০৫:২৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কাহালু সরকারি কলেজের সদ্য অবসরপ্রাপ্ত প্রভাষক মাসুদ পেলেন রাজকীয় সম্মান

মুনসুর রহমান তানসেন, কাহালু (বগুড়া) থেকেঃ দীর্ঘ ৩১ বছর সততা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করে অবসরে চলে গেলেন কাহালু সরকারি কলেজের রসায়ন বিভাগের সিনিয়ার প্রভাষক মাকছুদুর রহমান মাসুদ। অবসর মুহূর্তে কলেজ কতৃপক্ষ ও কলেজের শিক্ষার্থীরা তাকে রাজকীয়ভাবে বিদায় সংবর্ধনা দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) এই গুণী প্রভাষককে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় সংবর্ধনা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠিত বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসার মোঃ শাজাহান আলী। উপস্থিত ছিলেন কলেজের শিক্ষক, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীবৃন্দ। সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষে বিদায় মুহূর্তে সকলে তার পুরো শরীরে ফুলের পাপড়ি ছিটিয়ে অবসরে যাওয়া তাদের এই প্রিয়জনকে সম্মান জানিয়ে রাজকীয়ভাবে ঘোড়াগাড়িতে তুলে দেওয়া হয়। কাহালু সরকারি কলেজের শিক্ষক/কর্মচারীদের অনেকেই অবসর নিয়েছেন। তাদের মধ্যে এই প্রথম একজন অবসরপ্রাপ্ত প্রভাষক প্রভাষক মাসুদ পেলেন এক বিরল সম্মাননা।
অবসর নিয়ে বিদায়লগ্নে প্রিয়জন, সহকর্মী শিক্ষকবৃন্দ, কর্মচারী, ভক্ত ও শিক্ষার্থীদের নিখাত সম্মান ও ভালোবাসা যখন একসঙ্গে বর্ষিত হয় তা অনুভূতির ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। ঠিক তেমনি একটি আবেগঘন পরিবেশ ঘটেছে সদ্য অবসরে যাওয়া বিদায়ী প্রভাষক মাসুদের ক্ষেত্রে। তার প্রিয় প্রতিষ্ঠান, দীর্ঘ সময়ের সহকর্মী, ভক্ত ও ¯েœনের শিক্ষার্থীদের মুখের দিকে চেয়ে বিদায় মুহূর্তে সকলের ভালোবাসায় প্রভাষক মাসুদের দু’চোখ অশ্রæসিক্ত হয়ে উঠে।
জানা গেছে, এই গুণী শিক্ষক তার সহকর্মী বা শিক্ষার্থীদের কাছেই প্রিয় ব্যক্তি ছিলেন না। তিনি তার সততার কারণে এই জনপদের প্রায় সকল শ্রেণিপেশার মানুষের কাছেই ছিলেন প্রিয় মুখ হিসেবে। তিনি শিক্ষকতার পাশাপাশি সামাজিক, সাংস্কৃতি, ক্রীড়াসহ মানুষের কল্যাণকর কাজে ও এলাকার সার্বিক ভালো কাজে যথেষ্ট অবদান রেখেছেন। নানা গুণে গুণান্বিত এই প্রভাষক মাসুদ ন্যায় প্রতিষ্ঠায় বরাবরই সাহসি ভুমিকা রেখেছেন।
মাসুদ ১৯৬৭ সালের ৩ জুলাই বগুড়া জেলার কাহালু উপজেলার শীতলাই গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। তার পিতার নাম মোকছেদ আলী ও মাতার নাম রশিদা খাতুন। তিনি গ্রামের স্কুল থেকে পঞ্চম শ্রেণি পাশ করে কাহালু উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হন। ১৯৮৩ সালে তিনি এসএসসি পাশ করে বগুড়া আজিজুল কলেজে ভর্তি হন। ১৯৮৫ সালে এইচ এস সি পাশ করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালেয় ভর্তি হন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফলিত রসায়ন বিষয়ে ১৯৮৮ সালে অনার্স ও ১৯৮৯ সালে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৯৫ সালে তিনি কাহালু ডিগ্রি কলেজে প্রভাষক হিসাবে যোগদান করেন। কাহালু ডিগ্রি কলেজ সরকারি হওয়ার কয়েক বছর পর পূর্ণ মেয়াদে চাকরি জীবন শেষ করে ২ জুলায় ২০২৬ এ তিনি অবসরে গেলেন।
চাকরির পাশাপাশি তিনি প্রায় ৮ বছর যাবত কাহালু উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়–য়া কাহালুর শিক্ষার্থীদের একটি সংগঠন সাওমীর প্রতিষ্ঠাতা উপদেষ্টা হিসাবে এখন পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়াও তিনি কাহালু প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এবং কাহালু আবহানী ক্রীড়া চক্রের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসাবে ক্রীড়া অঙ্গনেও যথেষ্ট অবদান রাখছেন। শিক্ষা ও সাংস্কৃতি বিকাশে তিনি ভালো ভুমিকা রাখেন।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

জনপ্রিয়

বগুড়ায় প্রেস কাউন্সিলের দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

কাহালু সরকারি কলেজের সদ্য অবসরপ্রাপ্ত প্রভাষক মাসুদ পেলেন রাজকীয় সম্মান

০২:২৮:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬

মুনসুর রহমান তানসেন, কাহালু (বগুড়া) থেকেঃ দীর্ঘ ৩১ বছর সততা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করে অবসরে চলে গেলেন কাহালু সরকারি কলেজের রসায়ন বিভাগের সিনিয়ার প্রভাষক মাকছুদুর রহমান মাসুদ। অবসর মুহূর্তে কলেজ কতৃপক্ষ ও কলেজের শিক্ষার্থীরা তাকে রাজকীয়ভাবে বিদায় সংবর্ধনা দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) এই গুণী প্রভাষককে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় সংবর্ধনা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠিত বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসার মোঃ শাজাহান আলী। উপস্থিত ছিলেন কলেজের শিক্ষক, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীবৃন্দ। সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষে বিদায় মুহূর্তে সকলে তার পুরো শরীরে ফুলের পাপড়ি ছিটিয়ে অবসরে যাওয়া তাদের এই প্রিয়জনকে সম্মান জানিয়ে রাজকীয়ভাবে ঘোড়াগাড়িতে তুলে দেওয়া হয়। কাহালু সরকারি কলেজের শিক্ষক/কর্মচারীদের অনেকেই অবসর নিয়েছেন। তাদের মধ্যে এই প্রথম একজন অবসরপ্রাপ্ত প্রভাষক প্রভাষক মাসুদ পেলেন এক বিরল সম্মাননা।
অবসর নিয়ে বিদায়লগ্নে প্রিয়জন, সহকর্মী শিক্ষকবৃন্দ, কর্মচারী, ভক্ত ও শিক্ষার্থীদের নিখাত সম্মান ও ভালোবাসা যখন একসঙ্গে বর্ষিত হয় তা অনুভূতির ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। ঠিক তেমনি একটি আবেগঘন পরিবেশ ঘটেছে সদ্য অবসরে যাওয়া বিদায়ী প্রভাষক মাসুদের ক্ষেত্রে। তার প্রিয় প্রতিষ্ঠান, দীর্ঘ সময়ের সহকর্মী, ভক্ত ও ¯েœনের শিক্ষার্থীদের মুখের দিকে চেয়ে বিদায় মুহূর্তে সকলের ভালোবাসায় প্রভাষক মাসুদের দু’চোখ অশ্রæসিক্ত হয়ে উঠে।
জানা গেছে, এই গুণী শিক্ষক তার সহকর্মী বা শিক্ষার্থীদের কাছেই প্রিয় ব্যক্তি ছিলেন না। তিনি তার সততার কারণে এই জনপদের প্রায় সকল শ্রেণিপেশার মানুষের কাছেই ছিলেন প্রিয় মুখ হিসেবে। তিনি শিক্ষকতার পাশাপাশি সামাজিক, সাংস্কৃতি, ক্রীড়াসহ মানুষের কল্যাণকর কাজে ও এলাকার সার্বিক ভালো কাজে যথেষ্ট অবদান রেখেছেন। নানা গুণে গুণান্বিত এই প্রভাষক মাসুদ ন্যায় প্রতিষ্ঠায় বরাবরই সাহসি ভুমিকা রেখেছেন।
মাসুদ ১৯৬৭ সালের ৩ জুলাই বগুড়া জেলার কাহালু উপজেলার শীতলাই গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। তার পিতার নাম মোকছেদ আলী ও মাতার নাম রশিদা খাতুন। তিনি গ্রামের স্কুল থেকে পঞ্চম শ্রেণি পাশ করে কাহালু উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হন। ১৯৮৩ সালে তিনি এসএসসি পাশ করে বগুড়া আজিজুল কলেজে ভর্তি হন। ১৯৮৫ সালে এইচ এস সি পাশ করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালেয় ভর্তি হন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফলিত রসায়ন বিষয়ে ১৯৮৮ সালে অনার্স ও ১৯৮৯ সালে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৯৫ সালে তিনি কাহালু ডিগ্রি কলেজে প্রভাষক হিসাবে যোগদান করেন। কাহালু ডিগ্রি কলেজ সরকারি হওয়ার কয়েক বছর পর পূর্ণ মেয়াদে চাকরি জীবন শেষ করে ২ জুলায় ২০২৬ এ তিনি অবসরে গেলেন।
চাকরির পাশাপাশি তিনি প্রায় ৮ বছর যাবত কাহালু উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়–য়া কাহালুর শিক্ষার্থীদের একটি সংগঠন সাওমীর প্রতিষ্ঠাতা উপদেষ্টা হিসাবে এখন পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়াও তিনি কাহালু প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এবং কাহালু আবহানী ক্রীড়া চক্রের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসাবে ক্রীড়া অঙ্গনেও যথেষ্ট অবদান রাখছেন। শিক্ষা ও সাংস্কৃতি বিকাশে তিনি ভালো ভুমিকা রাখেন।