০৬:১৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বগুড়ায় বিয়ে বাড়িতে গেটের বকশিশ নিয়ে সংঘর্ষ, বর-কনে পক্ষের আহত ৩

  • Reporter Name
  • ০২:৫২:০৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬
  • ৩৪৩

সোনাতলা সংবাদ ডেস্কঃ বিয়ের আনন্দঘন পরিবেশ মুহূর্তেই রূপ নেয় উত্তেজনা ও সংঘর্ষে। বগুড়ার সদর উপজেলার শাখারিয়া ইউনিয়নের তিলেরপাড়া গ্রামে গেটের বকশিশের টাকা নিয়ে বর ও কনে পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন। এ সময় বর পক্ষের কয়েকজনকে আটকে রেখে মারধর এবং ১৫টি মোবাইল ফোন ও স্বর্ণালঙ্কারসহ মূল্যবান সামগ্রী ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। যদিও এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে কনে পক্ষ।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কামারদহ ফেলুরপাড়া এলাকার সাগর মিয়ার সঙ্গে তিলেরপাড়া গ্রামের সাথী আক্তারের বিয়ের আয়োজন করা হয়। নির্ধারিত সময়ে বরযাত্রী কনের বাড়িতে পৌঁছালে গেটের বকশিশের টাকা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কথাকাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতি ও সংঘর্ষে রূপ নেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে স্থানীয়রা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

বর পক্ষের দাবি, কনে পক্ষের লোকজন অতর্কিত হামলা চালিয়ে নারী-পুরুষসহ কয়েকজনকে মারধর করে। এ সময় প্রায় ১৫টি মোবাইল ফোন, একটি স্বর্ণের চেইনসহ বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী ছিনিয়ে নেওয়া হয়। আহতদের মধ্যে শাহ আলম ও বর সাগরকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া তাদের একজন স্বজনকে কিছু সময় খুঁজে পাওয়া যায়নি বলেও অভিযোগ করা হয়।

বরের চাচাতো বোন জাকিয়া আক্তার অভিযোগ করেন, কনে পক্ষের কয়েকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে নারীদের মারধর করে এবং কয়েকজনকে পাশের পাটক্ষেতে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। একই সঙ্গে মোবাইল ফোন ও স্বর্ণালঙ্কার ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।

বরের মামি মাহমুদা বেগম বলেন, গেটের বকশিশ হিসেবে প্রথমে ১ হাজার ৫০০ টাকা দাবি করা হলেও তারা ৫০০ টাকা দিতে চান। এ নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হলে তারা বিয়ে না করে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তখন তাদের পথরোধ করে মারধর করা হয় এবং ১০ লাখ টাকা দাবি করে হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

অন্যদিকে কনে পক্ষ এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, বর পক্ষই প্রথমে বাড়িতে হামলা চালিয়ে বিভিন্ন আসবাবপত্র ও সাজসজ্জার সামগ্রী ভাঙচুর করেছে। হামলা বা ছিনতাইয়ের সঙ্গে তারা জড়িত নন।

বিয়ের ঘটক শামসুল হক জানান, বিয়ের আগে পোশাক নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়েছিল। তবে বিয়ের দিন বর পক্ষ অতিরিক্তভাবে শেরওয়ানির দাবি তোলে। পরে তিনি নিজ উদ্যোগে শেরওয়ানি, মুকুট ও জুতা কিনে এনে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেন।

তিনি আরও জানান, গেটের বকশিশ নিয়েও শুরুতে মতবিরোধ হলেও পরে ৭০০ টাকায় সমঝোতা হয়। কিন্তু কনের শারীরিক প্রতিবন্ধী দাদাকে ধাক্কা দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবার উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে যায়।

বগুড়া সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. সোলেইমান আলী জানান, গেটের বকশিশের টাকা নিয়ে প্রথমে কথাকাটাকাটি, পরে হাতাহাতি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি খারাপ হলে বর পক্ষ বিয়ে না করেই ফিরে যেতে চাইলে স্থানীয় কয়েকজন ও কনে পক্ষের সদস্যরা তাদের বাধা দেন। একপর্যায়ে বর পক্ষের কয়েকজনকে বিভিন্ন স্থানে আটকে রাখা হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের উদ্ধার করে।

তিনি আরও বলেন, আহতদের মধ্যে বর পক্ষের দুজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এছাড়া মোবাইল ফোন ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী হারানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

জনপ্রিয়

বগুড়ায় প্রেস কাউন্সিলের দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

বগুড়ায় বিয়ে বাড়িতে গেটের বকশিশ নিয়ে সংঘর্ষ, বর-কনে পক্ষের আহত ৩

০২:৫২:০৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬

সোনাতলা সংবাদ ডেস্কঃ বিয়ের আনন্দঘন পরিবেশ মুহূর্তেই রূপ নেয় উত্তেজনা ও সংঘর্ষে। বগুড়ার সদর উপজেলার শাখারিয়া ইউনিয়নের তিলেরপাড়া গ্রামে গেটের বকশিশের টাকা নিয়ে বর ও কনে পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন। এ সময় বর পক্ষের কয়েকজনকে আটকে রেখে মারধর এবং ১৫টি মোবাইল ফোন ও স্বর্ণালঙ্কারসহ মূল্যবান সামগ্রী ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। যদিও এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে কনে পক্ষ।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কামারদহ ফেলুরপাড়া এলাকার সাগর মিয়ার সঙ্গে তিলেরপাড়া গ্রামের সাথী আক্তারের বিয়ের আয়োজন করা হয়। নির্ধারিত সময়ে বরযাত্রী কনের বাড়িতে পৌঁছালে গেটের বকশিশের টাকা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কথাকাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতি ও সংঘর্ষে রূপ নেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে স্থানীয়রা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

বর পক্ষের দাবি, কনে পক্ষের লোকজন অতর্কিত হামলা চালিয়ে নারী-পুরুষসহ কয়েকজনকে মারধর করে। এ সময় প্রায় ১৫টি মোবাইল ফোন, একটি স্বর্ণের চেইনসহ বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী ছিনিয়ে নেওয়া হয়। আহতদের মধ্যে শাহ আলম ও বর সাগরকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া তাদের একজন স্বজনকে কিছু সময় খুঁজে পাওয়া যায়নি বলেও অভিযোগ করা হয়।

বরের চাচাতো বোন জাকিয়া আক্তার অভিযোগ করেন, কনে পক্ষের কয়েকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে নারীদের মারধর করে এবং কয়েকজনকে পাশের পাটক্ষেতে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। একই সঙ্গে মোবাইল ফোন ও স্বর্ণালঙ্কার ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।

বরের মামি মাহমুদা বেগম বলেন, গেটের বকশিশ হিসেবে প্রথমে ১ হাজার ৫০০ টাকা দাবি করা হলেও তারা ৫০০ টাকা দিতে চান। এ নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হলে তারা বিয়ে না করে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তখন তাদের পথরোধ করে মারধর করা হয় এবং ১০ লাখ টাকা দাবি করে হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

অন্যদিকে কনে পক্ষ এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, বর পক্ষই প্রথমে বাড়িতে হামলা চালিয়ে বিভিন্ন আসবাবপত্র ও সাজসজ্জার সামগ্রী ভাঙচুর করেছে। হামলা বা ছিনতাইয়ের সঙ্গে তারা জড়িত নন।

বিয়ের ঘটক শামসুল হক জানান, বিয়ের আগে পোশাক নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়েছিল। তবে বিয়ের দিন বর পক্ষ অতিরিক্তভাবে শেরওয়ানির দাবি তোলে। পরে তিনি নিজ উদ্যোগে শেরওয়ানি, মুকুট ও জুতা কিনে এনে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেন।

তিনি আরও জানান, গেটের বকশিশ নিয়েও শুরুতে মতবিরোধ হলেও পরে ৭০০ টাকায় সমঝোতা হয়। কিন্তু কনের শারীরিক প্রতিবন্ধী দাদাকে ধাক্কা দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবার উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে যায়।

বগুড়া সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. সোলেইমান আলী জানান, গেটের বকশিশের টাকা নিয়ে প্রথমে কথাকাটাকাটি, পরে হাতাহাতি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি খারাপ হলে বর পক্ষ বিয়ে না করেই ফিরে যেতে চাইলে স্থানীয় কয়েকজন ও কনে পক্ষের সদস্যরা তাদের বাধা দেন। একপর্যায়ে বর পক্ষের কয়েকজনকে বিভিন্ন স্থানে আটকে রাখা হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের উদ্ধার করে।

তিনি আরও বলেন, আহতদের মধ্যে বর পক্ষের দুজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এছাড়া মোবাইল ফোন ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী হারানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।