০৫:২৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গাবতলীতে ভুয়া মাস্টাররোলের অভিযোগে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ডিলার আটক

  • Reporter Name
  • ০২:১৮:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬
  • ৪৯

মোহাম্মাদ আবু মুসা: বগুড়ার গাবতলী উপজেলায় খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল বিতরণে অনিয়ম, নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে কম চাল বিক্রয়কেন্দ্রে আনা এবং ভুয়া নামের মাস্টাররোল তৈরির অভিযোগে ডিলার আব্দুর রশিদকে (৪২) আটক করেছে পুলিশ।

আব্দুর রশিদ উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের আটবাড়িয়া গ্রামের কছিমুদ্দিনের ছেলে। তিনি স্থানীয় বিএনপির ১ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি বলে জানা গেছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) বগুড়া থেকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফয়সাল আহম্মেদের উপস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিক্রয়কেন্দ্রে অভিযান চালিয়ে এসব অনিয়মের তথ্য পান। পরে আব্দুর রশিদকে গাবতলী থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক হারুন অর রশিদ জানান, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় আব্দুর রশিদের জন্য ৭০৭ বস্তা চাল বরাদ্দ ছিল। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই চাল বিতরণ শুরু করার চেষ্টা করা হলে সংশ্লিষ্ট খাদ্যগুদাম কর্মকর্তাদের মাধ্যমে তা বন্ধ করা হয়। এর মধ্যে দুই বস্তা চাল বিতরণ করা হয়েছিল।

তিনি জানান, ঘটনাস্থলে গিয়ে ৩৯৮ বস্তা চাল পাওয়া যায়। বরাদ্দের তুলনায় চালের পরিমাণ কম পাওয়ার পাশাপাশি বিক্রয়ের মাস্টাররোলে নানা অসঙ্গতি ধরা পড়ে। তালিকায় ১৫১ জনের নাম ভুয়া বলে প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করা হয়েছে।

দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে চালের পরিমাণ কম পাওয়ায় তিনি চাল বিক্রি বা বিতরণে সম্মতি দেননি। পরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে সাময়িকভাবে চাল বিতরণ বন্ধ রাখা হয় এবং ডিলারকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরবর্তীতে প্যানেল চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে উপকারভোগীদের মধ্যে চাল বিতরণ করা হয়।

গাবতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাকিব হোসেন জানান, আব্দুর রশিদ বর্তমানে থানায় আটক রয়েছেন। তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে তিনি জানান।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান বলেন, বগুড়া থেকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। খাদ্য নিয়ন্ত্রকের মাধ্যমে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আরও কিছু বিক্রয়কেন্দ্রেও অনিয়ম হচ্ছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের উপস্থিতি নিয়েও তারা প্রশ্ন তুলেছেন। আব্দুর রশিদের বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপকে তারা প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানোর ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন।

তবে আব্দুর রশিদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তিনি ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

জনপ্রিয়

বগুড়ায় প্রেস কাউন্সিলের দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

গাবতলীতে ভুয়া মাস্টাররোলের অভিযোগে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ডিলার আটক

০২:১৮:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

মোহাম্মাদ আবু মুসা: বগুড়ার গাবতলী উপজেলায় খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল বিতরণে অনিয়ম, নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে কম চাল বিক্রয়কেন্দ্রে আনা এবং ভুয়া নামের মাস্টাররোল তৈরির অভিযোগে ডিলার আব্দুর রশিদকে (৪২) আটক করেছে পুলিশ।

আব্দুর রশিদ উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের আটবাড়িয়া গ্রামের কছিমুদ্দিনের ছেলে। তিনি স্থানীয় বিএনপির ১ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি বলে জানা গেছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) বগুড়া থেকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফয়সাল আহম্মেদের উপস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিক্রয়কেন্দ্রে অভিযান চালিয়ে এসব অনিয়মের তথ্য পান। পরে আব্দুর রশিদকে গাবতলী থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক হারুন অর রশিদ জানান, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় আব্দুর রশিদের জন্য ৭০৭ বস্তা চাল বরাদ্দ ছিল। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই চাল বিতরণ শুরু করার চেষ্টা করা হলে সংশ্লিষ্ট খাদ্যগুদাম কর্মকর্তাদের মাধ্যমে তা বন্ধ করা হয়। এর মধ্যে দুই বস্তা চাল বিতরণ করা হয়েছিল।

তিনি জানান, ঘটনাস্থলে গিয়ে ৩৯৮ বস্তা চাল পাওয়া যায়। বরাদ্দের তুলনায় চালের পরিমাণ কম পাওয়ার পাশাপাশি বিক্রয়ের মাস্টাররোলে নানা অসঙ্গতি ধরা পড়ে। তালিকায় ১৫১ জনের নাম ভুয়া বলে প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করা হয়েছে।

দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে চালের পরিমাণ কম পাওয়ায় তিনি চাল বিক্রি বা বিতরণে সম্মতি দেননি। পরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে সাময়িকভাবে চাল বিতরণ বন্ধ রাখা হয় এবং ডিলারকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরবর্তীতে প্যানেল চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে উপকারভোগীদের মধ্যে চাল বিতরণ করা হয়।

গাবতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাকিব হোসেন জানান, আব্দুর রশিদ বর্তমানে থানায় আটক রয়েছেন। তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে তিনি জানান।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান বলেন, বগুড়া থেকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। খাদ্য নিয়ন্ত্রকের মাধ্যমে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আরও কিছু বিক্রয়কেন্দ্রেও অনিয়ম হচ্ছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের উপস্থিতি নিয়েও তারা প্রশ্ন তুলেছেন। আব্দুর রশিদের বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপকে তারা প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানোর ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন।

তবে আব্দুর রশিদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তিনি ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন।