সোনাতলা (বগুড়া) প্রতিনিধি: বগুড়ার সোনাতলায় চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। উপজেলার অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই পাসের হার আশানুরূপ হয়নি। এতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে। উপজেলার মাধ্যমিক পর্যায়ের প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে মাত্র একটি বিদ্যালয় শতভাগ পাসের সাফল্য অর্জন করেছে।
প্রাপ্ত ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, সোনাতলা সদরের সোনাতলা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৮ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে সবাই উত্তীর্ণ হয়েছে। শতভাগ পাসের পাশাপাশি এটিই উপজেলার একমাত্র প্রতিষ্ঠান হিসেবে শতভাগ সাফল্যের তালিকায় রয়েছে।
সুখানপুকুর উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৫৯ জন পাস করেছে। এ প্রতিষ্ঠানের ১৫ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। ইউনাইটেড স্কুল অ্যান্ড কলেজে ১৭৩ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ১৫৩ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২১ জন। ফলাফলের দিক থেকে প্রতিষ্ঠানটি উপজেলার মধ্যে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে।
সরকারি সোনাতলা মডেল উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে ১৫২ জনের মধ্যে ১৩১ জন পাস করেছে এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ২১ জন। হরিখালী উচ্চ বিদ্যালয়ে ১০৩ জনের মধ্যে ৯৭ জন উত্তীর্ণ হয়েছে; জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৯ জন।
অন্যদিকে বালুয়াহাট উচ্চ বিদ্যালয়ে ১৫৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১২৪ জন পাস করেছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪ জন। মহিচরণ উচ্চ বিদ্যালয়ে ৫৮ জনের মধ্যে ৪৬ জন, শিচারপাড়া বুলজান উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬৬ জনের মধ্যে ৪৯ জন এবং তেকানিচুকাইনগর এ. এম. উচ্চ বিদ্যালয়ে ৭১ জনের মধ্যে ৪৭ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। শিচারপাড়া ও তেকানিচুকাইনগর এ. এম. উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে যথাক্রমে ২ ও ২ জন।
কর্পূর উচ্চ বিদ্যালয়ে ১৬৪ জনের মধ্যে ১২৯ জন পাস করেছে এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪ জন। পাকুল্লা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে ১৩১ জনের মধ্যে ১০৭ জন উত্তীর্ণ হয়েছে; জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪ জন।
সোনাতলা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ২৩৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২০৩ জন পাস করেছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২০ জন। এনায়েত আলী উচ্চ বিদ্যালয়ে ৮৮ জনের মধ্যে ৪৬ জন পাস করেছে এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪ জন। বয়ড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে ১৪২ জনের মধ্যে মাত্র ৭১ জন উত্তীর্ণ হয়েছে; জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ জন।
এছাড়া শালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ১১৯ জনের মধ্যে ৮৬ জন পাস করেছে এবং ১৪ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। সুখানপুকুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৯২ জনের মধ্যে ৮২ জন পাস করেছে; জিপিএ-৫ পেয়েছে ৮ জন। লুৎফর রহমান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৪২ জনের মধ্যে ৩৬ জন এবং ভিকনেরপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে ৯৯ জনের মধ্যে ৭০ জন উত্তীর্ণ হয়েছে।
সবুজ সাথী উচ্চ বিদ্যালয়ে ৮৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ৪৩ জন পাস করেছে। বালুয়াহাট রাবেয়া রহমান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ১৮ জনের মধ্যে ১৬ জন উত্তীর্ণ হয়েছে এবং ২ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। আব্দুল মান্নান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে ৩৯ জনের মধ্যে ৩৬ জন পাস করেছে; জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯ জন।
কারিগরি শিক্ষাতেও হতাশাজনক ফল
বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর ফলাফলও খুব একটা সন্তোষজনক নয়। সুখানপুকুর উচ্চ বিদ্যালয়ে ১০২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ৩৪ জন পাস করেছে। হরিখালী উচ্চ বিদ্যালয়ে ৮০ জনের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ২৮ জন।
তবে বয়ড়া কারিগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজে তুলনামূলক ভালো ফল হয়েছে। সেখানে ১৫৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১২২ জন উত্তীর্ণ হয়েছে এবং ১২ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে।
এছাড়া বয়ড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের কারিগরি শাখায় ১২ জনের মধ্যে মাত্র ২ জন, এনায়েত আলী উচ্চ বিদ্যালয়ে ১৮ জনের মধ্যে ১৫ জন এবং হরিখালী টেকনিক্যাল স্কুলে ৩৯ জনের মধ্যে ১৪ জন পাস করেছে।
দাখিলেও ফল আশানুরূপ নয়
বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত দাখিল পরীক্ষাতেও সোনাতলায় হতাশাজনক ফলাফল দেখা গেছে। তেকানী চুকাইনগর পিএম দাখিল মাদ্রাসা থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১২ জন শিক্ষার্থীর কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেনি।
পাকুল্যা রাহমানিয়া মাদ্রাসায় ৩৪ জনের মধ্যে ১৪ জন, জাহানাবাদ আলিম মাদ্রাসায় ২৯ জনের মধ্যে ৯ জন এবং সোনাতলা ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসায় ৭৩ জনের মধ্যে ৫৯ জন পাস করেছে। সোনাতলা ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসা থেকে একজন জিপিএ-৫ পেয়েছে।
মধ্য দিঘলকান্দি আব্দুল বাছেদ মাদ্রাসায় ৩০ জনের মধ্যে ২৩ জন পাস করেছে এবং একজন জিপিএ-৫ পেয়েছে। ফুলবাড়িয়া এইচএমভি মাদ্রাসায় ২৭ জনের মধ্যে ১৬ জন উত্তীর্ণ হয়েছে।
সৈয়দ আহম্মদ আলিম মাদ্রাসায় ৩২ জনের মধ্যে ২২ জন পাস করেছে এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ জন। ফজিলা শরিফ বালিকা মাদ্রাসায় ১০ জনের মধ্যে ৭ জন এবং বয়ড়া দাখিল মাদ্রাসায় ২৯ জনের মধ্যে ১৯ জন পাস করেছে। বয়ড়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে একজন জিপিএ-৫ পেয়েছে।
ফলাফল প্রকাশের পর উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ফলাফল পর্যালোচনা করে কোন কোন বিষয়ে শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে পড়ছে তা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
Reporter Name 


















