০৫:২৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শুধু জিপিএ-৫ নয়, সন্তানদের বিজ্ঞানী-গবেষক হতে হবে: ডিসি বগুড়া 

ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি: শিক্ষার্থীদের সাফল্য কেবল জিপিএ-৫ অর্জন কিংবা ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। দেশ ও মানুষের কল্যাণে জ্ঞান ও দক্ষতা কাজে লাগিয়ে বড় অবদান রাখাই হওয়া উচিত তাদের মূল লক্ষ্য—এমন মন্তব্য করেছেন বগুড়ার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. তৌফিকুর রহমান।

তিনি বলেন, বর্তমান প্রজন্মের সন্তানদের শুধু প্রচলিত পেশার দিকে না ঠেলে বিজ্ঞানী ও গবেষক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। সমাজ ও দেশের জন্য একজন মানুষ কতটা ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারছেন, সেটিই তার প্রকৃত সাফল্যের অন্যতম মাপকাঠি।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বগুড়ার বিয়াম মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া ৩৪৩ শিক্ষার্থীর সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর ‘অমলকান্তি’ কবিতার প্রসঙ্গ তুলে জেলা প্রশাসক বলেন, ভালো ফলাফলের জন্য সংবর্ধনা পাওয়া অবশ্যই আনন্দের বিষয়। তবে এই অর্জনের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের দায়িত্বও বেড়ে যায়। শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান অর্জন করলেই হবে না, বিশ্বমানের জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে।

তিনি শিক্ষার্থীদের দেশের গণ্ডির মধ্যে নিজেদের অর্জন সীমাবদ্ধ না রেখে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ কাজে লাগানোর পরামর্শ দেন। পাশাপাশি অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে বিয়াম মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মুহা. মুস্তাফিজুর রহমান প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষাগত সাফল্যের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি জানান, ২০০৬ সালে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটির প্রথম ব্যাচ ২০০৮ সালে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। ওই ব্যাচের ৫৪ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২৮ জন জিপিএ-৫ অর্জন করেছিল।

তিনি আরও জানান, ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানটির ৪৩৬ শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে সবাই উত্তীর্ণ হয়েছে। তাদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩৪৩ জন। রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের সামগ্রিক পাসের হার যেখানে ৬২ শতাংশ, সেখানে প্রতিষ্ঠানটির জিপিএ-৫ অর্জনের হার প্রায় ৭৯ শতাংশ।

অনুষ্ঠানে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে তৃতীয় এবং বগুড়া জেলায় প্রথম স্থান অর্জনকারী কৃতী শিক্ষার্থী মোস্তাক মোর্শেদ মাহিকে বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়।

নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে মাহী জানায়, ভালো ফলাফলের পেছনে শুধু মেধা নয়, নিয়মিত পরিশ্রম, সময়ের যথাযথ ব্যবহার এবং আত্মবিশ্বাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শিক্ষকদের অবদানও তাদের সাফল্যের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করে সে।

অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও টিএমএসএস মেডিক্যাল কলেজের প্রভাষক ডা. ফারজানা আক্তার কনক শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তির সঠিক ও নিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের পাশাপাশি নিজেদের দক্ষতা বিকাশে মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিয়াম ফাউন্ডেশন আঞ্চলিক কেন্দ্র বগুড়ার পরিচালক মো. আলমগীর কবির এবং জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রমজান আলী আকন্দ।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে অতিথিরা জিপিএ-৫ পাওয়া ৩৪৩ শিক্ষার্থীর হাতে সংবর্ধনা স্মারক ও ক্রেস্ট তুলে দেন।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

জনপ্রিয়

বগুড়ায় প্রেস কাউন্সিলের দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

শুধু জিপিএ-৫ নয়, সন্তানদের বিজ্ঞানী-গবেষক হতে হবে: ডিসি বগুড়া 

০২:০০:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি: শিক্ষার্থীদের সাফল্য কেবল জিপিএ-৫ অর্জন কিংবা ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। দেশ ও মানুষের কল্যাণে জ্ঞান ও দক্ষতা কাজে লাগিয়ে বড় অবদান রাখাই হওয়া উচিত তাদের মূল লক্ষ্য—এমন মন্তব্য করেছেন বগুড়ার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. তৌফিকুর রহমান।

তিনি বলেন, বর্তমান প্রজন্মের সন্তানদের শুধু প্রচলিত পেশার দিকে না ঠেলে বিজ্ঞানী ও গবেষক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। সমাজ ও দেশের জন্য একজন মানুষ কতটা ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারছেন, সেটিই তার প্রকৃত সাফল্যের অন্যতম মাপকাঠি।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বগুড়ার বিয়াম মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া ৩৪৩ শিক্ষার্থীর সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর ‘অমলকান্তি’ কবিতার প্রসঙ্গ তুলে জেলা প্রশাসক বলেন, ভালো ফলাফলের জন্য সংবর্ধনা পাওয়া অবশ্যই আনন্দের বিষয়। তবে এই অর্জনের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের দায়িত্বও বেড়ে যায়। শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান অর্জন করলেই হবে না, বিশ্বমানের জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে।

তিনি শিক্ষার্থীদের দেশের গণ্ডির মধ্যে নিজেদের অর্জন সীমাবদ্ধ না রেখে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ কাজে লাগানোর পরামর্শ দেন। পাশাপাশি অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে বিয়াম মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মুহা. মুস্তাফিজুর রহমান প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষাগত সাফল্যের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি জানান, ২০০৬ সালে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটির প্রথম ব্যাচ ২০০৮ সালে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। ওই ব্যাচের ৫৪ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২৮ জন জিপিএ-৫ অর্জন করেছিল।

তিনি আরও জানান, ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানটির ৪৩৬ শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে সবাই উত্তীর্ণ হয়েছে। তাদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩৪৩ জন। রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের সামগ্রিক পাসের হার যেখানে ৬২ শতাংশ, সেখানে প্রতিষ্ঠানটির জিপিএ-৫ অর্জনের হার প্রায় ৭৯ শতাংশ।

অনুষ্ঠানে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে তৃতীয় এবং বগুড়া জেলায় প্রথম স্থান অর্জনকারী কৃতী শিক্ষার্থী মোস্তাক মোর্শেদ মাহিকে বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়।

নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে মাহী জানায়, ভালো ফলাফলের পেছনে শুধু মেধা নয়, নিয়মিত পরিশ্রম, সময়ের যথাযথ ব্যবহার এবং আত্মবিশ্বাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শিক্ষকদের অবদানও তাদের সাফল্যের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করে সে।

অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও টিএমএসএস মেডিক্যাল কলেজের প্রভাষক ডা. ফারজানা আক্তার কনক শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তির সঠিক ও নিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের পাশাপাশি নিজেদের দক্ষতা বিকাশে মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিয়াম ফাউন্ডেশন আঞ্চলিক কেন্দ্র বগুড়ার পরিচালক মো. আলমগীর কবির এবং জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রমজান আলী আকন্দ।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে অতিথিরা জিপিএ-৫ পাওয়া ৩৪৩ শিক্ষার্থীর হাতে সংবর্ধনা স্মারক ও ক্রেস্ট তুলে দেন।