০৩:৫৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বগুড়ায় গাছ কেটে পাখির বাসা নষ্ট করায় মামলা দায়ের

  • Reporter Name
  • ০৩:০০:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬
  • ১৩৩

সোনাতলা সংবাদ ডেস্কঃ বগুড়ার শেরপুরে গাছ কেটে পরিযায়ী শামুকখোলসহ বিভিন্ন পাখির বাসা, ডিম ও ছানা নষ্ট করার অভিযোগে থানায় মামলা করেছে বন বিভাগ।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাতে বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা সালাহ উদ্দিন পারভেজ বাদী হয়ে শেরপুর থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় উপজেলার গাড়িদহ ইউনিয়নের রামনগর গ্রামের আজাহার আলী নামের এক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।

মামলাটি তদন্ত করছেন শেরপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, গাছ বিক্রি করে পাখির বাচ্চা ও ডিম নষ্ট করার ঘটনায় বন্য প্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) ২০২৬-এর আইন ৪১-এর (৪) ধারায় মামলা করা হয়েছে। এ ধারায় কোনো ব্যক্তি দোষী প্রমাণিত হলে তার সর্বোচ্চ দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড কিংবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন।

শেরপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জয়নুল আবেদীন বলেন, বিভিন্ন পাখির বাসা, ডিম ও ছানা নষ্টের ঘটনায় বন বিভাগের অভিযোগ মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।

বন বিভাগ ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার আজাহার আলী তার জমিতে থাকা জলপাই, পিতরাজসহ বিভিন্ন প্রজাতির সাতটি গাছ কাঠ ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করেন। পরে গাছগুলো কেটে নিয়ে যাওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, গাছ কাটার সময় সেখানে থাকা পরিযায়ী শামুকখোলসহ বিভিন্ন পাখির বাসা ভেঙে যায়। এতে পাখির ছানা মারা যায়, নষ্ট হয় ডিম। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি বন বিভাগের নজরে আসে।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন বগুড়ার বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মতলুবুর রহমান। পরিদর্শন শেষে তিনি বলেন, রামনগর গ্রামের অনেক গাছেই পাখির বাসা রয়েছে। এটি একটি ‘পাখি কলোনি’ গ্রাম। শামুকখোল পাখির বাসা থাকা গাছ কাটার বিষয়টি তিনি দেখেছেন।

বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা সালাহ উদ্দিন পারভেজ জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তার নির্দেশে মামলা করা হয়েছে।

রামনগর গ্রামের এই গাছগুলো দীর্ঘদিন ধরে পাখিদের আবাসস্থল হিসেবে পরিচিত। ২০১৪ সাল থেকে গ্রামটি স্থানীয়ভাবে ‘পাখি কলোনি’ নামে পরিচিত।

উপজেলার পরিবেশবাদী সংগঠনের তথ্য অনুযায়ী, গ্রামের প্রায় ৫০০ গাছে পাখির বাসা রয়েছে। এসব গাছে দেড় থেকে দুই হাজার পাখির আবাস। শামুকখোল ছাড়াও অন্তত ১৫-২০ প্রজাতির পাখি এখানে বসবাস করে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

জনপ্রিয়

বগুড়ায় প্রেস কাউন্সিলের দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

বগুড়ায় গাছ কেটে পাখির বাসা নষ্ট করায় মামলা দায়ের

০৩:০০:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬

সোনাতলা সংবাদ ডেস্কঃ বগুড়ার শেরপুরে গাছ কেটে পরিযায়ী শামুকখোলসহ বিভিন্ন পাখির বাসা, ডিম ও ছানা নষ্ট করার অভিযোগে থানায় মামলা করেছে বন বিভাগ।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাতে বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা সালাহ উদ্দিন পারভেজ বাদী হয়ে শেরপুর থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় উপজেলার গাড়িদহ ইউনিয়নের রামনগর গ্রামের আজাহার আলী নামের এক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।

মামলাটি তদন্ত করছেন শেরপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, গাছ বিক্রি করে পাখির বাচ্চা ও ডিম নষ্ট করার ঘটনায় বন্য প্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) ২০২৬-এর আইন ৪১-এর (৪) ধারায় মামলা করা হয়েছে। এ ধারায় কোনো ব্যক্তি দোষী প্রমাণিত হলে তার সর্বোচ্চ দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড কিংবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন।

শেরপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জয়নুল আবেদীন বলেন, বিভিন্ন পাখির বাসা, ডিম ও ছানা নষ্টের ঘটনায় বন বিভাগের অভিযোগ মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।

বন বিভাগ ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার আজাহার আলী তার জমিতে থাকা জলপাই, পিতরাজসহ বিভিন্ন প্রজাতির সাতটি গাছ কাঠ ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করেন। পরে গাছগুলো কেটে নিয়ে যাওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, গাছ কাটার সময় সেখানে থাকা পরিযায়ী শামুকখোলসহ বিভিন্ন পাখির বাসা ভেঙে যায়। এতে পাখির ছানা মারা যায়, নষ্ট হয় ডিম। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি বন বিভাগের নজরে আসে।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন বগুড়ার বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মতলুবুর রহমান। পরিদর্শন শেষে তিনি বলেন, রামনগর গ্রামের অনেক গাছেই পাখির বাসা রয়েছে। এটি একটি ‘পাখি কলোনি’ গ্রাম। শামুকখোল পাখির বাসা থাকা গাছ কাটার বিষয়টি তিনি দেখেছেন।

বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা সালাহ উদ্দিন পারভেজ জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তার নির্দেশে মামলা করা হয়েছে।

রামনগর গ্রামের এই গাছগুলো দীর্ঘদিন ধরে পাখিদের আবাসস্থল হিসেবে পরিচিত। ২০১৪ সাল থেকে গ্রামটি স্থানীয়ভাবে ‘পাখি কলোনি’ নামে পরিচিত।

উপজেলার পরিবেশবাদী সংগঠনের তথ্য অনুযায়ী, গ্রামের প্রায় ৫০০ গাছে পাখির বাসা রয়েছে। এসব গাছে দেড় থেকে দুই হাজার পাখির আবাস। শামুকখোল ছাড়াও অন্তত ১৫-২০ প্রজাতির পাখি এখানে বসবাস করে।