সোনাতলা সংবাদ ডেস্কঃ বগুড়া সদরের ঠেঙ্গামারা ও মাটিডালা এলাকার সীমান্তবর্তী করতোয়া নদীর তীরবর্তী জঙ্গলঘেরা একটি গোপন আস্তানায় অভিযান চালিয়ে অস্ত্র, মাদক ও বিভিন্ন সরঞ্জামসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। অভিযানের সময় চক্রের আরও কয়েকজন সদস্য নদী সাঁতরে পালিয়ে যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ডিবি সূত্রে জানা যায়, করতোয়া নদীর তীরে একটি পেপার মিল ও টিএমএসএস কারখানার পেছনের নির্জন এলাকায় তাঁবু ও পলিথিন দিয়ে তৈরি অস্থায়ী আস্তানায় একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে—এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার রাত প্রায় ১০টার দিকে অভিযান চালানো হয়।
পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদের নির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে ডিবির ওসি মো. ইকবাল বাহারের নেতৃত্বে তিনটি দল আস্তানাটি ঘিরে ফেলে। অভিযানে চক্রের কথিত প্রধান রকি, তার সহযোগী রাকিবসহ মোট তিনজনকে আটক করা হয়। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে চক্রের আরও পাঁচ থেকে সাতজন সদস্য করতোয়া নদী সাঁতরে পালিয়ে যায় বলে দাবি করা হয়েছে।
অভিযানে ঘটনাস্থল থেকে একটি বিদেশি রিভলবার, তিনটি চায়নিজ কুড়াল, একটি ধারালো চাপাতি, কয়েকটি দেশীয় অস্ত্র, বিপুল পরিমাণ মাদক, মাদক বিক্রির নগদ অর্থ এবং ২৫ হাজার ভোল্ট ক্ষমতাসম্পন্ন একটি বৈদ্যুতিক শকার উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশের দাবি, অপহরণ করে আনা ব্যক্তিদের ওপর নির্যাতনের কাজে ওই বৈদ্যুতিক শকারটি ব্যবহার করা হতো।
ডিবির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর ইকবাল বাহার জানান, গ্রেপ্তার হওয়া রকি ও রাকিবের বিরুদ্ধে অস্ত্র, মাদক ও ফেনসিডিল-সংক্রান্ত একাধিক মামলা রয়েছে। তারা আগে গ্রেপ্তার হলেও জামিনে মুক্ত হয়ে নদীর তীরের দুর্গম এলাকায় নতুন আস্তানা গড়ে পুনরায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে বলে প্রাথমিক তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে।
তিনি আরও জানান, শনিবার রাত ১০টায় শুরু হওয়া অভিযান রাত সাড়ে ১২টার পর পর্যন্ত চলতে থাকে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
Reporter Name 


















