স্টাফ রিপোর্টার, সোনাতলা: ছোট্ট কোমলমতি শিক্ষার্থীদের হাসি-আনন্দ আর কোলাহলে মুখর থাকার কথা বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ। কিন্তু বর্ষা এলেই পাল্টে যায় সেই চিত্র। বছরের প্রায় দুই মাস,এমনকি একটু ভারী বৃষ্টিপাত হলেই জলাবদ্ধতায় ডুবে যায় বগুড়ার সোনাতলা উপজেলা ক্যাম্পাসে অবস্থিত সরকারি সবুজ সাথী প্রাথমিক বিদ্যালয়। ফলে পাঠদান ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বন্ধ হয়ে যায় শিক্ষার্থীদের খেলাধুলাও। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে ক্লাস করার আতঙ্ক।সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের মাঠ ও আশপাশের এলাকায় পানি জমে কাদাময় পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। জলাবদ্ধতার কারণে শিক্ষার্থীরা মাঠে খেলাধুলা করতে পারছে না। বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী নাবিলা ও ফাতেমা,পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী শহীদ হাসান ও ফজলে রাব্বী জানায়, বর্ষাকালে মাঠে খেলাধুলা করা সম্ভব হয় না। একই কথা জানায় পাশের উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রাকিব ও চয়ন।বিদ্যালয়টিতে শ্রেণিকক্ষের সংকট থাকায় চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির পাঠদান চলছে একটি জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে। দীর্ঘদিন ধরে কাদা-পানির মধ্যে চলাচল করায় অনেক শিক্ষার্থী চর্মরোগ ও চুলকানি সহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।জানাযায়,১৯৮৪ সালে নির্মিত ভবনটির বিভিন্ন স্থানে ফাটল ও জীর্ণতা দেখা দিয়েছে। যে কোনো সময় ভবনটি ধসে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে স্থানীয়দের আশঙ্কা।বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এটিএম আনিছুর রহমান বলেন,১৯৮৪ সালে নির্মিত ভবনটি বর্তমানে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। জীবনের ঝুঁকি নিয়েই আমরা পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছি। নতুন ভবন নির্মাণ এখন সময়ের দাবি।
এ বিষয়ে উপজেলা ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা কৃষ্ণা তরফদার বলেন,জলাবদ্ধতা নিরসনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইতোমধ্যে কিছু উদ্যোগ নিয়েছেন। তবে ভবনটির ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার বিষয়টি আমার জানা ছিল না। আপনার মাধ্যমে বিষয়টি জানলাম। খুব শিগগিরই নতুন ভবনের চাহিদাপত্র ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে,যাতে শিক্ষার্থীরা নিরাপদ পরিবেশে পাঠদান করতে পারে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রেজোয়ান হোসেন বলেন,বিদ্যালয়ে জলাবদ্ধতা ও জরাজীর্ণ ভবনে পাঠদানের বিষয়টি আমাকে আগে কেউ অবহিত করেনি। আমি দ্রুত বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেব। সরকারের অর্থের কোনো সংকট নেই। শিক্ষার্থীদের নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহল দ্রুত জলাবদ্ধতা নিরসন,ঝুঁকিপূর্ণ ভবন অপসারণ এবং নতুন একাডেমিক ভবন নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পরিবেশে শিক্ষা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি
Reporter Name 


















