০৫:২৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কাহালুতে অবিরাম বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা, জনদুর্ভোগ চরমে

  • Reporter Name
  • ০৪:২২:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬
  • ৪৯

মুনসুর রহমান তানসেন, কাহালু থেকেঃ কয়েক দিনের টানা বর্ষনে বগুড়ার কাহালু উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ভয়াবহ জলাবদ্ধতায় নানা শ্রেণিপেশার মানুষ পড়েছেন চরম দুর্ভোগে।
অপরিকল্পিত স্থাপনা নির্মাণ, পানি নিষ্কাশনের পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির কারণে একটু বৃষ্টি হলেই উপজেলার বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। মরার উপর খাড়ার ঘায়ের মত কয়েক দিনের টানা বর্ষনে কাহালু পৌরসভাসহ উপজেলার অধিকাংশ ইউনিয়নে গ্রামের অলিগলি ও ফসলি জমি এখন পানির নীচে। রাস্তাঘাটে জমে আছে হাটুপানি। নীচু এলাকায় অনেকের বাড়িতেও ঢুকে পড়েছে পানি। কাহালু উপজেলা ভূমি অফিসের মত একটি গুরুত্বপূর্ণ অফিসের সামনেও জমে আছে হাটুপানি।
চরম দুর্ভোগে পড়া একাধিক ব্যক্তির মতে যেখানে-সেখানে অপরিকল্পিতভাবে স্থাপনা নির্মাণ, পানি নিষ্কাশনের পথ রাস্তার ধারে নয়নজুলিতে প্রতিবদ্ধকতা সৃষ্টি, সরকারিভাবে নির্মিত ড্রেন পরিস্কারে অবহেলার কারণে বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানি সহজে নিষ্কাশন হচ্ছে না। যার ফলে টানা বর্ষনে গ্রামের অলিগলি, নীচু এলাকার রাস্তাঘাট ও ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। চারিদিকে থৈ থৈ কাদা-পানির উপর দিয়ে যাতায়াতে ও যানবাহনে চলাচল করতে গিয়ে নানা শ্রেণিপেশার মানুষ সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছেন। জলাবদ্ধতার কারণে পথে-ঘাটে বিকল হচ্ছে যানবাহন। রাস্তাতে জমে থাকা পানির কারণে পিচঢালা পথে সৃষ্টি হচ্ছে বড় বড় গর্ত। এই পরিস্থিতিতে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী ও এইচ এস সি পরীক্ষার্থীরা পড়েছে অনেকটা বিপাকে। বিশেষ করে অটোভ্যান, ইজিবাইক, রিক্সা চালকসহ নি¤œ আয়ের মানুষের রোজি-রোজগার কমে গিয়ে তারা পরিবার-পরিজন পড়েছেন মহাবিপদে।
জানা গেছে, সোমবার (১৩ জুলাই) কাহালু উপজেলাবাসী ও পৌরবাসীর দুর্ভোগ লাঘবে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছাঃ মালিহা খানম দিনভর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেছেন। তিনি সরোজমিনে পরিদর্শনের পর স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং সড়ক ও জনপথ বিভিাগের কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলেছেন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য। তিনি কথা বলার পর ইতিমধ্যে বীরকেদার, নারহট্ট, মুরইল ও দূর্গাপুরসহ বিভিন্ন এলাকার পানি নিষ্কাশনের পথ নয়নজুলি পরিস্কারের কাজ শুরু হয়েছে। খাড়িয়া ও নাগর নদীতে পানি নামার জন্য প্রতিবদ্ধকতা দুর করতেও নানামুখী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) উপজেলা নির্ব্হাী অফিসার মোছাঃ মালিহা খানম এঁর সাথে এ বিষয়ে মোবাইল ফোনে কথা বলা হলে তিনি জানান, দ্রæত পানি নিষ্কাশনের জন্য জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় জনগন এবং সড়ক ও জনপদ বিভাগ কাজ শুরু করেছে। মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে স্থানীয় প্রশাসন আন্তরিকভাবে কাজ করছে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

জনপ্রিয়

বগুড়ায় প্রেস কাউন্সিলের দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

কাহালুতে অবিরাম বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা, জনদুর্ভোগ চরমে

০৪:২২:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

মুনসুর রহমান তানসেন, কাহালু থেকেঃ কয়েক দিনের টানা বর্ষনে বগুড়ার কাহালু উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ভয়াবহ জলাবদ্ধতায় নানা শ্রেণিপেশার মানুষ পড়েছেন চরম দুর্ভোগে।
অপরিকল্পিত স্থাপনা নির্মাণ, পানি নিষ্কাশনের পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির কারণে একটু বৃষ্টি হলেই উপজেলার বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। মরার উপর খাড়ার ঘায়ের মত কয়েক দিনের টানা বর্ষনে কাহালু পৌরসভাসহ উপজেলার অধিকাংশ ইউনিয়নে গ্রামের অলিগলি ও ফসলি জমি এখন পানির নীচে। রাস্তাঘাটে জমে আছে হাটুপানি। নীচু এলাকায় অনেকের বাড়িতেও ঢুকে পড়েছে পানি। কাহালু উপজেলা ভূমি অফিসের মত একটি গুরুত্বপূর্ণ অফিসের সামনেও জমে আছে হাটুপানি।
চরম দুর্ভোগে পড়া একাধিক ব্যক্তির মতে যেখানে-সেখানে অপরিকল্পিতভাবে স্থাপনা নির্মাণ, পানি নিষ্কাশনের পথ রাস্তার ধারে নয়নজুলিতে প্রতিবদ্ধকতা সৃষ্টি, সরকারিভাবে নির্মিত ড্রেন পরিস্কারে অবহেলার কারণে বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানি সহজে নিষ্কাশন হচ্ছে না। যার ফলে টানা বর্ষনে গ্রামের অলিগলি, নীচু এলাকার রাস্তাঘাট ও ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। চারিদিকে থৈ থৈ কাদা-পানির উপর দিয়ে যাতায়াতে ও যানবাহনে চলাচল করতে গিয়ে নানা শ্রেণিপেশার মানুষ সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছেন। জলাবদ্ধতার কারণে পথে-ঘাটে বিকল হচ্ছে যানবাহন। রাস্তাতে জমে থাকা পানির কারণে পিচঢালা পথে সৃষ্টি হচ্ছে বড় বড় গর্ত। এই পরিস্থিতিতে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী ও এইচ এস সি পরীক্ষার্থীরা পড়েছে অনেকটা বিপাকে। বিশেষ করে অটোভ্যান, ইজিবাইক, রিক্সা চালকসহ নি¤œ আয়ের মানুষের রোজি-রোজগার কমে গিয়ে তারা পরিবার-পরিজন পড়েছেন মহাবিপদে।
জানা গেছে, সোমবার (১৩ জুলাই) কাহালু উপজেলাবাসী ও পৌরবাসীর দুর্ভোগ লাঘবে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছাঃ মালিহা খানম দিনভর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেছেন। তিনি সরোজমিনে পরিদর্শনের পর স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং সড়ক ও জনপথ বিভিাগের কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলেছেন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য। তিনি কথা বলার পর ইতিমধ্যে বীরকেদার, নারহট্ট, মুরইল ও দূর্গাপুরসহ বিভিন্ন এলাকার পানি নিষ্কাশনের পথ নয়নজুলি পরিস্কারের কাজ শুরু হয়েছে। খাড়িয়া ও নাগর নদীতে পানি নামার জন্য প্রতিবদ্ধকতা দুর করতেও নানামুখী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) উপজেলা নির্ব্হাী অফিসার মোছাঃ মালিহা খানম এঁর সাথে এ বিষয়ে মোবাইল ফোনে কথা বলা হলে তিনি জানান, দ্রæত পানি নিষ্কাশনের জন্য জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় জনগন এবং সড়ক ও জনপদ বিভাগ কাজ শুরু করেছে। মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে স্থানীয় প্রশাসন আন্তরিকভাবে কাজ করছে।