সোনাতলা (বগুড়া) প্রতিনিধি: বগুড়ার সোনাতলা উপজেলায় শ্যালো মেশিন ও ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে আড়িয়ারঘাট সেতুর নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। প্রায় ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে দুই বছর আগে নির্মিত গুরুত্বপূর্ণ এই সেতুটির তলদেশ ও আশপাশ থেকে নিয়ম না মেনে বালু তোলায় সেতুর পাইলিং ও সংযোগস্থলের মাটি সরে যাচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি প্রভাবশালী বালু ব্যবসায়ী চক্র দীর্ঘদিন ধরে আড়িয়ারঘাট সেতুর কাছাকাছি নদীর তলদেশে শ্যালো মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করছে। দিন-রাত বালু তোলার ফলে নদীর তলদেশে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এতে সেতুর ভিত্তি দুর্বল হয়ে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
সংশ্লিষ্টরা জানান, সেতু ও নদীর তীরের নিরাপত্তার স্বার্থে নির্দিষ্ট দূরত্বের মধ্যে এবং সেতুর তলদেশ থেকে বালু বা মাটি উত্তোলনের সুযোগ নেই। কিন্তু সেই বিধিনিষেধ উপেক্ষা করেই আড়িয়ারঘাট এলাকায় বালু উত্তোলন চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
বালু উত্তোলনের প্রভাবে সেতুর পাশাপাশি নদীর তীরবর্তী ফসলি জমি ও বসতবাড়িও ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে। স্থানীয়দের দাবি, অপরিকল্পিতভাবে নদীর তলদেশ থেকে বালু সরিয়ে নেওয়ায় নদীর স্বাভাবিক গতিপথেও পরিবর্তন হচ্ছে। চলতি বর্ষা মৌসুমে এর প্রভাব আরও প্রকট হয়েছে বলে জানান তারা।
আড়িয়ারঘাট সেতুটি সোনাতলা, সাঘাটা ও সারিয়াকান্দি উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মানুষের যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় ২৭টি ইউনিয়নের কয়েক লাখ মানুষ এই সেতু দিয়ে নিয়মিত চলাচল করেন। প্রতিদিন শিক্ষার্থী, পথচারী এবং বিভিন্ন ধরনের যানবাহন সেতুটি ব্যবহার করে।
অবৈধ বালু উত্তোলনের প্রতিবাদ করতে গিয়ে বালু ব্যবসায়ী চক্রের হুমকি ও ভয়ভীতির শিকার হওয়ার অভিযোগও করেছেন কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা। তাদের আশঙ্কা, সেতুটি ক্ষতিগ্রস্ত বা ধসে পড়লে দুই পাড়ের যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।
স্থানীয় মধুপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল আলিম বলেন, “সেতুটির নিরাপত্তার স্বার্থে দ্রুত অবৈধ শ্যালো ড্রেজার ও বালু উত্তোলনের সরঞ্জাম জব্দ করা দরকার। একই সঙ্গে এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।”
এদিকে মহিচরণ-কুচিয়ামারি সড়কের কাছাকাছি তেলিহাটা এলাকায় একটি পুকুর থেকেও শ্যালো মেশিনের মাধ্যমে বালু উত্তোলনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, এভাবে বালু সরিয়ে নেওয়া অব্যাহত থাকলে আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা দেবে গিয়ে স্থাপনা ও সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
সোনাতলা থানার অফিসার ইনচার্জ কবীর হোসেন বলেন, “শুধু আড়িয়ারঘাট নয়, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ভূ-গর্ভস্থ ও নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ আমাদের কাছে এসেছে। বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।”
সোনাতলা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জুয়েল মিয়া জানান, অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। কয়েক দিনে জোড়গাছা ইউনিয়নের উত্তর বয়ড়া সরজনপাড়া ইলশামারি ঘাটে অভিযান চালিয়ে প্রায় ১০ লাখ টাকা মূল্যের বালু উত্তোলনের সরঞ্জাম জব্দ করে ধ্বংস করা হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, আড়িয়ারঘাট সেতুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত সেতুর আশপাশ থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ, ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি জব্দ এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
Reporter Name 


















