০৪:৪৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সোনাতলার “শিহিপুর পুলিশ ফাঁড়ি” স্থাপন কার্যক্রম এক দশকেও আলোর মুখ দেখেনি

স্টাফ রিপোর্টার: বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার সৈয়দ আহম্মদ কলেজ স্টেশন এলাকায় প্রস্তাবিত শিহিপুর পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের কার্যক্রম শুরু হওয়ার প্রায় এক দশক পেরিয়ে গেলেও তা এখনো বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি। দীর্ঘদিন ধরে স্থগিত থাকায় তিন উপজেলার সীমান্তবর্তী এই গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় দ্রুত পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
জানা গেছে, ২০১৬ সালে সোনাতলা, সারিয়াকান্দি ও গাবতলী উপজেলার সীমান্তবর্তী সৈয়দ আহম্মদ কলেজ স্টেশন এলাকাকে কেন্দ্র করে একটি পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সে সময় সোনাতলা থানার তৎকালীন সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) আব্দুল জোব্বারকে সম্ভাব্য সীমানা নির্ধারণের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিনি জোড়গাছা ও দিগদাইড় ইউনিয়নকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি প্রস্তাবিত মানচিত্র প্রস্তুত করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠান।
তবে পুলিশ ফাঁড়ির জন্য উপযুক্ত স্থান নির্ধারণে জটিলতা সৃষ্টি হওয়ায় পুরো কার্যক্রম থেমে যায়। এরপর প্রায় ১০ বছর অতিবাহিত হলেও প্রকল্পটি আর বাস্তবায়নের পথে এগোয়নি।
স্থানীয়দের ভাষ্য, সৈয়দ আহম্মদ কলেজ স্টেশন এলাকা বর্তমানে শিক্ষা, ব্যবসা ও যোগাযোগের দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। পাশাপাশি তিন উপজেলার সংযোগস্থল হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় এখানে একটি পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন সময়ের দাবি।
এলাকাবাসীর আশা, বর্তমান সরকারের সময়ে বগুড়া-১ (সোনাতলা-সারিয়াকান্দি) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব কাজী রফিকুল ইসলামের উদ্যোগে বহু প্রতীক্ষিত এই পুলিশ ফাঁড়ি বাস্তবায়ন হবে এবং এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হবে।
সৈয়দ আহম্মদ পরিবারের সন্তান হাফেজ ইঞ্জিনিয়ার নাসিদুল হক মাসনবী বলেন, “সৈয়দ আহম্মদ কলেজ স্টেশন এলাকা এখন শিক্ষানগরী হিসেবে পরিচিত। প্রতিদিন হাজারো শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের যাতায়াত হয়। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত এখানে একটি পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন অত্যন্ত প্রয়োজন।”
দিগদাইড় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব শহিদুল হক টুল্লু বলেন, “শিহিপুর পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন এই অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি। এটি বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।”
এ বিষয়ে সোনাতলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন বলেন, বিষয়টি আমি জানি। শিহিপুর পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের বিষয় নিয়ে চিঠি চালাচালি হচ্ছে।
স্থানীয়দের মতে, শিহিপুর পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন করা হলে সোনাতলা, সারিয়াকান্দি ও গাবতলীর সীমান্তবর্তী বিস্তীর্ণ অঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হবে, অপরাধ দমন সহজ হবে এবং সাধারণ মানুষ দ্রুত পুলিশি সেবা পাবে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

জনপ্রিয়

বগুড়ায় প্রেস কাউন্সিলের দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

সোনাতলার “শিহিপুর পুলিশ ফাঁড়ি” স্থাপন কার্যক্রম এক দশকেও আলোর মুখ দেখেনি

০১:৪৯:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার: বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার সৈয়দ আহম্মদ কলেজ স্টেশন এলাকায় প্রস্তাবিত শিহিপুর পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের কার্যক্রম শুরু হওয়ার প্রায় এক দশক পেরিয়ে গেলেও তা এখনো বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি। দীর্ঘদিন ধরে স্থগিত থাকায় তিন উপজেলার সীমান্তবর্তী এই গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় দ্রুত পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
জানা গেছে, ২০১৬ সালে সোনাতলা, সারিয়াকান্দি ও গাবতলী উপজেলার সীমান্তবর্তী সৈয়দ আহম্মদ কলেজ স্টেশন এলাকাকে কেন্দ্র করে একটি পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সে সময় সোনাতলা থানার তৎকালীন সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) আব্দুল জোব্বারকে সম্ভাব্য সীমানা নির্ধারণের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিনি জোড়গাছা ও দিগদাইড় ইউনিয়নকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি প্রস্তাবিত মানচিত্র প্রস্তুত করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠান।
তবে পুলিশ ফাঁড়ির জন্য উপযুক্ত স্থান নির্ধারণে জটিলতা সৃষ্টি হওয়ায় পুরো কার্যক্রম থেমে যায়। এরপর প্রায় ১০ বছর অতিবাহিত হলেও প্রকল্পটি আর বাস্তবায়নের পথে এগোয়নি।
স্থানীয়দের ভাষ্য, সৈয়দ আহম্মদ কলেজ স্টেশন এলাকা বর্তমানে শিক্ষা, ব্যবসা ও যোগাযোগের দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। পাশাপাশি তিন উপজেলার সংযোগস্থল হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় এখানে একটি পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন সময়ের দাবি।
এলাকাবাসীর আশা, বর্তমান সরকারের সময়ে বগুড়া-১ (সোনাতলা-সারিয়াকান্দি) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব কাজী রফিকুল ইসলামের উদ্যোগে বহু প্রতীক্ষিত এই পুলিশ ফাঁড়ি বাস্তবায়ন হবে এবং এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হবে।
সৈয়দ আহম্মদ পরিবারের সন্তান হাফেজ ইঞ্জিনিয়ার নাসিদুল হক মাসনবী বলেন, “সৈয়দ আহম্মদ কলেজ স্টেশন এলাকা এখন শিক্ষানগরী হিসেবে পরিচিত। প্রতিদিন হাজারো শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের যাতায়াত হয়। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত এখানে একটি পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন অত্যন্ত প্রয়োজন।”
দিগদাইড় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব শহিদুল হক টুল্লু বলেন, “শিহিপুর পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন এই অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি। এটি বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।”
এ বিষয়ে সোনাতলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন বলেন, বিষয়টি আমি জানি। শিহিপুর পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের বিষয় নিয়ে চিঠি চালাচালি হচ্ছে।
স্থানীয়দের মতে, শিহিপুর পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন করা হলে সোনাতলা, সারিয়াকান্দি ও গাবতলীর সীমান্তবর্তী বিস্তীর্ণ অঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হবে, অপরাধ দমন সহজ হবে এবং সাধারণ মানুষ দ্রুত পুলিশি সেবা পাবে।