০৯:১০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সোনাতলায় টানা বৃষ্টিতে কর্মহীন হাজারো শ্রমজীবী, দ্রব্যমূল্যের চাপে বিপাকে নিম্নআয়ের মানুষ

  • Reporter Name
  • ০৪:১২:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
  • ৪৩

সোনাতলা (বগুড়া) প্রতিনিধি: বগুড়ার সোনাতলা উপজেলায় কয়েক দিনের টানা বর্ষণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। কাজের সুযোগ না থাকায় দিনমজুর ও শ্রমজীবী মানুষের বড় একটি অংশ কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। আয়-রোজগার বন্ধ থাকায় অনেক পরিবার অনাহার-অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছে। এর সঙ্গে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন দাম নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার তেকানীচুকাইনগর ও পাকুল্যা ইউনিয়নের ৯টি চরাঞ্চলের প্রায় ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন। টানা বৃষ্টিতে কৃষিকাজ ও অন্যান্য শ্রমনির্ভর কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দিনমজুরদের হাতে এখন কোনো কাজ নেই। ফলে পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন তারা।

রোববার উপজেলার সৈয়দ আহম্মদ কলেজ হাট, মহিচরণ হাট, কর্পূর হাট, বালুয়া হাট, হরিখালী হাট, কাচারী বাজার, পাকুল্যা হাট ও আড়িয়ার ঘাট বাজার ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ নিত্যপণ্যের দাম আগের তুলনায় বেড়েছে। বাজারে প্রতি কেজি বেগুন ১০০-১২০ টাকা, আলু ৩৫-৪০ টাকা, কাঁচা মরিচ ৮০-৯০ টাকা, চাল ৭০-৮০ টাকা, সিলভার কার্প মাছ ২২০ টাকা, কাতলা ৩০০-৩৫০ টাকা, কই মাছ ২০০-২৫০ টাকা, টেংরা মাছ ৪০০-৬০০ টাকা, সয়াবিন তেল ১৯০-২০০ টাকা এবং সরিষার তেল ২১০-২৩০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।

খাটিয়ামারী চরের বাসিন্দা আজাদুল ইসলাম, তুহিন মিয়া, শারমিন আক্তার ও জাহিদুল ইসলাম জানান, বর্ষা মৌসুমে কাজের অভাবে তারা চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন। আয় না থাকলেও প্রতিদিনের বাজার খরচ বেড়ে যাওয়ায় পরিবারের সদস্যদের প্রয়োজনীয় খাবার জোগাড় করতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে।

এদিকে বন্যাকবলিত এলাকার অনেক বাসিন্দার অভিযোগ, এখন পর্যন্ত পর্যাপ্ত সরকারি ত্রাণ না পৌঁছানোয় তারা কাঙ্ক্ষিত সহায়তা পাচ্ছেন না।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রেফাউল আজম বলেন, “এখন পর্যন্ত পর্যাপ্ত ত্রাণ সামগ্রী পাওয়া যায়নি। যে পরিমাণ বরাদ্দ এসেছে, তা পর্যায়ক্রমে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে বিতরণ করা হচ্ছে।”

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

জনপ্রিয়

বগুড়ায় প্রেস কাউন্সিলের দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

সোনাতলায় টানা বৃষ্টিতে কর্মহীন হাজারো শ্রমজীবী, দ্রব্যমূল্যের চাপে বিপাকে নিম্নআয়ের মানুষ

০৪:১২:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

সোনাতলা (বগুড়া) প্রতিনিধি: বগুড়ার সোনাতলা উপজেলায় কয়েক দিনের টানা বর্ষণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। কাজের সুযোগ না থাকায় দিনমজুর ও শ্রমজীবী মানুষের বড় একটি অংশ কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। আয়-রোজগার বন্ধ থাকায় অনেক পরিবার অনাহার-অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছে। এর সঙ্গে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন দাম নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার তেকানীচুকাইনগর ও পাকুল্যা ইউনিয়নের ৯টি চরাঞ্চলের প্রায় ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন। টানা বৃষ্টিতে কৃষিকাজ ও অন্যান্য শ্রমনির্ভর কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দিনমজুরদের হাতে এখন কোনো কাজ নেই। ফলে পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন তারা।

রোববার উপজেলার সৈয়দ আহম্মদ কলেজ হাট, মহিচরণ হাট, কর্পূর হাট, বালুয়া হাট, হরিখালী হাট, কাচারী বাজার, পাকুল্যা হাট ও আড়িয়ার ঘাট বাজার ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ নিত্যপণ্যের দাম আগের তুলনায় বেড়েছে। বাজারে প্রতি কেজি বেগুন ১০০-১২০ টাকা, আলু ৩৫-৪০ টাকা, কাঁচা মরিচ ৮০-৯০ টাকা, চাল ৭০-৮০ টাকা, সিলভার কার্প মাছ ২২০ টাকা, কাতলা ৩০০-৩৫০ টাকা, কই মাছ ২০০-২৫০ টাকা, টেংরা মাছ ৪০০-৬০০ টাকা, সয়াবিন তেল ১৯০-২০০ টাকা এবং সরিষার তেল ২১০-২৩০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।

খাটিয়ামারী চরের বাসিন্দা আজাদুল ইসলাম, তুহিন মিয়া, শারমিন আক্তার ও জাহিদুল ইসলাম জানান, বর্ষা মৌসুমে কাজের অভাবে তারা চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন। আয় না থাকলেও প্রতিদিনের বাজার খরচ বেড়ে যাওয়ায় পরিবারের সদস্যদের প্রয়োজনীয় খাবার জোগাড় করতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে।

এদিকে বন্যাকবলিত এলাকার অনেক বাসিন্দার অভিযোগ, এখন পর্যন্ত পর্যাপ্ত সরকারি ত্রাণ না পৌঁছানোয় তারা কাঙ্ক্ষিত সহায়তা পাচ্ছেন না।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রেফাউল আজম বলেন, “এখন পর্যন্ত পর্যাপ্ত ত্রাণ সামগ্রী পাওয়া যায়নি। যে পরিমাণ বরাদ্দ এসেছে, তা পর্যায়ক্রমে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে বিতরণ করা হচ্ছে।”