০৯:৪১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সোনাতলায় ১০ বছর পর আদালতের রায়ে ঢাক-ঢোল পিটিয়ে জমি বুঝে পেলেন মালিক

  • Reporter Name
  • ০৩:৪৪:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬
  • ৫৪০

স্টাফ রিপোর্টার: বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার নওদাবগা এলাকায় দীর্ঘ ১০ বছর ধরে বেদখলে থাকা ২ শতক জমি আদালতের রায়ের ভিত্তিতে প্রকৃত মালিকের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আদালতের প্রতিনিধি, পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে জমি পরিমাপ করে লাল নিশানা টাঙিয়ে এবং ঢাক-ঢোল পিটিয়ে দখল বুঝিয়ে দেওয়ার কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়।

জানা যায়, উপজেলার জোড়গাছা ইউনিয়নের নওদাবগা মৌজার সরকারপাড়া পূর্বপাড়ায় ২ শতক জমি নিয়ে হামিদা বেওয়ার সঙ্গে প্রতিবেশী আব্দুল হান্নানের বিরোধের সৃষ্টি হয়। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে সালিসের মাধ্যমে মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও সমাধান না হওয়ায় হামিদা বেওয়া ২০১৬ সালে সোনাতলা সহকারী জজ আদালতে দেওয়ানি মামলা দায়ের করেন।

মামলার শুনানি শেষে ২০২০ সালে আদালত হামিদা বেওয়াকে জমির বৈধ মালিক ঘোষণা করে রায় দেন। পরে প্রতিপক্ষ আব্দুল হান্নান ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করলে ২০২৬ সালে আপিল খারিজ হয়ে যায়। এতে হামিদা বেওয়ার পক্ষেই চূড়ান্ত রায় বহাল থাকে। পরবর্তীতে আদালত জমিতে থাকা স্থাপনা উচ্ছেদ করে প্রকৃত মালিককে দখল বুঝিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন।

শুক্রবার আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়নে জেলা জজ আদালতের নাজির মো. আইয়ুব হোসেন, নায়েব নাজির মনিরুজ্জামান রনি, জারিকারক মো. এনামুল হক এবং অ্যাডভোকেট ফেরদৌসী আক্তার রুনা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় সোনাতলা থানার এসআই জাহাঙ্গীরের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব পালন করে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, সকালে আদালতের প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে জমি পরিমাপ করে লাল নিশানা টাঙিয়ে দখল বুঝিয়ে দেওয়ার কার্যক্রম শুরু করেন। শুরুতে কিছুটা উত্তেজনা থাকলেও পরে পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ থাকে এবং নির্বিঘ্নে কার্যক্রম শেষ হয়।

হামিদা বেওয়ার উত্তরাধিকারী কন্যা রুনা মাহমুদ বলেন, “দীর্ঘ সময়ের আইনি লড়াই শেষে আমরা আমাদের জায়গা ফিরে পেয়েছি। আদালতের মাধ্যমে ন্যায়বিচার পাওয়ায় আমাদের আস্থা ও শ্রদ্ধা আরও বেড়ে গেছে।”

জেলা জজ আদালতের নাজির মো. আইয়ুব হোসেন বলেন, “আদালতের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে নিয়ম অনুযায়ী ঢাক-ঢোল পিটিয়ে জমির দখল বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। শুরুতে কিছুটা সমস্যা থাকলেও পরে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পুরো কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে।”

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

জনপ্রিয়

বগুড়ায় প্রেস কাউন্সিলের দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

সোনাতলায় ১০ বছর পর আদালতের রায়ে ঢাক-ঢোল পিটিয়ে জমি বুঝে পেলেন মালিক

০৩:৪৪:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার: বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার নওদাবগা এলাকায় দীর্ঘ ১০ বছর ধরে বেদখলে থাকা ২ শতক জমি আদালতের রায়ের ভিত্তিতে প্রকৃত মালিকের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আদালতের প্রতিনিধি, পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে জমি পরিমাপ করে লাল নিশানা টাঙিয়ে এবং ঢাক-ঢোল পিটিয়ে দখল বুঝিয়ে দেওয়ার কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়।

জানা যায়, উপজেলার জোড়গাছা ইউনিয়নের নওদাবগা মৌজার সরকারপাড়া পূর্বপাড়ায় ২ শতক জমি নিয়ে হামিদা বেওয়ার সঙ্গে প্রতিবেশী আব্দুল হান্নানের বিরোধের সৃষ্টি হয়। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে সালিসের মাধ্যমে মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও সমাধান না হওয়ায় হামিদা বেওয়া ২০১৬ সালে সোনাতলা সহকারী জজ আদালতে দেওয়ানি মামলা দায়ের করেন।

মামলার শুনানি শেষে ২০২০ সালে আদালত হামিদা বেওয়াকে জমির বৈধ মালিক ঘোষণা করে রায় দেন। পরে প্রতিপক্ষ আব্দুল হান্নান ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করলে ২০২৬ সালে আপিল খারিজ হয়ে যায়। এতে হামিদা বেওয়ার পক্ষেই চূড়ান্ত রায় বহাল থাকে। পরবর্তীতে আদালত জমিতে থাকা স্থাপনা উচ্ছেদ করে প্রকৃত মালিককে দখল বুঝিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন।

শুক্রবার আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়নে জেলা জজ আদালতের নাজির মো. আইয়ুব হোসেন, নায়েব নাজির মনিরুজ্জামান রনি, জারিকারক মো. এনামুল হক এবং অ্যাডভোকেট ফেরদৌসী আক্তার রুনা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় সোনাতলা থানার এসআই জাহাঙ্গীরের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব পালন করে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, সকালে আদালতের প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে জমি পরিমাপ করে লাল নিশানা টাঙিয়ে দখল বুঝিয়ে দেওয়ার কার্যক্রম শুরু করেন। শুরুতে কিছুটা উত্তেজনা থাকলেও পরে পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ থাকে এবং নির্বিঘ্নে কার্যক্রম শেষ হয়।

হামিদা বেওয়ার উত্তরাধিকারী কন্যা রুনা মাহমুদ বলেন, “দীর্ঘ সময়ের আইনি লড়াই শেষে আমরা আমাদের জায়গা ফিরে পেয়েছি। আদালতের মাধ্যমে ন্যায়বিচার পাওয়ায় আমাদের আস্থা ও শ্রদ্ধা আরও বেড়ে গেছে।”

জেলা জজ আদালতের নাজির মো. আইয়ুব হোসেন বলেন, “আদালতের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে নিয়ম অনুযায়ী ঢাক-ঢোল পিটিয়ে জমির দখল বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। শুরুতে কিছুটা সমস্যা থাকলেও পরে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পুরো কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে।”