স্টাফ রিপোর্টার, সোনাতলাঃ বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার পাকুল্লা ইউনিয়নের হুয়াকুয়া গ্রামে প্রাকৃতিক দুর্যোগে উপড়ে পড়া বিশাল আকৃতির একটি পাইকর গাছ নিয়ে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। ঝড়ে গাছটি উপড়ে তিনটি পরিবারের বসতঘরের ওপর পড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হলেও পরবর্তীতে গাছটি বিক্রি করা হলেও সেই অর্থ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো পেয়েছে কি না—এ নিয়ে উঠেছে অভিযোগ।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো হলো—হুয়াকুয়া গ্রামের ফরিদ মেকারের ছেলে ছানারুল ইসলাম, নকিবর রহমানের ছেলে আইনাল আকন্দ এবং মৃত হবিবর রহমানের ছেলে ফুলমিয়া সরকার। তাদের মধ্যে ফুলমিয়া সরকারের বসতঘর পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়েছে। অপরদিকে আইনাল আকন্দ ও ছানারুল ইসলামের বসতঘরের প্রায় অর্ধেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দাবি, গাছটি পড়ে তাদের প্রায় ১২ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে ফুলমিয়া সরকারের ক্ষতির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। ঘটনার পর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সহযোগিতা করা হয়েছিল বলেও তারা জানান।
তবে পরবর্তীতে বিশাল আকৃতির ওই পাইকর গাছটি বিক্রি করা হয়। অভিযোগ উঠেছে, পাকুল্লা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এ কে এম লতিফুল বারী টিম গাছটি বিক্রি করেছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পরে গাছটি ইউপি সদস্য মাছুদ মিয়া কিনে নেন।
এ বিষয়ে ইউপি সদস্য মাছুদ মিয়ার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমি চেয়ারম্যানের কাছ থেকে ৪০ হাজার টাকা দিয়ে গাছটি কিনেছি। পরে গাছটি কেটে-ছেঁটে অন্যত্র বিক্রি করেছি।”
সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল লতিফ মিয়া বলেন, “উপস্থিত লোকজনের সামনে ৪০ হাজার টাকায় গাছটি বিক্রি করা হয়েছিল। ওই টাকা চার ভাগ করার কথা ছিল। এক ভাগ মাদ্রাসা, এক ভাগ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার, এক ভাগ জমির মালিক এবং আরেক ভাগ অন্যভাবে দেওয়ার কথা ছিল।”
তবে ওই অর্থের একটি অংশ ‘অন্যভাবে’ কাকে বা কীভাবে দেওয়ার কথা ছিল—এমন প্রশ্নের জবাবে আব্দুল লতিফ মিয়া বলেন, এ বিষয়ে চেয়ারম্যানকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বিষয়টি বলতে পারবেন।
হুয়াকুয়া ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য তাহেরুল ইসলাম বলেন, “শুনেছি গাছটি মাছুদ মিয়া কিনেছেন। তবে এসবের মধ্যে আমি নেই।”
এদিকে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, গাছটি ৪০ হাজার নয়, প্রায় ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। তাদের অভিযোগ, গাছ বিক্রির অর্থের সঠিক হিসাব ও বণ্টন নিয়ে স্বচ্ছতা নেই।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর অভিযোগ, তাদের বসতঘরের ওপর পড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করা গাছটি বিক্রি হলেও তারা বিক্রির টাকা থেকে কোনো অর্থ পাননি। ফলে গাছটি কীভাবে বিক্রি হয়েছে, কত টাকায় বিক্রি হয়েছে এবং সেই অর্থ কোথায় গেছে—এসব বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে পাকুল্লা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এ কে এম লতিফুল বারী টিমের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
বিষয়টি নিয়ে সোনাতলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা স্বীকৃতি প্রামাণিকের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, “কেন গাছ বিক্রি করবে? সম্ভব হলে আপনি চেয়ারম্যান সাহেবের সঙ্গে কথা বলেন।”
স্থানীয়দের প্রশ্ন, যে গাছটি পড়ে তিনটি পরিবারের বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেই গাছ বিক্রির অর্থ প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে বণ্টন করা হয়েছে কি না। হয়ে থাকলে কত টাকা দেওয়া হয়েছে—এ বিষয়ে স্বচ্ছ হিসাব প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয়দের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দাবি, গাছ বিক্রির অর্থের প্রকৃত হিসাব এবং বণ্টনের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
০৭:৪৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ:-
সোনাতলায় বসতঘরের ওপর পাইকর গাছ পড়ে ক্ষতি ১২ লাখ টাকা, গাছ বিক্রির অর্থ নিয়ে প্রশ্ন
-
Reporter Name - ০৪:০৩:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬
- ৪৬৯
Tag :
জনপ্রিয়



















