০৫:২৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সাঘাটায় অবৈধ ইটভাটার চিমনি ভাঙল প্রশাসন

  • Reporter Name
  • ০৩:৫৭:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬
  • ৪৪

সুলতান আহম্মেদ, স্টাফ রিপোর্টার সাঘাটা (গাইবান্ধা): হাইকোর্টের নির্দেশনা বাস্তবায়নে গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছে প্রশাসন। অভিযানের অংশ হিসেবে উপজেলার বোনারপাড়া ইউনিয়নের বাটি গ্রামে অবস্থিত এআরবি ব্রিকস নামের একটি ইটভাটার চিমনি ভেঙে দেওয়া হয়েছে।
রোববার (১৬ আগস্ট) দুপুরে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার রুমেন পাল-এর নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় ইটভাটার চিমনি ভেঙে কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়। এআরবি ব্রিকসের মালিক খলিল হাজী বলে জানা গেছে।
অভিযানে জেলা পুলিশের পক্ষে সাঘাটা থানার এসআই নাজমুল ইসলাম এবং আনসার সদস্য নায়েক মো. কাসেমসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সহযোগিতা করেন।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদন না থাকা অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে সারাদেশে অভিযান জোরদার করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় হাইকোর্টের নির্দেশনা বাস্তবায়নে সাঘাটাতেও অবৈধ ইটভাটাগুলোর বিরুদ্ধে পর্যায়ক্রমে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, গাইবান্ধা জেলায় মোট ১২৫টি ইটভাটা রয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ১৬টি বৈধ এবং ১০৯টি অবৈধ ইটভাটা রয়েছে। হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী এসব অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা রয়েছে।
এর আগে পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, দেশে প্রায় পাঁচ হাজার অবৈধ ইটভাটা রয়েছে। এসব ইটভাটার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি পরিবেশের ক্ষতি রোধে প্রশাসনিক তৎপরতা বাড়ানো হচ্ছে।
অভিযান সম্পর্কে সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রুমেন পাল বলেন, “হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, অনুমোদনহীন ইটভাটার কারণে কৃষিজমি, ফসল, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ওপর দীর্ঘদিন ধরে বিরূপ প্রভাব পড়ছে। বিশেষ করে ইটভাটার কালো ধোঁয়া ও মাটির উপরিভাগের উর্বর মাটি ব্যবহারের কারণে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। প্রশাসনের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকলে অবৈধ ইটভাটার দৌরাত্ম্য কমার পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

জনপ্রিয়

বগুড়ায় প্রেস কাউন্সিলের দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

সাঘাটায় অবৈধ ইটভাটার চিমনি ভাঙল প্রশাসন

০৩:৫৭:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬

সুলতান আহম্মেদ, স্টাফ রিপোর্টার সাঘাটা (গাইবান্ধা): হাইকোর্টের নির্দেশনা বাস্তবায়নে গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছে প্রশাসন। অভিযানের অংশ হিসেবে উপজেলার বোনারপাড়া ইউনিয়নের বাটি গ্রামে অবস্থিত এআরবি ব্রিকস নামের একটি ইটভাটার চিমনি ভেঙে দেওয়া হয়েছে।
রোববার (১৬ আগস্ট) দুপুরে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার রুমেন পাল-এর নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় ইটভাটার চিমনি ভেঙে কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়। এআরবি ব্রিকসের মালিক খলিল হাজী বলে জানা গেছে।
অভিযানে জেলা পুলিশের পক্ষে সাঘাটা থানার এসআই নাজমুল ইসলাম এবং আনসার সদস্য নায়েক মো. কাসেমসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সহযোগিতা করেন।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদন না থাকা অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে সারাদেশে অভিযান জোরদার করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় হাইকোর্টের নির্দেশনা বাস্তবায়নে সাঘাটাতেও অবৈধ ইটভাটাগুলোর বিরুদ্ধে পর্যায়ক্রমে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, গাইবান্ধা জেলায় মোট ১২৫টি ইটভাটা রয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ১৬টি বৈধ এবং ১০৯টি অবৈধ ইটভাটা রয়েছে। হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী এসব অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা রয়েছে।
এর আগে পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, দেশে প্রায় পাঁচ হাজার অবৈধ ইটভাটা রয়েছে। এসব ইটভাটার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি পরিবেশের ক্ষতি রোধে প্রশাসনিক তৎপরতা বাড়ানো হচ্ছে।
অভিযান সম্পর্কে সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রুমেন পাল বলেন, “হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, অনুমোদনহীন ইটভাটার কারণে কৃষিজমি, ফসল, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ওপর দীর্ঘদিন ধরে বিরূপ প্রভাব পড়ছে। বিশেষ করে ইটভাটার কালো ধোঁয়া ও মাটির উপরিভাগের উর্বর মাটি ব্যবহারের কারণে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। প্রশাসনের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকলে অবৈধ ইটভাটার দৌরাত্ম্য কমার পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।