০৭:৪৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সান্তাহারে জুয়েলার্সে ঢুকে ব্যবসায়ীকে ছুরিকাঘাত, স্বর্ণালংকার লুটের অভিযোগ

  • Reporter Name
  • ০১:১৩:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬
  • ৩২

আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি: বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহারে একটি জুয়েলার্সের দোকানে ঢুকে দ্বীপ হাসান নামে এক ব্যবসায়ীকে ছুরিকাঘাত ও স্বর্ণালংকার লুটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সান্তাহার পৌর ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রানা খান (৩৮)সহ অজ্ঞাতনামা আরও ৩-৪ জনের বিরুদ্ধে আদমদীঘি থানায় মামলা করা হয়েছে।

শনিবার সকালে আহত ব্যবসায়ী দ্বীপ হাসান বাদী হয়ে মামলাটি করেন। তিনি সান্তাহারের কলসা রথবাড়ী এলাকার মৃত জুলহাস মন্ডলের ছেলে।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ২০ আগস্ট সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সান্তাহার পৌর শহরের পোস্ট অফিস রোডসংলগ্ন মাসুদ জুয়েলার্সে এ ঘটনা ঘটে। পূর্ব বিরোধের জের ধরে রানা খানসহ কয়েকজন দোকানে প্রবেশ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এজাহারে বলা হয়, রানা খানের হাতে থাকা একটি চাকু দিয়ে দ্বীপ হাসানকে আঘাত করা হয়। তিনি হাত দিয়ে আঘাত ঠেকানোর চেষ্টা করলে তাঁর বাম হাতের মধ্যমা আঙুলের গোড়ায় গুরুতর কেটে যায়। এতে রক্তক্ষরণ হয়ে তিনি মাটিতে পড়ে যান।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ওই সময় দোকানের শোকেস থেকে দুটি স্বর্ণের চেইন ও দুই জোড়া কানের দুল নিয়ে যাওয়া হয়। এসব অলংকারের মোট ওজন প্রায় দেড় ভরি এবং আনুমানিক মূল্য ৩ লাখ ৪৫ হাজার টাকা বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া দোকানের দরজা ও থাই গ্লাস চাইনিজ কুড়াল দিয়ে ভাঙচুর করে প্রায় ৩০ হাজার টাকার ক্ষতি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

দ্বীপ হাসানের চিৎকার শুনে নাজু বেগম, বিদ্যুৎসহ স্থানীয় কয়েকজন ঘটনাস্থলে এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা মামলা করলে দ্বীপ হাসান ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের হত্যার হুমকি দিয়ে চলে যায় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহত দ্বীপ হাসানকে সিএনজিযোগে আদমদীঘি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে তাঁর হাতে আটটি সেলাই দেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসক তাঁকে উন্নত চিকিৎসার পরামর্শ দেন। পরে তিনি ২১ ও ২২ আগস্ট নওগাঁ সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।

চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফেরার পর স্বজন, সাক্ষী ও ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের সঙ্গে পরামর্শ করে থানায় মামলা করায় কিছুটা সময় লেগেছে বলে এজাহারে উল্লেখ করেছেন বাদী।

আদমদীঘি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুজ্জামান মিয়া মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনার তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে জড়িতদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

জনপ্রিয়

বগুড়ায় প্রেস কাউন্সিলের দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

সান্তাহারে জুয়েলার্সে ঢুকে ব্যবসায়ীকে ছুরিকাঘাত, স্বর্ণালংকার লুটের অভিযোগ

০১:১৩:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬

আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি: বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহারে একটি জুয়েলার্সের দোকানে ঢুকে দ্বীপ হাসান নামে এক ব্যবসায়ীকে ছুরিকাঘাত ও স্বর্ণালংকার লুটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সান্তাহার পৌর ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রানা খান (৩৮)সহ অজ্ঞাতনামা আরও ৩-৪ জনের বিরুদ্ধে আদমদীঘি থানায় মামলা করা হয়েছে।

শনিবার সকালে আহত ব্যবসায়ী দ্বীপ হাসান বাদী হয়ে মামলাটি করেন। তিনি সান্তাহারের কলসা রথবাড়ী এলাকার মৃত জুলহাস মন্ডলের ছেলে।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ২০ আগস্ট সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সান্তাহার পৌর শহরের পোস্ট অফিস রোডসংলগ্ন মাসুদ জুয়েলার্সে এ ঘটনা ঘটে। পূর্ব বিরোধের জের ধরে রানা খানসহ কয়েকজন দোকানে প্রবেশ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এজাহারে বলা হয়, রানা খানের হাতে থাকা একটি চাকু দিয়ে দ্বীপ হাসানকে আঘাত করা হয়। তিনি হাত দিয়ে আঘাত ঠেকানোর চেষ্টা করলে তাঁর বাম হাতের মধ্যমা আঙুলের গোড়ায় গুরুতর কেটে যায়। এতে রক্তক্ষরণ হয়ে তিনি মাটিতে পড়ে যান।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ওই সময় দোকানের শোকেস থেকে দুটি স্বর্ণের চেইন ও দুই জোড়া কানের দুল নিয়ে যাওয়া হয়। এসব অলংকারের মোট ওজন প্রায় দেড় ভরি এবং আনুমানিক মূল্য ৩ লাখ ৪৫ হাজার টাকা বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া দোকানের দরজা ও থাই গ্লাস চাইনিজ কুড়াল দিয়ে ভাঙচুর করে প্রায় ৩০ হাজার টাকার ক্ষতি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

দ্বীপ হাসানের চিৎকার শুনে নাজু বেগম, বিদ্যুৎসহ স্থানীয় কয়েকজন ঘটনাস্থলে এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা মামলা করলে দ্বীপ হাসান ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের হত্যার হুমকি দিয়ে চলে যায় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহত দ্বীপ হাসানকে সিএনজিযোগে আদমদীঘি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে তাঁর হাতে আটটি সেলাই দেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসক তাঁকে উন্নত চিকিৎসার পরামর্শ দেন। পরে তিনি ২১ ও ২২ আগস্ট নওগাঁ সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।

চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফেরার পর স্বজন, সাক্ষী ও ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের সঙ্গে পরামর্শ করে থানায় মামলা করায় কিছুটা সময় লেগেছে বলে এজাহারে উল্লেখ করেছেন বাদী।

আদমদীঘি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুজ্জামান মিয়া মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনার তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে জড়িতদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।