০৭:০৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সোনাতলায় দারিদ্র্যকে জয় করে দাখিলে ১২৭০, ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন মেহেদীর

  • Reporter Name
  • ০৫:২৪:৪৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬
  • ৪২৯

স্টাফ রিপোর্টার: দারিদ্র্য যেন বারবার পথ আটকে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু থেমে যায়নি স্বপ্ন। অভাব-অনটনের মধ্যেও অধ্যবসায়, মেধা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে ২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষায় ১২৭০ নম্বর অর্জন করেছে বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার কামারপাড়া গ্রামের মেধাবী শিক্ষার্থী মো. মেহেদী হাসান।

মেহেদী হাসান ডাকুমারা আল-বুশরা ইসলামিয়া মাদ্রাসা থেকে পড়ালেখা করেছে। তার রেজিস্ট্রেশনকৃত প্রতিষ্ঠান আলহাজ আলী ফাজিল মাদ্রাসা। দাখিল পরীক্ষায় এমন ফলাফল অর্জনের পর তার দাবি, এটি সোনাতলা উপজেলায় মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে সর্বোচ্চ নম্বর হিসেবে বিবেচিত হবে—এমনটাই তার প্রত্যাশা।

মেহেদীর পরিবারের আর্থিক অবস্থা স্বচ্ছল নয়। তার বাবা স্থানীয় একটি ক্ষুদ্র কাঁচাবাজারের ব্যবসা করেন। মা একজন গৃহিণী। সীমিত আয়ের এই পরিবারে বেড়ে ওঠা মেহেদীর লেখাপড়ার পথও ছিল নানা প্রতিকূলতায় ভরা। তবে অভাব তার স্বপ্নকে দমিয়ে রাখতে পারেনি।

মেহেদীর স্বপ্ন, বড় হয়ে একজন চিকিৎসক হওয়া। মানুষের সেবা করার এই স্বপ্ন বাস্তবায়নে দারিদ্র্য যেন সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবুও এখন পর্যন্ত আল্লাহর রহমতে ও পরিবারের সহযোগিতায় সে এগিয়ে যেতে পেরেছে।

মেহেদী হাসান বলেন, “বড় হয়ে একজন ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন দেখি। এই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে দারিদ্র্য আমাকে বারবার প্রতিহত করতে চেয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত মহান আল্লাহ আমাকে যথেষ্ট সহযোগিতা করেছেন। জানি না ভবিষ্যতে আমার স্বপ্ন কতটা বাস্তবায়িত হবে। তবে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমার স্বপ্ন পূরণে সহযোগিতা করবেন—ইনশাআল্লাহ।”

দাখিলে অসাধারণ ফলাফল অর্জনের পরও মেহেদীর সামনে এখন নতুন চ্যালেঞ্জ। উচ্চশিক্ষার ব্যয়, প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ ও অন্যান্য খরচ কীভাবে বহন করবে—তা নিয়ে পরিবারের মধ্যে রয়েছে দুশ্চিন্তা। তবে মেহেদীর বিশ্বাস, মেধা ও পরিশ্রমের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান ও সহৃদয় মানুষগুলো তার পাশে দাঁড়ালে তার ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিতে পারে।

মেহেদীর এই সাফল্য শুধু তার পরিবারের জন্য নয়, পুরো সোনাতলার জন্যও গর্বের বিষয়। প্রতিকূলতার মধ্যেও তার এই অর্জন প্রমাণ করে—সুযোগ ও সহযোগিতা পেলে মেধাবী শিক্ষার্থীরা নিজেদের পাশাপাশি সমাজ ও দেশের জন্যও বড় অবদান রাখতে পারে।

এখন মেহেদীর একটাই প্রত্যাশা—তার স্বপ্নের পথে যেন দারিদ্র্য আর বাধা হয়ে না দাঁড়ায়। সে পড়ালেখা চালিয়ে গিয়ে একদিন চিকিৎসক হয়ে মানুষের সেবা করতে চায়।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

জনপ্রিয়

বগুড়ায় প্রেস কাউন্সিলের দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

সোনাতলায় দারিদ্র্যকে জয় করে দাখিলে ১২৭০, ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন মেহেদীর

০৫:২৪:৪৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার: দারিদ্র্য যেন বারবার পথ আটকে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু থেমে যায়নি স্বপ্ন। অভাব-অনটনের মধ্যেও অধ্যবসায়, মেধা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে ২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষায় ১২৭০ নম্বর অর্জন করেছে বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার কামারপাড়া গ্রামের মেধাবী শিক্ষার্থী মো. মেহেদী হাসান।

মেহেদী হাসান ডাকুমারা আল-বুশরা ইসলামিয়া মাদ্রাসা থেকে পড়ালেখা করেছে। তার রেজিস্ট্রেশনকৃত প্রতিষ্ঠান আলহাজ আলী ফাজিল মাদ্রাসা। দাখিল পরীক্ষায় এমন ফলাফল অর্জনের পর তার দাবি, এটি সোনাতলা উপজেলায় মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে সর্বোচ্চ নম্বর হিসেবে বিবেচিত হবে—এমনটাই তার প্রত্যাশা।

মেহেদীর পরিবারের আর্থিক অবস্থা স্বচ্ছল নয়। তার বাবা স্থানীয় একটি ক্ষুদ্র কাঁচাবাজারের ব্যবসা করেন। মা একজন গৃহিণী। সীমিত আয়ের এই পরিবারে বেড়ে ওঠা মেহেদীর লেখাপড়ার পথও ছিল নানা প্রতিকূলতায় ভরা। তবে অভাব তার স্বপ্নকে দমিয়ে রাখতে পারেনি।

মেহেদীর স্বপ্ন, বড় হয়ে একজন চিকিৎসক হওয়া। মানুষের সেবা করার এই স্বপ্ন বাস্তবায়নে দারিদ্র্য যেন সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবুও এখন পর্যন্ত আল্লাহর রহমতে ও পরিবারের সহযোগিতায় সে এগিয়ে যেতে পেরেছে।

মেহেদী হাসান বলেন, “বড় হয়ে একজন ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন দেখি। এই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে দারিদ্র্য আমাকে বারবার প্রতিহত করতে চেয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত মহান আল্লাহ আমাকে যথেষ্ট সহযোগিতা করেছেন। জানি না ভবিষ্যতে আমার স্বপ্ন কতটা বাস্তবায়িত হবে। তবে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমার স্বপ্ন পূরণে সহযোগিতা করবেন—ইনশাআল্লাহ।”

দাখিলে অসাধারণ ফলাফল অর্জনের পরও মেহেদীর সামনে এখন নতুন চ্যালেঞ্জ। উচ্চশিক্ষার ব্যয়, প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ ও অন্যান্য খরচ কীভাবে বহন করবে—তা নিয়ে পরিবারের মধ্যে রয়েছে দুশ্চিন্তা। তবে মেহেদীর বিশ্বাস, মেধা ও পরিশ্রমের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান ও সহৃদয় মানুষগুলো তার পাশে দাঁড়ালে তার ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিতে পারে।

মেহেদীর এই সাফল্য শুধু তার পরিবারের জন্য নয়, পুরো সোনাতলার জন্যও গর্বের বিষয়। প্রতিকূলতার মধ্যেও তার এই অর্জন প্রমাণ করে—সুযোগ ও সহযোগিতা পেলে মেধাবী শিক্ষার্থীরা নিজেদের পাশাপাশি সমাজ ও দেশের জন্যও বড় অবদান রাখতে পারে।

এখন মেহেদীর একটাই প্রত্যাশা—তার স্বপ্নের পথে যেন দারিদ্র্য আর বাধা হয়ে না দাঁড়ায়। সে পড়ালেখা চালিয়ে গিয়ে একদিন চিকিৎসক হয়ে মানুষের সেবা করতে চায়।