০৬:১৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সাঘাটায় মাদকের করাল গ্রাসে ঝরে গেল তরুণের প্রাণ, শোকে ভেঙে পড়েছেন মা

  • Reporter Name
  • ০৪:৩৭:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬
  • ৯২

সুলতান আহম্মেদ, স্টাফ রিপের্টার সাঘাটা (গাইবান্ধা): সন্তানের মৃত্যু একজন মায়ের জীবনে সবচেয়ে বড় বেদনা। যে সন্তানকে ঘিরে গড়ে ওঠে হাজারো স্বপ্ন, সেই সন্তান অকালে হারিয়ে গেলে জীবনের সব আনন্দ যেন মুহূর্তেই নিভে যায়। গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার ঘুড়িয়েদহ ইউনিয়নের খামার পবনতাইর গ্রামের আসমান বেগমের জীবনেও নেমে এসেছে এমনই এক গভীর শোক।

পরিবার ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, আসমান বেগমের ছেলে আহিদ ইসলাম গত ২ জুলাই ২০২৬ মারা যান। তাদের দাবি, তিনি দীর্ঘদিন মাদকের আসক্তিতে ভুগছিলেন এবং সেই আসক্তিই তাঁর জীবনের করুণ পরিণতির অন্যতম কারণ হয়ে ওঠে। তবে তাঁর মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথি বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের মাধ্যমেই নিশ্চিত হওয়া সম্ভব।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আহিদকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে পরিবারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে চেষ্টা করা হয়েছিল। মা আসমান বেগম ছেলেকে নেশা থেকে ফিরিয়ে আনতে বারবার বোঝানোর চেষ্টা করেন। আত্মীয়স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীরাও সহযোগিতা করেছিলেন। কিন্তু অভিযোগ, মাদকের আসক্তি ধীরে ধীরে তাকে পরিবার ও সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়।

এখন সেই বাড়িতে নেমে এসেছে গভীর নীরবতা। একসময় যে উঠোনে ছিল হাসি-কোলাহল, সেখানে আজ শুধুই শোকের ছায়া। ছেলের ছবি, ব্যবহৃত কিছু কাপড় ও স্মৃতিচিহ্ন আঁকড়ে ধরে দিন কাটছে আসমান বেগমের। ছেলের প্রসঙ্গ উঠলেই কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। তাঁর কণ্ঠে একটাই আক্ষেপ—“আমার ছেলেটা যদি নেশার পথ থেকে ফিরে আসত, তাহলে হয়তো আজও সে আমাদের মাঝে থাকত।”

প্রতিবেশীদের ভাষ্য, ছেলের মৃত্যুর পর থেকে আসমান বেগম প্রায় প্রতিদিনই আহিদকে স্মরণ করে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তাঁর এই শোক পুরো এলাকাবাসীকেও নাড়া দিয়েছে।

এ ঘটনা শুধু একটি পরিবারের ব্যক্তিগত শোক নয়, বরং সমাজের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা। একজন তরুণ কীভাবে মাদকের মতো ভয়াবহ আসক্তির মধ্যে জড়িয়ে পড়লেন, কোথা থেকে সেই মাদক এলো এবং এর পেছনে কারা রয়েছে—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে মাদকের বিস্তার রোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর উদ্যোগের পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠন এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সমন্বিত ভূমিকার ওপরও গুরুত্বারোপ করছেন সচেতন মহল।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মাদক শুধু একজন ব্যক্তির জীবনকেই ধ্বংস করে না; এটি একটি পরিবারের স্বপ্ন, মানসিক শান্তি, অর্থনৈতিক স্থিতি এবং সামাজিক বন্ধনকেও ভেঙে দেয়। তাই মাদক প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি ও সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি।

খামার পবনতাইর গ্রামের এই ঘটনা স্মরণ করিয়ে দেয়, মাদক কোনো ব্যক্তিগত সমস্যা নয়; এটি একটি সামাজিক সংকট। সময়মতো কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে না পারলে আরও অনেক পরিবার এমন অপূরণীয় ক্ষতির মুখোমুখি হতে পারে।

আসমান বেগমের অশ্রু যেন আর কোনো মায়ের নিয়তি না হয়—এমন প্রত্যাশাই এখন স্থানীয়দের। একই সঙ্গে আহিদ ইসলামের মৃত্যু সমাজে মাদকবিরোধী সচেতনতা ও প্রতিরোধ জোরদারে নতুন করে ভাবনার জন্ম দিক, এমন প্রত্যাশাও সবার।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

জনপ্রিয়

বগুড়ায় প্রেস কাউন্সিলের দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

সাঘাটায় মাদকের করাল গ্রাসে ঝরে গেল তরুণের প্রাণ, শোকে ভেঙে পড়েছেন মা

০৪:৩৭:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬

সুলতান আহম্মেদ, স্টাফ রিপের্টার সাঘাটা (গাইবান্ধা): সন্তানের মৃত্যু একজন মায়ের জীবনে সবচেয়ে বড় বেদনা। যে সন্তানকে ঘিরে গড়ে ওঠে হাজারো স্বপ্ন, সেই সন্তান অকালে হারিয়ে গেলে জীবনের সব আনন্দ যেন মুহূর্তেই নিভে যায়। গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার ঘুড়িয়েদহ ইউনিয়নের খামার পবনতাইর গ্রামের আসমান বেগমের জীবনেও নেমে এসেছে এমনই এক গভীর শোক।

পরিবার ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, আসমান বেগমের ছেলে আহিদ ইসলাম গত ২ জুলাই ২০২৬ মারা যান। তাদের দাবি, তিনি দীর্ঘদিন মাদকের আসক্তিতে ভুগছিলেন এবং সেই আসক্তিই তাঁর জীবনের করুণ পরিণতির অন্যতম কারণ হয়ে ওঠে। তবে তাঁর মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথি বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের মাধ্যমেই নিশ্চিত হওয়া সম্ভব।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আহিদকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে পরিবারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে চেষ্টা করা হয়েছিল। মা আসমান বেগম ছেলেকে নেশা থেকে ফিরিয়ে আনতে বারবার বোঝানোর চেষ্টা করেন। আত্মীয়স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীরাও সহযোগিতা করেছিলেন। কিন্তু অভিযোগ, মাদকের আসক্তি ধীরে ধীরে তাকে পরিবার ও সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়।

এখন সেই বাড়িতে নেমে এসেছে গভীর নীরবতা। একসময় যে উঠোনে ছিল হাসি-কোলাহল, সেখানে আজ শুধুই শোকের ছায়া। ছেলের ছবি, ব্যবহৃত কিছু কাপড় ও স্মৃতিচিহ্ন আঁকড়ে ধরে দিন কাটছে আসমান বেগমের। ছেলের প্রসঙ্গ উঠলেই কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। তাঁর কণ্ঠে একটাই আক্ষেপ—“আমার ছেলেটা যদি নেশার পথ থেকে ফিরে আসত, তাহলে হয়তো আজও সে আমাদের মাঝে থাকত।”

প্রতিবেশীদের ভাষ্য, ছেলের মৃত্যুর পর থেকে আসমান বেগম প্রায় প্রতিদিনই আহিদকে স্মরণ করে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তাঁর এই শোক পুরো এলাকাবাসীকেও নাড়া দিয়েছে।

এ ঘটনা শুধু একটি পরিবারের ব্যক্তিগত শোক নয়, বরং সমাজের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা। একজন তরুণ কীভাবে মাদকের মতো ভয়াবহ আসক্তির মধ্যে জড়িয়ে পড়লেন, কোথা থেকে সেই মাদক এলো এবং এর পেছনে কারা রয়েছে—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে মাদকের বিস্তার রোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর উদ্যোগের পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠন এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সমন্বিত ভূমিকার ওপরও গুরুত্বারোপ করছেন সচেতন মহল।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মাদক শুধু একজন ব্যক্তির জীবনকেই ধ্বংস করে না; এটি একটি পরিবারের স্বপ্ন, মানসিক শান্তি, অর্থনৈতিক স্থিতি এবং সামাজিক বন্ধনকেও ভেঙে দেয়। তাই মাদক প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি ও সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি।

খামার পবনতাইর গ্রামের এই ঘটনা স্মরণ করিয়ে দেয়, মাদক কোনো ব্যক্তিগত সমস্যা নয়; এটি একটি সামাজিক সংকট। সময়মতো কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে না পারলে আরও অনেক পরিবার এমন অপূরণীয় ক্ষতির মুখোমুখি হতে পারে।

আসমান বেগমের অশ্রু যেন আর কোনো মায়ের নিয়তি না হয়—এমন প্রত্যাশাই এখন স্থানীয়দের। একই সঙ্গে আহিদ ইসলামের মৃত্যু সমাজে মাদকবিরোধী সচেতনতা ও প্রতিরোধ জোরদারে নতুন করে ভাবনার জন্ম দিক, এমন প্রত্যাশাও সবার।