সোনাতলা সংবাদ ডেস্কঃ দুই স্ত্রীর করা পৃথক যৌতুক মামলার মুখে এবার কারাগারে যেতে হলো ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কনস্টেবল মামুনুর রশিদকে। প্রথম স্ত্রীর দায়ের করা যৌতুক ও নির্যাতন মামলায় আগাম জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
বুধবার (২৯ জুলাই) বগুড়ার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক আনোয়ারুল হকের আদালতে আত্মসমর্পণ করে আগাম জামিনের আবেদন করেন মামুনুর রশিদ। শুনানি শেষে আদালত আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বগুড়া আদালতের পরিদর্শক শহীদুল ইসলাম।
আদালত ও মামলার নথি অনুযায়ী, মামুনুর রশিদের বাড়ি বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার শোলারতাইড় গ্রামে। ২০২০ সালে তিনি একই উপজেলার ঘুঘুমারী উত্তরপাড়ার মৌসুমী আক্তারকে বিয়ে করেন। তাদের সংসারে চার বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, বিয়ের পর থেকেই স্ত্রী ও তার পরিবারের কাছে যৌতুক দাবি করা হতো। দাবি পূরণ না হওয়ায় মৌসুমী আক্তারকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়। এরই মধ্যে প্রথম স্ত্রীকে না জানিয়ে ২০২৩ সালের ৮ মার্চ পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার লাবনী খাতুনকে দ্বিতীয়বার বিয়ে করেন মামুনুর রশিদ।
পরে দ্বিতীয় স্ত্রী লাবনী খাতুনও যৌতুক নিরোধ আইনে তার বিরুদ্ধে পৃথক মামলা দায়ের করেন।
প্রথম স্ত্রী মৌসুমী আক্তারের অভিযোগ, দ্বিতীয় বিয়ের পরও সংসার চালিয়ে যেতে চাইলে তার কাছে পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করা হয়। টাকা দিতে না পারায় তাকে মারধর, নির্যাতন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। এসব অভিযোগে তিনি ২০২৫ সালের ১৯ আগস্ট আদালতে মামলা করেন।
ওই মামলায় মামুনুর রশিদ ছাড়াও তার ভাই মিলন মিয়া, দ্বিতীয় স্ত্রী লাবনী খাতুন এবং আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। মামুনুর রশিদ ছাড়া অন্য আসামিরা আগাম জামিন পেয়েছেন।
আদালত সূত্র জানায়, গত ২২ জুলাইও জামিনের জন্য আদালতে উপস্থিত হয়েছিলেন মামুনুর রশিদ। তবে সেদিন তিনি আদালত প্রাঙ্গণ ছেড়ে চলে যান। পরে বুধবার পুনরায় আত্মসমর্পণ করলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
বাদী মৌসুমী আক্তার দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে যৌতুকের দাবিতে তিনি নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। নির্যাতন ও হুমকি অব্যাহত থাকায় শেষ পর্যন্ত তিনি আইনের আশ্রয় নেন। এছাড়া তিনি অভিযোগ করেন, মামুনুর রশিদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক নারীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার মতো কর্মকাণ্ডেও জড়িত ছিলেন।
তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসংক্রান্ত অভিযোগগুলোর বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা তদন্তের ফলাফল এখনো প্রকাশিত হয়নি। মামলাগুলোর বিচারিক কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
Reporter Name 


















