স্টাফ রিপোর্টার: বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার কাজলা ইউনিয়নের পাকুরিয়া চরে মোসলেম উদ্দিন প্রামানিক (৬২) নামে এক সাবেক সেনা সদস্যকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে ১৮ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ১২ জনসহ মোট ৩০ জনকে আসামি করে সারিয়াকান্দি থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলার পর পুলিশ ছয়জনকে গ্রেফতার করেছে।
এদিকে হত্যাকাণ্ডের জেরে বিক্ষুব্ধ জনতা আসামিপক্ষের বাড়িঘরে হামলা ও লুটপাট চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আসামিপক্ষের দাবি, হামলার সময় গৃহস্থালি মালামালের পাশাপাশি অর্ধশতাধিক গরুও নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, নিহত মোসলেম উদ্দিন প্রামানিক উপজেলার কাজলা ইউনিয়নের পাকুরিয়া চর গ্রামের মৃত আব্দুল মান্নান প্রামানিকের ছেলে। তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাবেক সদস্য ছিলেন। একই গ্রামের দুদু সরকারের ছেলে নান্টু সরকারের সঙ্গে জমি ও গো-চারণভূমি বিক্রিকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত সোমবার রাত প্রায় ৮টার দিকে পাকুরিয়া বাজারের নান্টুর মোড়ে একটি দোকানে চা পান শেষে বাড়ি ফেরার পথে নান্টু সরকারের নেতৃত্বে একদল ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার পথরোধ করে হামলা চালায়। হামলাকারীরা লোহার রড দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করলে তিনি গুরুতর আহত হন।
পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে সারিয়াকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
নিহতের ভাই ও কাজলা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য শাহজাহান আলী বলেন, “আমার ভাই একজন নিরীহ মানুষ ছিলেন। গো-চারণভূমি বিক্রি নিয়ে বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে তাকে একা পেয়ে হামলা চালিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।”
পুলিশ জানায়, নিহতের স্ত্রী সখিনা বেগম বাদী হয়ে দায়ের করা মামলায় ১৮ জনের নাম উল্লেখসহ মোট ৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে নান্টু সরকার (৫৬), হায়দার আলী খান (৭০), গিয়াস আলী খান (৭৫), সুজন মণ্ডল (৩২), মোখলেছুর রহমান (৫৫) এবং সোহেল সরকার (৩৫) নামে ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, আসামিপক্ষের কয়েকটি বাড়িতে ভাঙচুরের চিহ্ন রয়েছে। আসামিপক্ষের স্বজনরা অভিযোগ করেন, বিক্ষুব্ধ লোকজন বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে বিভিন্ন গৃহস্থালি মালামাল ও অর্ধশতাধিক গরু লুট করে নিয়ে গেছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
সারিয়াকান্দি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আ ফ ম আসাদুজ্জামান বলেন, “ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান চালায়। হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। নিহতের মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। মামলার বাকি আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক দল অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।”
পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ড ও পরবর্তী সহিংসতার ঘটনাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।
Reporter Name 


















