০৬:১৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বগুড়ায় বাড়ছে এইচআইভি সংক্রমণ: ১৯ মাসে শনাক্ত ৯৩, মৃত্যু ৮

  • Reporter Name
  • ০৩:৫৬:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫১

সোনাতলা সংবাদ ডেস্ক: বগুড়ায় উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে এইচআইভি সংক্রমণ। গত ১৯ মাসে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালের এইচআইভি টেস্টিং অ্যান্ড কাউন্সেলিং (এইচটিসি) সেন্টারে পরীক্ষা করা ২ হাজার ১৬৪ জনের মধ্যে ৯৩ জনের শরীরে এইচআইভি শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে আক্রান্তদের মধ্যে আটজনের মৃত্যু হয়েছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শনাক্ত হওয়া ৯৩ জনের মধ্যে ৮১ জন পুরুষ, ১০ জন নারী এবং দুজন তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তি। অর্থাৎ মোট আক্রান্তের প্রায় ৮৭ শতাংশই পুরুষ। আক্রান্তদের মধ্যে ৯২ জন বগুড়া জেলার বাসিন্দা এবং একজন অন্য জেলার।

বর্তমানে শজিমেক হাসপাতালের এইচটিসি সেন্টারে প্রতিদিন গড়ে ১০ থেকে ১৫ জন এইচআইভি পরীক্ষার জন্য আসছেন। এখানে বিনামূল্যে এইচআইভি পরীক্ষা, কাউন্সেলিং এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ করা হচ্ছে।

শজিমেক হাসপাতালের এইচটিসি সেন্টারের চিকিৎসক ডা. মো. সুলতান ইবনে সাঈদ জানান, অরক্ষিত ও ঝুঁকিপূর্ণ যৌন সম্পর্ক, সংক্রমিত রক্ত গ্রহণ এবং একই সুঁই বা সিরিঞ্জ একাধিক ব্যক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে এইচআইভি সংক্রমণের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে। তিনি বলেন, সচেতনতা বৃদ্ধি, প্রয়োজন অনুযায়ী নিয়মিত পরীক্ষা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চললে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

এইচটিসি সেন্টারের কাউন্সেলর আব্দুস সালাম বলেন, অনেকেই এইচআইভি শনাক্ত হওয়ার পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। তাই আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিয়মিত কাউন্সেলিং, মানসিক সহায়তা এবং ওষুধ সঠিকভাবে গ্রহণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সময়মতো চিকিৎসা শুরু করলে এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তিরাও দীর্ঘদিন সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন।

স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টরা বলছেন, এইচআইভি সম্পর্কে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, নিরাপদ আচরণ এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করার মাধ্যমে সংক্রমণের হার কমিয়ে আনা সম্ভব।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

জনপ্রিয়

বগুড়ায় প্রেস কাউন্সিলের দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

বগুড়ায় বাড়ছে এইচআইভি সংক্রমণ: ১৯ মাসে শনাক্ত ৯৩, মৃত্যু ৮

০৩:৫৬:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬

সোনাতলা সংবাদ ডেস্ক: বগুড়ায় উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে এইচআইভি সংক্রমণ। গত ১৯ মাসে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালের এইচআইভি টেস্টিং অ্যান্ড কাউন্সেলিং (এইচটিসি) সেন্টারে পরীক্ষা করা ২ হাজার ১৬৪ জনের মধ্যে ৯৩ জনের শরীরে এইচআইভি শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে আক্রান্তদের মধ্যে আটজনের মৃত্যু হয়েছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শনাক্ত হওয়া ৯৩ জনের মধ্যে ৮১ জন পুরুষ, ১০ জন নারী এবং দুজন তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তি। অর্থাৎ মোট আক্রান্তের প্রায় ৮৭ শতাংশই পুরুষ। আক্রান্তদের মধ্যে ৯২ জন বগুড়া জেলার বাসিন্দা এবং একজন অন্য জেলার।

বর্তমানে শজিমেক হাসপাতালের এইচটিসি সেন্টারে প্রতিদিন গড়ে ১০ থেকে ১৫ জন এইচআইভি পরীক্ষার জন্য আসছেন। এখানে বিনামূল্যে এইচআইভি পরীক্ষা, কাউন্সেলিং এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ করা হচ্ছে।

শজিমেক হাসপাতালের এইচটিসি সেন্টারের চিকিৎসক ডা. মো. সুলতান ইবনে সাঈদ জানান, অরক্ষিত ও ঝুঁকিপূর্ণ যৌন সম্পর্ক, সংক্রমিত রক্ত গ্রহণ এবং একই সুঁই বা সিরিঞ্জ একাধিক ব্যক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে এইচআইভি সংক্রমণের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে। তিনি বলেন, সচেতনতা বৃদ্ধি, প্রয়োজন অনুযায়ী নিয়মিত পরীক্ষা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চললে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

এইচটিসি সেন্টারের কাউন্সেলর আব্দুস সালাম বলেন, অনেকেই এইচআইভি শনাক্ত হওয়ার পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। তাই আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিয়মিত কাউন্সেলিং, মানসিক সহায়তা এবং ওষুধ সঠিকভাবে গ্রহণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সময়মতো চিকিৎসা শুরু করলে এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তিরাও দীর্ঘদিন সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন।

স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টরা বলছেন, এইচআইভি সম্পর্কে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, নিরাপদ আচরণ এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করার মাধ্যমে সংক্রমণের হার কমিয়ে আনা সম্ভব।