০৫:২৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বগুড়ায় পঞ্চম শ্রেণির ৪০ শতাংশই ইংরেজি পড়তে পারে না, গণিতে অদক্ষ ৪১ শতাংশ

  • Reporter Name
  • ০২:২১:৫৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৭৪

সোনাতলা সংবাদ ডেস্কঃ বগুড়ার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রাথমিক শিক্ষার মান নিয়ে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক চিত্র। জেলার পঞ্চম শ্রেণির প্রতি ১০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে চারজনই ইংরেজি পড়তে ও বুঝতে পারে না। একই শ্রেণির ৪১ শতাংশ শিক্ষার্থী সাধারণ গণিতের হিসাব মেলাতে অক্ষম। মাতৃভাষা বাংলায় রিডিং পড়তেও সমস্যায় রয়েছে প্রায় এক-চতুর্থাংশ শিক্ষার্থী।

সম্প্রতি বগুড়া জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস পরিচালিত শিক্ষার্থীদের শিখন মূল্যায়ন জরিপে (এফএলএন রিপোর্ট) এসব তথ্য উঠে এসেছে। জেলার ১ হাজার ৬০৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির মোট ৭৬ হাজার ১৬৯ জন শিক্ষার্থীকে এ মূল্যায়নের আওতায় আনা হয়।

জরিপের তথ্য অনুযায়ী, পঞ্চম শ্রেণির ৩৯ হাজার ৪৮৭ শিক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ৬০ শতাংশ অর্থাৎ ২৩ হাজার ৬৮৩ জন ইংরেজি পড়তে ও বুঝতে সক্ষম। বিপরীতে ৪০ শতাংশ শিক্ষার্থী ইংরেজি রিডিংয়ে প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করতে পারেনি।

ইংরেজির পাশাপাশি বাংলাতেও রয়েছে শিখন ঘাটতি। পঞ্চম শ্রেণির ২৪ শতাংশ শিক্ষার্থী বাংলা রিডিং পড়তে পারে না। অর্থাৎ এ শ্রেণির ৭৬ শতাংশ শিক্ষার্থী বাংলা পড়ার সক্ষমতা অর্জন করেছে। অন্যদিকে সাধারণ গণিতের হিসাব করতে বা সমাধান করতে ব্যর্থ ৪১ শতাংশ শিক্ষার্থী।

নিচের শ্রেণিগুলোর চিত্রও খুব একটা আশাব্যঞ্জক নয়। তৃতীয় শ্রেণির ৩৫ হাজার ৩২৪ শিক্ষার্থীর মধ্যে ৩৯ শতাংশ সাধারণ গণিত করতে পারে না। একই শ্রেণির ৩১ শতাংশ শিক্ষার্থী বাংলা রিডিং পড়তে অক্ষম।

চতুর্থ শ্রেণিতেও রয়েছে উল্লেখযোগ্য শিখন ঘাটতি। জরিপে দেখা গেছে, এ শ্রেণির ৩৫ শতাংশ শিক্ষার্থী সাধারণ গণিত সমাধান করতে পারে না। একই হারে, অর্থাৎ ৩৫ শতাংশ শিক্ষার্থী ইংরেজি রিডিং পড়তে অক্ষম।

দুর্গম চরাঞ্চলে সংকট বেশি

উপজেলাভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, যমুনা নদীবেষ্টিত এবং দুর্গম চরাঞ্চল অধ্যুষিত উপজেলাগুলোর বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি তুলনামূলক বেশি। এর মধ্যে ধুনট ও সারিয়াকান্দি উপজেলার চরাঞ্চলের বিদ্যালয়গুলোর অবস্থা বিশেষভাবে নাজুক।

জরিপ অনুযায়ী, ধুনট উপজেলায় তৃতীয় শ্রেণির ৪৪ শতাংশ শিক্ষার্থী গণিতে এবং ৪১ শতাংশ শিক্ষার্থী ইংরেজিতে প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করতে পারেনি।

অন্যদিকে সারিয়াকান্দিতে তৃতীয় শ্রেণির ৪১ শতাংশ শিক্ষার্থী সাধারণ গণিতের হিসাব মেলাতে পারে না। চতুর্থ শ্রেণির ৪৩ শতাংশ শিক্ষার্থী ইংরেজি রিডিং পড়তে অক্ষম।

তবে চরাঞ্চল অধ্যুষিত উপজেলা সোনাতলায় তুলনামূলকভাবে ভালো ফল পাওয়া গেছে। সেখানে শিক্ষার্থীদের সফলতার হার ৯৪ থেকে ৯৮ শতাংশের মধ্যে রয়েছে।

চরাঞ্চলের বাইরের উপজেলাগুলোর মধ্যেও শিখন ঘাটতির চিত্র রয়েছে। শেরপুর উপজেলায় তৃতীয় শ্রেণির সর্বোচ্চ ৬২ শতাংশ শিক্ষার্থী গণিতে এবং চতুর্থ শ্রেণির ৬১ শতাংশ শিক্ষার্থী ইংরেজিতে অদক্ষ বলে জরিপে উঠে এসেছে।

শিখন ঘাটতি পূরণে ছয় মাসের কর্মসূচি

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস বলছে, জরিপের মাধ্যমে বিদ্যালয় ও শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতির জায়গাগুলো সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব দুর্বলতা কাটিয়ে শিক্ষার মান বাড়াতে ইতোমধ্যে বিভিন্ন কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে।

বগুড়া জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. রেজোয়ান হোসেন জানান, পিছিয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি পূরণে কাজ করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, গত জুন মাস থেকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার মানোন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও খেলাধুলায় মনোযোগী করতে ছয় মাসের একটি কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। এরই মধ্যে কর্মসূচির কিছু ইতিবাচক ফল পাওয়া যাচ্ছে। আগামী ডিসেম্বর মাসে এর চূড়ান্ত ফলাফল পাওয়া যাবে।

শিক্ষাবিদদের মতে, প্রাথমিক স্তরেই বাংলা, ইংরেজি ও গণিতে প্রয়োজনীয় ভিত্তি তৈরি না হলে পরবর্তী শিক্ষাজীবনে শিক্ষার্থীদের নানা ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। তাই জরিপে চিহ্নিত শিখন ঘাটতি দ্রুত পূরণের পাশাপাশি দুর্গম চরাঞ্চলের বিদ্যালয়গুলোতে বিশেষ নজর দেওয়া জরুরি।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

জনপ্রিয়

বগুড়ায় প্রেস কাউন্সিলের দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

বগুড়ায় পঞ্চম শ্রেণির ৪০ শতাংশই ইংরেজি পড়তে পারে না, গণিতে অদক্ষ ৪১ শতাংশ

০২:২১:৫৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সোনাতলা সংবাদ ডেস্কঃ বগুড়ার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রাথমিক শিক্ষার মান নিয়ে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক চিত্র। জেলার পঞ্চম শ্রেণির প্রতি ১০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে চারজনই ইংরেজি পড়তে ও বুঝতে পারে না। একই শ্রেণির ৪১ শতাংশ শিক্ষার্থী সাধারণ গণিতের হিসাব মেলাতে অক্ষম। মাতৃভাষা বাংলায় রিডিং পড়তেও সমস্যায় রয়েছে প্রায় এক-চতুর্থাংশ শিক্ষার্থী।

সম্প্রতি বগুড়া জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস পরিচালিত শিক্ষার্থীদের শিখন মূল্যায়ন জরিপে (এফএলএন রিপোর্ট) এসব তথ্য উঠে এসেছে। জেলার ১ হাজার ৬০৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির মোট ৭৬ হাজার ১৬৯ জন শিক্ষার্থীকে এ মূল্যায়নের আওতায় আনা হয়।

জরিপের তথ্য অনুযায়ী, পঞ্চম শ্রেণির ৩৯ হাজার ৪৮৭ শিক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ৬০ শতাংশ অর্থাৎ ২৩ হাজার ৬৮৩ জন ইংরেজি পড়তে ও বুঝতে সক্ষম। বিপরীতে ৪০ শতাংশ শিক্ষার্থী ইংরেজি রিডিংয়ে প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করতে পারেনি।

ইংরেজির পাশাপাশি বাংলাতেও রয়েছে শিখন ঘাটতি। পঞ্চম শ্রেণির ২৪ শতাংশ শিক্ষার্থী বাংলা রিডিং পড়তে পারে না। অর্থাৎ এ শ্রেণির ৭৬ শতাংশ শিক্ষার্থী বাংলা পড়ার সক্ষমতা অর্জন করেছে। অন্যদিকে সাধারণ গণিতের হিসাব করতে বা সমাধান করতে ব্যর্থ ৪১ শতাংশ শিক্ষার্থী।

নিচের শ্রেণিগুলোর চিত্রও খুব একটা আশাব্যঞ্জক নয়। তৃতীয় শ্রেণির ৩৫ হাজার ৩২৪ শিক্ষার্থীর মধ্যে ৩৯ শতাংশ সাধারণ গণিত করতে পারে না। একই শ্রেণির ৩১ শতাংশ শিক্ষার্থী বাংলা রিডিং পড়তে অক্ষম।

চতুর্থ শ্রেণিতেও রয়েছে উল্লেখযোগ্য শিখন ঘাটতি। জরিপে দেখা গেছে, এ শ্রেণির ৩৫ শতাংশ শিক্ষার্থী সাধারণ গণিত সমাধান করতে পারে না। একই হারে, অর্থাৎ ৩৫ শতাংশ শিক্ষার্থী ইংরেজি রিডিং পড়তে অক্ষম।

দুর্গম চরাঞ্চলে সংকট বেশি

উপজেলাভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, যমুনা নদীবেষ্টিত এবং দুর্গম চরাঞ্চল অধ্যুষিত উপজেলাগুলোর বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি তুলনামূলক বেশি। এর মধ্যে ধুনট ও সারিয়াকান্দি উপজেলার চরাঞ্চলের বিদ্যালয়গুলোর অবস্থা বিশেষভাবে নাজুক।

জরিপ অনুযায়ী, ধুনট উপজেলায় তৃতীয় শ্রেণির ৪৪ শতাংশ শিক্ষার্থী গণিতে এবং ৪১ শতাংশ শিক্ষার্থী ইংরেজিতে প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করতে পারেনি।

অন্যদিকে সারিয়াকান্দিতে তৃতীয় শ্রেণির ৪১ শতাংশ শিক্ষার্থী সাধারণ গণিতের হিসাব মেলাতে পারে না। চতুর্থ শ্রেণির ৪৩ শতাংশ শিক্ষার্থী ইংরেজি রিডিং পড়তে অক্ষম।

তবে চরাঞ্চল অধ্যুষিত উপজেলা সোনাতলায় তুলনামূলকভাবে ভালো ফল পাওয়া গেছে। সেখানে শিক্ষার্থীদের সফলতার হার ৯৪ থেকে ৯৮ শতাংশের মধ্যে রয়েছে।

চরাঞ্চলের বাইরের উপজেলাগুলোর মধ্যেও শিখন ঘাটতির চিত্র রয়েছে। শেরপুর উপজেলায় তৃতীয় শ্রেণির সর্বোচ্চ ৬২ শতাংশ শিক্ষার্থী গণিতে এবং চতুর্থ শ্রেণির ৬১ শতাংশ শিক্ষার্থী ইংরেজিতে অদক্ষ বলে জরিপে উঠে এসেছে।

শিখন ঘাটতি পূরণে ছয় মাসের কর্মসূচি

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস বলছে, জরিপের মাধ্যমে বিদ্যালয় ও শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতির জায়গাগুলো সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব দুর্বলতা কাটিয়ে শিক্ষার মান বাড়াতে ইতোমধ্যে বিভিন্ন কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে।

বগুড়া জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. রেজোয়ান হোসেন জানান, পিছিয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি পূরণে কাজ করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, গত জুন মাস থেকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার মানোন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও খেলাধুলায় মনোযোগী করতে ছয় মাসের একটি কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। এরই মধ্যে কর্মসূচির কিছু ইতিবাচক ফল পাওয়া যাচ্ছে। আগামী ডিসেম্বর মাসে এর চূড়ান্ত ফলাফল পাওয়া যাবে।

শিক্ষাবিদদের মতে, প্রাথমিক স্তরেই বাংলা, ইংরেজি ও গণিতে প্রয়োজনীয় ভিত্তি তৈরি না হলে পরবর্তী শিক্ষাজীবনে শিক্ষার্থীদের নানা ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। তাই জরিপে চিহ্নিত শিখন ঘাটতি দ্রুত পূরণের পাশাপাশি দুর্গম চরাঞ্চলের বিদ্যালয়গুলোতে বিশেষ নজর দেওয়া জরুরি।