০৪:৪৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বগুড়ায় তৈরী হচ্ছে সামরিক ড্রোন কারখানা, প্রতিরক্ষা খাতে বড় বিনিয়োগের ঘোষণা

  • Reporter Name
  • ০২:৫৪:০০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬
  • ১১৩

সোনাতলা সংবাদ ডেস্কঃ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে দেশের ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ আধুনিকায়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বৃহত্তর বগুড়ায় মনুষ্যবিহীন আকাশযান (ড্রোন) উৎপাদন কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, অত্যাধুনিক নজরদারি প্রযুক্তি এবং দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্প গড়ে তুলতে নেওয়া হয়েছে একাধিক কৌশলগত পরিকল্পনা।

গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে এ তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এনসিপির সদস্য সচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন–এর প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সশস্ত্র বাহিনীকে যুগোপযোগী, প্রযুক্তিনির্ভর এবং আত্মনির্ভর বাহিনীতে রূপান্তরের লক্ষ্যে সরকার ‘ফাস্ট ট্র্যাক’ ভিত্তিতে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

প্রধানমন্ত্রী জানান, সেনাবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে আগামী ১০ বছরে প্রয়োজন হবে প্রায় ৮৬ হাজার কোটি টাকা। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে সেনাবাহিনী আরও আধুনিক, বহুমাত্রিক ও যুদ্ধোপযোগী বাহিনীতে পরিণত হবে এবং জাতীয় প্রতিরক্ষা, সীমান্ত নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।

তিনি আরও বলেন, নৌবাহিনীর জন্য আধুনিক ফ্রিগেট, করভেট, অফশোর প্যাট্রোল ভেসেল এবং সাবমেরিন সংযোজনের পরিকল্পনাও রয়েছে। পাশাপাশি দেশে সামরিক শিল্পাঞ্চল (ডিআইজি) স্থাপনের বিষয়টি সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে।

দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের বিকাশে ড্রোন প্রযুক্তি, সেন্সর ব্যবস্থা, ইলেকট্রনিক্স এবং বিভিন্ন প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনের সক্ষমতা বৃদ্ধির কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বন্ধুপ্রতীম দেশগুলোর সঙ্গে প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে প্রতিরক্ষা শিল্পকে আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে নেত্রকোনা-৫ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মাছুম মোস্তফা–কে প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশের সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনীর আধুনিকায়ন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাচ্ছে। এ লক্ষ্যে তিন বছর ও সাত বছর মেয়াদি পৃথক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে, যা বাস্তবায়িত হলে বাহিনীর সামগ্রিক যুদ্ধ সক্ষমতা বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে।

বৃহত্তর বগুড়ায় ড্রোন কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে এটি দেশের প্রতিরক্ষা শিল্পে একটি নতুন মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে। একই সঙ্গে কর্মসংস্থান, প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং উত্তরাঞ্চলের শিল্পায়নেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

জনপ্রিয়

বগুড়ায় প্রেস কাউন্সিলের দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

বগুড়ায় তৈরী হচ্ছে সামরিক ড্রোন কারখানা, প্রতিরক্ষা খাতে বড় বিনিয়োগের ঘোষণা

০২:৫৪:০০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬

সোনাতলা সংবাদ ডেস্কঃ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে দেশের ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ আধুনিকায়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বৃহত্তর বগুড়ায় মনুষ্যবিহীন আকাশযান (ড্রোন) উৎপাদন কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, অত্যাধুনিক নজরদারি প্রযুক্তি এবং দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্প গড়ে তুলতে নেওয়া হয়েছে একাধিক কৌশলগত পরিকল্পনা।

গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে এ তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এনসিপির সদস্য সচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন–এর প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সশস্ত্র বাহিনীকে যুগোপযোগী, প্রযুক্তিনির্ভর এবং আত্মনির্ভর বাহিনীতে রূপান্তরের লক্ষ্যে সরকার ‘ফাস্ট ট্র্যাক’ ভিত্তিতে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

প্রধানমন্ত্রী জানান, সেনাবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে আগামী ১০ বছরে প্রয়োজন হবে প্রায় ৮৬ হাজার কোটি টাকা। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে সেনাবাহিনী আরও আধুনিক, বহুমাত্রিক ও যুদ্ধোপযোগী বাহিনীতে পরিণত হবে এবং জাতীয় প্রতিরক্ষা, সীমান্ত নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।

তিনি আরও বলেন, নৌবাহিনীর জন্য আধুনিক ফ্রিগেট, করভেট, অফশোর প্যাট্রোল ভেসেল এবং সাবমেরিন সংযোজনের পরিকল্পনাও রয়েছে। পাশাপাশি দেশে সামরিক শিল্পাঞ্চল (ডিআইজি) স্থাপনের বিষয়টি সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে।

দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের বিকাশে ড্রোন প্রযুক্তি, সেন্সর ব্যবস্থা, ইলেকট্রনিক্স এবং বিভিন্ন প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনের সক্ষমতা বৃদ্ধির কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বন্ধুপ্রতীম দেশগুলোর সঙ্গে প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে প্রতিরক্ষা শিল্পকে আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে নেত্রকোনা-৫ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মাছুম মোস্তফা–কে প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশের সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনীর আধুনিকায়ন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাচ্ছে। এ লক্ষ্যে তিন বছর ও সাত বছর মেয়াদি পৃথক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে, যা বাস্তবায়িত হলে বাহিনীর সামগ্রিক যুদ্ধ সক্ষমতা বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে।

বৃহত্তর বগুড়ায় ড্রোন কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে এটি দেশের প্রতিরক্ষা শিল্পে একটি নতুন মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে। একই সঙ্গে কর্মসংস্থান, প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং উত্তরাঞ্চলের শিল্পায়নেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা।