০৫:২৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সোনাতলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১১৬ শিক্ষকের পদ শূন্য, ব্যাহত পাঠদান

  • Reporter Name
  • ০২:১১:৪৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬
  • ১২৬

স্টাফ রিপোর্টার: বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার ১২৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে ১১৬টি শিক্ষক পদ শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে প্রধান শিক্ষকের ৫৬টি এবং সহকারী শিক্ষকের ৬০টি পদ শূন্য। বিপুলসংখ্যক শিক্ষক পদ খালি থাকায় একদিকে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও দাপ্তরিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে স্বাভাবিক পাঠদানও মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এতে সন্তানদের পড়াশোনা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন অভিভাবকরা।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, সোনাতলা উপজেলায় একটি পৌরসভা ও সাতটি ইউনিয়নে মোট ১২৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এসব বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক মিলিয়ে মোট ১১৬টি পদ বর্তমানে শূন্য রয়েছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক সংকট চলছে। কোথাও প্রধান শিক্ষক না থাকায় জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষককে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। আবার কোনো কোনো বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক কম থাকায় বিদ্যমান শিক্ষকদের অতিরিক্ত ক্লাস নিতে হচ্ছে। ফলে প্রশাসনিক কাজের পাশাপাশি শ্রেণিকক্ষে কাঙ্ক্ষিত পাঠদান নিশ্চিত করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

শিক্ষক সংকটের কারণে বিদ্যালয়ের দৈনন্দিন কার্যক্রমেও চাপ তৈরি হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে সব শ্রেণির পাঠদান, দাপ্তরিক কাজ ও শিক্ষার্থীদের যথাযথভাবে দেখভাল করতে গিয়ে শিক্ষকদের হিমশিম খেতে হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

অভিভাবক নাজমিন আকতার, সেলি বেগম, পারভীন আকতার, নজরুল ইসলাম ও আশাদুদ্দৌলা রানা বলেন, শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় বিদ্যালয়গুলোতে কাঙ্ক্ষিত পাঠদান হচ্ছে না। দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক সংকট চলতে থাকায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। দ্রুত শূন্য পদে শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে সংকট নিরসনের দাবি জানান তারা।

এ বিষয়ে সোনাতলা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোছা. ইতিয়ারা পারভীন বলেন, খুব শিগগিরই সরকার শূন্য পদের বিপরীতে শিক্ষক নিয়োগ দেবে। শিক্ষক নিয়োগ সম্পন্ন হলে বিদ্যালয়গুলোর চলমান শিক্ষক সংকটের সমাধান হবে।

সচেতন অভিভাবকদের প্রত্যাশা, দ্রুত শূন্য পদগুলোতে শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে স্বাভাবিক ও মানসম্মত পাঠদানের পরিবেশ ফিরিয়ে আনা হবে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

জনপ্রিয়

বগুড়ায় প্রেস কাউন্সিলের দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

সোনাতলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১১৬ শিক্ষকের পদ শূন্য, ব্যাহত পাঠদান

০২:১১:৪৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার: বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার ১২৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে ১১৬টি শিক্ষক পদ শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে প্রধান শিক্ষকের ৫৬টি এবং সহকারী শিক্ষকের ৬০টি পদ শূন্য। বিপুলসংখ্যক শিক্ষক পদ খালি থাকায় একদিকে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও দাপ্তরিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে স্বাভাবিক পাঠদানও মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এতে সন্তানদের পড়াশোনা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন অভিভাবকরা।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, সোনাতলা উপজেলায় একটি পৌরসভা ও সাতটি ইউনিয়নে মোট ১২৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এসব বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক মিলিয়ে মোট ১১৬টি পদ বর্তমানে শূন্য রয়েছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক সংকট চলছে। কোথাও প্রধান শিক্ষক না থাকায় জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষককে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। আবার কোনো কোনো বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক কম থাকায় বিদ্যমান শিক্ষকদের অতিরিক্ত ক্লাস নিতে হচ্ছে। ফলে প্রশাসনিক কাজের পাশাপাশি শ্রেণিকক্ষে কাঙ্ক্ষিত পাঠদান নিশ্চিত করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

শিক্ষক সংকটের কারণে বিদ্যালয়ের দৈনন্দিন কার্যক্রমেও চাপ তৈরি হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে সব শ্রেণির পাঠদান, দাপ্তরিক কাজ ও শিক্ষার্থীদের যথাযথভাবে দেখভাল করতে গিয়ে শিক্ষকদের হিমশিম খেতে হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

অভিভাবক নাজমিন আকতার, সেলি বেগম, পারভীন আকতার, নজরুল ইসলাম ও আশাদুদ্দৌলা রানা বলেন, শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় বিদ্যালয়গুলোতে কাঙ্ক্ষিত পাঠদান হচ্ছে না। দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক সংকট চলতে থাকায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। দ্রুত শূন্য পদে শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে সংকট নিরসনের দাবি জানান তারা।

এ বিষয়ে সোনাতলা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোছা. ইতিয়ারা পারভীন বলেন, খুব শিগগিরই সরকার শূন্য পদের বিপরীতে শিক্ষক নিয়োগ দেবে। শিক্ষক নিয়োগ সম্পন্ন হলে বিদ্যালয়গুলোর চলমান শিক্ষক সংকটের সমাধান হবে।

সচেতন অভিভাবকদের প্রত্যাশা, দ্রুত শূন্য পদগুলোতে শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে স্বাভাবিক ও মানসম্মত পাঠদানের পরিবেশ ফিরিয়ে আনা হবে।