০৫:২৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কাহালুতে দুটি ট্রাকের মুখোমুখী সংঘর্ষে চালক ও হেলপারসহ ৪জন নিহত

  • Reporter Name
  • ০৩:১৮:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬
  • ৪৬

মুনসুর রহমান তানসেন, কাহালু থেকেঃ বগুড়া-নওগাঁ আঞ্চলিক মহাসড়ক এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। কোনোভাবেই কমছেনা সড়ক দুর্ঘটনা। এই সড়কের ভয়াবহ দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকা হচ্ছে কাহালু উপজেলার পোড়াপাড়া থেকে বারমাইল পর্যন্ত। এই এলাকার মধ্যে প্রতিনিয়ত ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ঝরছে অসংখ্য প্রাণ।
শনিবার (১ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে বগুড়া-নওগাঁ আঞ্চলিক মহাসড়কে কাহালু উপজেলার কাজিপাড়া বউবাজার এলাকায় দুটি ট্রাকের মুখোমুখী সংঘর্ষে আবারও ঘটনাস্থলেই চালক ও হেলপারসহ চারজন নিহত হয়েছেন।
দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় লোকজন, ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহত ব্যক্তিদের মরদেহ উদ্ধার করেন। মরদেহ উদ্ধারের পর তাদের পরিচয় জানতে কাহালু থানা পুলিশ বিভিন্ন থানায় যোগাযোগ করে নিহত তিনজনের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করেছেন। যাদের তথ্য পাওয়া গেছে তারা হলেন ময়মনসিংহ জেলার সদর উপজেলার রাঘবপুরের চিত্তরঞ্জনের পুত্র শুভ দেবনাথ, তৈয়ব আলীর পুত্র লুৎফর রহমান (৪০), হরিপুর উপজেলার পাচআশি গ্রামের নাছির (২৪)। অপর নিহত হরিপুর থানার ফেরদৌস এর পুত্র রিয়াদ (২৫) হিসাবে প্রাথমিক পরিচয় পাওয়া গেলেও তার সঠিক তথ্য জানতে পুলিশ কাজ করছেন।
এদিকে বগুড়া-নওগাঁ আঞ্চলিক মহাসড়কে অনিয়ন্ত্রিতভাবে যানবাহন চলাচল, মহাসড়কের পাশে অপরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, মিল কারখানার সামনে সড়কের অংশেই মালবাহী পরিবহন দাঁড় করে রাখার কারণে মূল সড়কে যানবাহন চলাচলে নানামুখী সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। চালকরা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার মুখে পড়ছে। বিশেষ করে গত কোরবানী ঈদের পর থেকে এই সড়কে দুর্ঘটনা অনেকটা বেড়ে গিয়েছে।
২৫ মে থেকে ২ জুন পর্যন্ত মাত্র ১০ দিনে কাহালু উপজেলার সীমানার মধ্যেই প্রাণ ঝরেছে প্রায় ১৬ জনের। ৩ জুন থেকে এ পর্যন্ত প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনায় অসংখ্য প্রাণ ঝরেছে। আহত হয়েছে অসংখ্য মানুষ। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে কার্যকর প্রদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বরাবরই স্থানীয় জনসাধারণ দাবী জানিয়ে আসলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। দূর্ঘটনাপ্রবণ এলাকা রাখা হয়নি কোনো ট্রাফিক পুলিশ।
বগুড়া জেলা (ট্রাফিক) পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আতোয়ার রহমান জানান, সড়কের দুর্ঘটনা রোধে প্রতমাসে মিটিং করাসহ যানবাহনের চালকদের পাশাপাশি সকলের সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ট্রাফিক পুলিশ আন্তরিকভাবে কাজ করছে। সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আমরা সচেষ্ট রয়েছি। কেউ সড়কে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

জনপ্রিয়

বগুড়ায় প্রেস কাউন্সিলের দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

কাহালুতে দুটি ট্রাকের মুখোমুখী সংঘর্ষে চালক ও হেলপারসহ ৪জন নিহত

০৩:১৮:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬

মুনসুর রহমান তানসেন, কাহালু থেকেঃ বগুড়া-নওগাঁ আঞ্চলিক মহাসড়ক এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। কোনোভাবেই কমছেনা সড়ক দুর্ঘটনা। এই সড়কের ভয়াবহ দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকা হচ্ছে কাহালু উপজেলার পোড়াপাড়া থেকে বারমাইল পর্যন্ত। এই এলাকার মধ্যে প্রতিনিয়ত ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ঝরছে অসংখ্য প্রাণ।
শনিবার (১ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে বগুড়া-নওগাঁ আঞ্চলিক মহাসড়কে কাহালু উপজেলার কাজিপাড়া বউবাজার এলাকায় দুটি ট্রাকের মুখোমুখী সংঘর্ষে আবারও ঘটনাস্থলেই চালক ও হেলপারসহ চারজন নিহত হয়েছেন।
দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় লোকজন, ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহত ব্যক্তিদের মরদেহ উদ্ধার করেন। মরদেহ উদ্ধারের পর তাদের পরিচয় জানতে কাহালু থানা পুলিশ বিভিন্ন থানায় যোগাযোগ করে নিহত তিনজনের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করেছেন। যাদের তথ্য পাওয়া গেছে তারা হলেন ময়মনসিংহ জেলার সদর উপজেলার রাঘবপুরের চিত্তরঞ্জনের পুত্র শুভ দেবনাথ, তৈয়ব আলীর পুত্র লুৎফর রহমান (৪০), হরিপুর উপজেলার পাচআশি গ্রামের নাছির (২৪)। অপর নিহত হরিপুর থানার ফেরদৌস এর পুত্র রিয়াদ (২৫) হিসাবে প্রাথমিক পরিচয় পাওয়া গেলেও তার সঠিক তথ্য জানতে পুলিশ কাজ করছেন।
এদিকে বগুড়া-নওগাঁ আঞ্চলিক মহাসড়কে অনিয়ন্ত্রিতভাবে যানবাহন চলাচল, মহাসড়কের পাশে অপরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, মিল কারখানার সামনে সড়কের অংশেই মালবাহী পরিবহন দাঁড় করে রাখার কারণে মূল সড়কে যানবাহন চলাচলে নানামুখী সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। চালকরা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার মুখে পড়ছে। বিশেষ করে গত কোরবানী ঈদের পর থেকে এই সড়কে দুর্ঘটনা অনেকটা বেড়ে গিয়েছে।
২৫ মে থেকে ২ জুন পর্যন্ত মাত্র ১০ দিনে কাহালু উপজেলার সীমানার মধ্যেই প্রাণ ঝরেছে প্রায় ১৬ জনের। ৩ জুন থেকে এ পর্যন্ত প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনায় অসংখ্য প্রাণ ঝরেছে। আহত হয়েছে অসংখ্য মানুষ। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে কার্যকর প্রদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বরাবরই স্থানীয় জনসাধারণ দাবী জানিয়ে আসলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। দূর্ঘটনাপ্রবণ এলাকা রাখা হয়নি কোনো ট্রাফিক পুলিশ।
বগুড়া জেলা (ট্রাফিক) পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আতোয়ার রহমান জানান, সড়কের দুর্ঘটনা রোধে প্রতমাসে মিটিং করাসহ যানবাহনের চালকদের পাশাপাশি সকলের সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ট্রাফিক পুলিশ আন্তরিকভাবে কাজ করছে। সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আমরা সচেষ্ট রয়েছি। কেউ সড়কে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।