০৯:১০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সোনাতলায় জলাবদ্ধতায় ৩০০ একর জমি অনাবাদি, বিপাকে শত শত কৃষক

  • Reporter Name
  • ০৩:৫৬:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬
  • ১৬৩

স্টাফ রিপোর্টার: বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার কারণে প্রায় ৩০০ একর কৃষিজমি বছরের পর বছর অনাবাদি পড়ে রয়েছে। পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় এবং খাল-নালার পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় এসব জমিতে সময়মতো ফসল ফলাতে পারছেন না কৃষকরা। এতে কৃষিজীবী পরিবারগুলোতে দেখা দিয়েছে আর্থিক সংকট ও হতাশা।

স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার মহিষাবাড়ি, বালুয়াহাট, হাড়িয়াকান্দি, নিমেরপাড়া, মধ্য দিঘলকান্দী, ঠাকুরপাড়া, শিচারপাড়া, মহিচরণ, লোহাগাড়া, পাঠানপাড়া, বারঘরিয়া, সুজাইতপুর, রশিদপুর, পাতিলাকুড়া, ধর্মকূল, উত্তর চরপাড়া, সোনাকানিয়া ও জোড়গাছাসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা দীর্ঘস্থায়ী রূপ নিয়েছে।

একসময় এসব জমিতে আমন ও বোরো ধানসহ বিভিন্ন ধরনের রবিশস্য ও সবজির ভালো ফলন হতো। কৃষকদের অভিযোগ, এখন সামান্য বৃষ্টিতেই নিচু এলাকাগুলোতে পানি জমে যায়। পর্যাপ্ত নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় সেই পানি মাসের পর মাস আটকে থাকে। ফলে অনেক জমিতে চাষাবাদ করা সম্ভব হচ্ছে না।

কৃষকদের ভাষ্য, অপরিকল্পিতভাবে বাড়িঘর ও কালভার্ট নির্মাণ, খাল-নালায় পলি জমে ভরাট হয়ে যাওয়া এবং পানি প্রবাহের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।

সোনাকানিয়া গ্রামের আলহাজ হাফিজার রহমান, ঠাকুরপাড়া গ্রামের আলহাজ তোজাম্মেল হক ও চরপাড়া গ্রামের তাহা ফকির বলেন, ‘পানির কারণে জমি প্রস্তুত করাই সম্ভব হচ্ছে না। চারা রোপণ তো দূরের কথা, অনেক জমিতে এখনও কচুরিপানা ও পানি জমে রয়েছে।’

কৃষকরা জানান, সাধারণত এ সময়ে আমন ধানের চারা রোপণের কাজ শেষ হয়ে যায়। কিন্তু জলাবদ্ধতার কারণে অনেক জমিতে এখনও চাষাবাদ শুরু করা যায়নি। এভাবে বছরের পর বছর আবাদি জমি অনাবাদি পড়ে থাকলে কৃষকদের পাশাপাশি স্থানীয় খাদ্য উৎপাদনেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সোহরাব হোসেন বলেন, সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে দ্রুত ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং ভরাট হয়ে যাওয়া খালগুলো পুনঃখনন করা প্রয়োজন। সরকারি উদ্যোগে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা স্বাভাবিক করা গেলে প্রায় ৩০০ একর জমিতে পুনরায় চাষাবাদ সম্ভব হবে। এতে কৃষকের আয় বাড়ার পাশাপাশি এলাকার খাদ্য নিরাপত্তায়ও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

স্থানীয় কৃষকদের দাবি, কৃষিজমি রক্ষায় দ্রুত জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হোক। একই সঙ্গে খাল-নালা পুনঃখনন ও পানি প্রবাহের প্রতিবন্ধকতা দূর করা হোক।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

জনপ্রিয়

বগুড়ায় প্রেস কাউন্সিলের দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

সোনাতলায় জলাবদ্ধতায় ৩০০ একর জমি অনাবাদি, বিপাকে শত শত কৃষক

০৩:৫৬:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার: বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার কারণে প্রায় ৩০০ একর কৃষিজমি বছরের পর বছর অনাবাদি পড়ে রয়েছে। পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় এবং খাল-নালার পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় এসব জমিতে সময়মতো ফসল ফলাতে পারছেন না কৃষকরা। এতে কৃষিজীবী পরিবারগুলোতে দেখা দিয়েছে আর্থিক সংকট ও হতাশা।

স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার মহিষাবাড়ি, বালুয়াহাট, হাড়িয়াকান্দি, নিমেরপাড়া, মধ্য দিঘলকান্দী, ঠাকুরপাড়া, শিচারপাড়া, মহিচরণ, লোহাগাড়া, পাঠানপাড়া, বারঘরিয়া, সুজাইতপুর, রশিদপুর, পাতিলাকুড়া, ধর্মকূল, উত্তর চরপাড়া, সোনাকানিয়া ও জোড়গাছাসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা দীর্ঘস্থায়ী রূপ নিয়েছে।

একসময় এসব জমিতে আমন ও বোরো ধানসহ বিভিন্ন ধরনের রবিশস্য ও সবজির ভালো ফলন হতো। কৃষকদের অভিযোগ, এখন সামান্য বৃষ্টিতেই নিচু এলাকাগুলোতে পানি জমে যায়। পর্যাপ্ত নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় সেই পানি মাসের পর মাস আটকে থাকে। ফলে অনেক জমিতে চাষাবাদ করা সম্ভব হচ্ছে না।

কৃষকদের ভাষ্য, অপরিকল্পিতভাবে বাড়িঘর ও কালভার্ট নির্মাণ, খাল-নালায় পলি জমে ভরাট হয়ে যাওয়া এবং পানি প্রবাহের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।

সোনাকানিয়া গ্রামের আলহাজ হাফিজার রহমান, ঠাকুরপাড়া গ্রামের আলহাজ তোজাম্মেল হক ও চরপাড়া গ্রামের তাহা ফকির বলেন, ‘পানির কারণে জমি প্রস্তুত করাই সম্ভব হচ্ছে না। চারা রোপণ তো দূরের কথা, অনেক জমিতে এখনও কচুরিপানা ও পানি জমে রয়েছে।’

কৃষকরা জানান, সাধারণত এ সময়ে আমন ধানের চারা রোপণের কাজ শেষ হয়ে যায়। কিন্তু জলাবদ্ধতার কারণে অনেক জমিতে এখনও চাষাবাদ শুরু করা যায়নি। এভাবে বছরের পর বছর আবাদি জমি অনাবাদি পড়ে থাকলে কৃষকদের পাশাপাশি স্থানীয় খাদ্য উৎপাদনেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সোহরাব হোসেন বলেন, সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে দ্রুত ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং ভরাট হয়ে যাওয়া খালগুলো পুনঃখনন করা প্রয়োজন। সরকারি উদ্যোগে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা স্বাভাবিক করা গেলে প্রায় ৩০০ একর জমিতে পুনরায় চাষাবাদ সম্ভব হবে। এতে কৃষকের আয় বাড়ার পাশাপাশি এলাকার খাদ্য নিরাপত্তায়ও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

স্থানীয় কৃষকদের দাবি, কৃষিজমি রক্ষায় দ্রুত জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হোক। একই সঙ্গে খাল-নালা পুনঃখনন ও পানি প্রবাহের প্রতিবন্ধকতা দূর করা হোক।