০৭:৪৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সোনাতলায় বৃষ্টির অপেক্ষা নয়, সেচের পানিতেই আমন রোপণ শুরু

  • Reporter Name
  • ০২:২৮:৩৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬
  • ৪৭

সোনাতলা (বগুড়া) প্রতিনিধি: বৃষ্টির জন্য আর অপেক্ষা নয়। সেচ পাম্পের মাধ্যমে জমিতে পানি তুলে পুরোদমে আমন ধান রোপণে নেমেছেন বগুড়ার সোনাতলার কৃষকরা। কিছু এলাকায় শ্রমিক সংকট থাকলেও দ্বিগুণ মজুরি দিয়ে শ্রমিক সংগ্রহ করে আবাদ চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। চলতি মৌসুমে উপজেলায় ১০ হাজার ১২০ হেক্টর জমিতে আমন ধান আবাদ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কৃষি বিভাগ, যা গত বছরের তুলনায় ১৫০ হেক্টর বেশি।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত বছর সোনাতলায় ৯ হাজার ৮৭০ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। এ বছর সেই পরিমাণ বাড়িয়ে ১০ হাজার ১২০ হেক্টর করা হয়েছে। পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় কৃষকরা সেচের পানির ওপর নির্ভর করেই ধান রোপণের কাজ এগিয়ে নিচ্ছেন।

বৃহস্পতিবার উপজেলার উত্তর করমজা, হরিখালী, সাতবেকী, মোনারপটল, চরমধুপুর, নিশ্চিন্তপুর, শ্যামপুর, হুয়াকুয়া, পাকুল্যা, পূর্ব সুজাইতপুর, বালুয়াহাট, দাউদপুর, রশিদপুর, ধর্মকূল, মুলবাড়ি, কর্পূর, মহিচরণ, কলেজ স্টেশন, হার্ট করমজা, চরপাড়া ও ভেলুরপাড়া এলাকা ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ কৃষক সেচযন্ত্রের সাহায্যে জমিতে পানি দিয়ে আমন ধানের চারা রোপণ করছেন। তবে কয়েকটি এলাকায় শ্রমিক সংকটের কারণে কৃষকদের অতিরিক্ত মজুরি দিয়ে শ্রমিক নিয়োগ করতে হচ্ছে।

এ মৌসুমে কৃষকরা হাইব্রিড জাতের পাশাপাশি ব্রি উদ্ভাবিত বিভিন্ন উন্নত জাতের ধান রোপণ করছেন। এর মধ্যে ব্রি-ধান ১০৩ চাষে কৃষকদের আগ্রহ সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার পৌর এলাকার কামারপাড়া গ্রামে ব্রি-ধান ১০৩-এর প্রদর্শনী ও মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়।

কৃষিবিদ গোলাম সোবহানি বুলবুল জানান, তিনি এবার ১১০ বিঘা জমিতে আমন ধান আবাদ করবেন। আধুনিক জাতের ধান চাষে ফলন ভালো হওয়ার পাশাপাশি উৎপাদন খরচও তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সোহরাব হোসেন বলেন, “চলতি বছর উপজেলায় প্রায় ১০ হাজার হেক্টর জমিতে আমন ধান আবাদ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় রোপণে কিছুটা বিলম্ব হলেও ইতোমধ্যে ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ জমিতে রোপণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। চারার কোনো সংকট নেই, তবে কিছু এলাকায় শ্রমিক সংকট রয়েছে।”

তিনি আরও জানান, এ বছর সোনাতলায় ব্রি-ধান ১০৩ জাতের আবাদ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। অনুকূল পরিচর্যা নিশ্চিত করা গেলে এ জাতের ধান প্রতি বিঘায় প্রায় ২০ থেকে ২৫ মণ পর্যন্ত ফলন দিতে সক্ষম, যা কৃষকদের লাভবান করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

জনপ্রিয়

বগুড়ায় প্রেস কাউন্সিলের দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

সোনাতলায় বৃষ্টির অপেক্ষা নয়, সেচের পানিতেই আমন রোপণ শুরু

০২:২৮:৩৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬

সোনাতলা (বগুড়া) প্রতিনিধি: বৃষ্টির জন্য আর অপেক্ষা নয়। সেচ পাম্পের মাধ্যমে জমিতে পানি তুলে পুরোদমে আমন ধান রোপণে নেমেছেন বগুড়ার সোনাতলার কৃষকরা। কিছু এলাকায় শ্রমিক সংকট থাকলেও দ্বিগুণ মজুরি দিয়ে শ্রমিক সংগ্রহ করে আবাদ চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। চলতি মৌসুমে উপজেলায় ১০ হাজার ১২০ হেক্টর জমিতে আমন ধান আবাদ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কৃষি বিভাগ, যা গত বছরের তুলনায় ১৫০ হেক্টর বেশি।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত বছর সোনাতলায় ৯ হাজার ৮৭০ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। এ বছর সেই পরিমাণ বাড়িয়ে ১০ হাজার ১২০ হেক্টর করা হয়েছে। পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় কৃষকরা সেচের পানির ওপর নির্ভর করেই ধান রোপণের কাজ এগিয়ে নিচ্ছেন।

বৃহস্পতিবার উপজেলার উত্তর করমজা, হরিখালী, সাতবেকী, মোনারপটল, চরমধুপুর, নিশ্চিন্তপুর, শ্যামপুর, হুয়াকুয়া, পাকুল্যা, পূর্ব সুজাইতপুর, বালুয়াহাট, দাউদপুর, রশিদপুর, ধর্মকূল, মুলবাড়ি, কর্পূর, মহিচরণ, কলেজ স্টেশন, হার্ট করমজা, চরপাড়া ও ভেলুরপাড়া এলাকা ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ কৃষক সেচযন্ত্রের সাহায্যে জমিতে পানি দিয়ে আমন ধানের চারা রোপণ করছেন। তবে কয়েকটি এলাকায় শ্রমিক সংকটের কারণে কৃষকদের অতিরিক্ত মজুরি দিয়ে শ্রমিক নিয়োগ করতে হচ্ছে।

এ মৌসুমে কৃষকরা হাইব্রিড জাতের পাশাপাশি ব্রি উদ্ভাবিত বিভিন্ন উন্নত জাতের ধান রোপণ করছেন। এর মধ্যে ব্রি-ধান ১০৩ চাষে কৃষকদের আগ্রহ সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার পৌর এলাকার কামারপাড়া গ্রামে ব্রি-ধান ১০৩-এর প্রদর্শনী ও মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়।

কৃষিবিদ গোলাম সোবহানি বুলবুল জানান, তিনি এবার ১১০ বিঘা জমিতে আমন ধান আবাদ করবেন। আধুনিক জাতের ধান চাষে ফলন ভালো হওয়ার পাশাপাশি উৎপাদন খরচও তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সোহরাব হোসেন বলেন, “চলতি বছর উপজেলায় প্রায় ১০ হাজার হেক্টর জমিতে আমন ধান আবাদ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় রোপণে কিছুটা বিলম্ব হলেও ইতোমধ্যে ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ জমিতে রোপণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। চারার কোনো সংকট নেই, তবে কিছু এলাকায় শ্রমিক সংকট রয়েছে।”

তিনি আরও জানান, এ বছর সোনাতলায় ব্রি-ধান ১০৩ জাতের আবাদ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। অনুকূল পরিচর্যা নিশ্চিত করা গেলে এ জাতের ধান প্রতি বিঘায় প্রায় ২০ থেকে ২৫ মণ পর্যন্ত ফলন দিতে সক্ষম, যা কৃষকদের লাভবান করবে বলে আশা করা হচ্ছে।