০৫:২৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সোনাতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জনবল সংকট চরমে, ৩৭ চিকিৎসকের পদে কর্মরত মাত্র ১৬ জন

  • Reporter Name
  • ০৩:৪১:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৭৬

স্টাফ রিপোর্টার: বগুড়ার সোনাতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকসহ বিভিন্ন পদে ব্যাপক জনবল সংকট দেখা দিয়েছে। ৫০ শয্যার এ হাসপাতালে চিকিৎসকের ৩৭টি পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ১৬ জন। ফলে ২১টি পদ শূন্য থাকায় চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সোনাতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি বর্তমানে ৫০ শয্যায় পরিচালিত হচ্ছে। হাসপাতালটিকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ কাজী রফিকুল ইসলাম।

হাসপাতালে চিকিৎসকের পাশাপাশি তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর পদেও রয়েছে বড় ধরনের ঘাটতি। তৃতীয় শ্রেণির ১০৪টি পদের মধ্যে কর্মরত আছেন ৭০ জন এবং শূন্য রয়েছে ৩৪টি পদ। চতুর্থ শ্রেণির ২৩টি পদের বিপরীতে কর্মরত মাত্র ৬ জন; শূন্য রয়েছে ১৭টি পদ।

সব মিলিয়ে হাসপাতালটিতে অনুমোদিত ১৯৯টি পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন ১২৭ জন। অর্থাৎ মোট ৭২টি পদই বর্তমানে শূন্য।

এদিকে প্রতিদিন বহির্বিভাগে বিপুলসংখ্যক রোগীর উপস্থিতি থাকায় সীমিত জনবল দিয়ে চিকিৎসাসেবা চালিয়ে যেতে চিকিৎসকদের অতিরিক্ত চাপ সামলাতে হচ্ছে। শুধু সোনাতলা নয়, পার্শ্ববর্তী শিবগঞ্জ, গাবতলী, সারিয়াকান্দি এবং গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ ও সাঘাটা উপজেলার অনেক রোগীও এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসেন।

হাসপাতালের অন্যতম বড় সংকট হলো গাইনি চিকিৎসকের অভাব। দীর্ঘদিন ধরে গাইনি কনসালটেন্ট না থাকায় নারী ও প্রসূতি রোগীদের চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসার জন্য অনেক রোগীকে বগুড়া জেলা শহরে কিংবা বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে যেতে হচ্ছে।

এ ছাড়া চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী হাসপাতাল থেকে সব ধরনের ওষুধ না পাওয়ার অভিযোগও রয়েছে রোগীদের। এতে দরিদ্র ও নিম্নআয়ের রোগীদের বাড়তি খরচের মুখে পড়তে হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত হাসপাতালের শূন্য পদগুলোতে চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, জনবল সংকট নিরসন করা গেলে সোনাতলাসহ আশপাশের কয়েকটি উপজেলার মানুষের স্বাস্থ্যসেবা আরও সহজলভ্য হবে।

সোনাতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের টিএইচও ডা. শারমিন কবিরাজ বলেন, হাসপাতালে বর্তমানে চিকিৎসকের স্বল্পতা রয়েছে। কমসংখ্যক চিকিৎসক দিয়ে রোগীদের সেবা দিতে আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

জনপ্রিয়

বগুড়ায় প্রেস কাউন্সিলের দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

সোনাতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জনবল সংকট চরমে, ৩৭ চিকিৎসকের পদে কর্মরত মাত্র ১৬ জন

০৩:৪১:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার: বগুড়ার সোনাতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকসহ বিভিন্ন পদে ব্যাপক জনবল সংকট দেখা দিয়েছে। ৫০ শয্যার এ হাসপাতালে চিকিৎসকের ৩৭টি পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ১৬ জন। ফলে ২১টি পদ শূন্য থাকায় চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সোনাতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি বর্তমানে ৫০ শয্যায় পরিচালিত হচ্ছে। হাসপাতালটিকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ কাজী রফিকুল ইসলাম।

হাসপাতালে চিকিৎসকের পাশাপাশি তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর পদেও রয়েছে বড় ধরনের ঘাটতি। তৃতীয় শ্রেণির ১০৪টি পদের মধ্যে কর্মরত আছেন ৭০ জন এবং শূন্য রয়েছে ৩৪টি পদ। চতুর্থ শ্রেণির ২৩টি পদের বিপরীতে কর্মরত মাত্র ৬ জন; শূন্য রয়েছে ১৭টি পদ।

সব মিলিয়ে হাসপাতালটিতে অনুমোদিত ১৯৯টি পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন ১২৭ জন। অর্থাৎ মোট ৭২টি পদই বর্তমানে শূন্য।

এদিকে প্রতিদিন বহির্বিভাগে বিপুলসংখ্যক রোগীর উপস্থিতি থাকায় সীমিত জনবল দিয়ে চিকিৎসাসেবা চালিয়ে যেতে চিকিৎসকদের অতিরিক্ত চাপ সামলাতে হচ্ছে। শুধু সোনাতলা নয়, পার্শ্ববর্তী শিবগঞ্জ, গাবতলী, সারিয়াকান্দি এবং গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ ও সাঘাটা উপজেলার অনেক রোগীও এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসেন।

হাসপাতালের অন্যতম বড় সংকট হলো গাইনি চিকিৎসকের অভাব। দীর্ঘদিন ধরে গাইনি কনসালটেন্ট না থাকায় নারী ও প্রসূতি রোগীদের চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসার জন্য অনেক রোগীকে বগুড়া জেলা শহরে কিংবা বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে যেতে হচ্ছে।

এ ছাড়া চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী হাসপাতাল থেকে সব ধরনের ওষুধ না পাওয়ার অভিযোগও রয়েছে রোগীদের। এতে দরিদ্র ও নিম্নআয়ের রোগীদের বাড়তি খরচের মুখে পড়তে হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত হাসপাতালের শূন্য পদগুলোতে চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, জনবল সংকট নিরসন করা গেলে সোনাতলাসহ আশপাশের কয়েকটি উপজেলার মানুষের স্বাস্থ্যসেবা আরও সহজলভ্য হবে।

সোনাতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের টিএইচও ডা. শারমিন কবিরাজ বলেন, হাসপাতালে বর্তমানে চিকিৎসকের স্বল্পতা রয়েছে। কমসংখ্যক চিকিৎসক দিয়ে রোগীদের সেবা দিতে আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।