁজি না থাকলেও শ্রম আর দৃঢ় মনোবল ছিল তাদের মূল শক্তি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে চাষের পরিধি বাড়িয়ে এখন তারা বেগুন, পটল, কদু, কলা, শসা, করলা, ঝিঙে, লাউ এবং বিষমুক্ত লালশাক ও পালংশাকসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি উৎপাদন করছেন।
আধুনিক পদ্ধতিতে মাচা তৈরি করে সবজি চাষ করায় ফলনও হয়েছে আশানুরূপ। জমির পরিচর্যা থেকে শুরু করে বাজারে সবজি বিক্রি পর্যন্ত প্রতিটি কাজ স্বামী-স্ত্রী মিলে করেন। তাদের তিন ছেলেও কৃষিকাজে সহযোগিতা করছে।
চাষি সামছুল হক জানান, আগে মানুষের জমিতে দিনমজুরি করেও সংসার ঠিকমতো চলত না। এখন প্রতি সপ্তাহে খেতের সবজি পাইকারি বাজারে বিক্রি করেন। উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে মাসে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা লাভ হচ্ছে।
চাম্পা বেগম বলেন, “অনেকে মনে করেন নারীরা মাঠের কাজে সফল হতে পারেন না। কিন্তু স্বামীর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করে আমরা আজ স্বাবলম্বী হয়েছি। এখন আমাদের সংসারে আর অভাব নেই। নিজের পরিশ্রমে সফল হওয়ার আনন্দই সবচেয়ে বড়।”
তাদের এই সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে এলাকার অনেক বেকার যুবক এবং অন্যান্য পরিবারও বাণিজ্যিকভাবে সবজি চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। স্থানীয়দের মতে, সঠিক সিদ্ধান্ত, পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে কীভাবে একটি পরিবারের ভাগ্য বদলে যেতে পারে, তার উজ্জ্বল উদাহরণ চাম্পা-সামছুল দম্পতি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সোহরাব হোসেন বলেন, চাম্পা ও সামছুল দম্পতিকে নিয়মিত আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি এবং বিষমুক্ত সবজি উৎপাদনের বিষয়ে পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। তাদের সাফল্য প্রমাণ করে, ইচ্ছাশক্তি ও কঠোর পরিশ্রম থাকলে কৃষির মাধ্যমেও স্বাবলম্বী হওয়া সম্ভব।
Reporter Name 


















