সোনাতলা সংবাদ ডেস্কঃ বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে বিদ্যালয়ের এডহক ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে প্রধান শিক্ষককে লাঞ্ছিত ও বিদ্যালয়ে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার ছাগলধরা উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনার পর বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহিদুল ইসলাম অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে সারিয়াকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনার প্রতিবাদে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, কয়েকদিন আগে ছাগলধরা উচ্চ বিদ্যালয়ের জন্য এডহক কমিটি অনুমোদন করে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, রাজশাহী। ওই কমিটির সভাপতি করা হয় উপজেলার ফুলবাড়ি ইউনিয়নের ছাগলধরা গ্রামের আক্তার হোসেনের ছেলে রাবিউল হাসান রানাকে।
তবে রাবিউল হাসান রানা সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি এর বিরোধিতা করে আসছিলেন বলে বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে। তাদের মধ্যে একই গ্রামের মফিজ উদ্দিন প্রামাণিকের ছেলে আব্দুল মান্নান, তার ভাই শাহজাহান আলী মেম্বার, মাহমুদ আলীর ছেলে মাসুদ মিয়া, আব্দুল জলিলের ছেলে মাহবুব হোসেন এবং কছিম উদ্দিনের ছেলে জিয়ারুল ইসলামের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, বৃহস্পতিবার সকালে তাদের নেতৃত্বে প্রায় অর্ধশত লোক বিদ্যালয়ে প্রবেশ করেন। একপর্যায়ে তারা প্রধান শিক্ষকের কক্ষে গিয়ে বিভিন্ন নথিপত্র এলোমেলো করেন এবং আসবাবপত্রে ভাঙচুর চালান। পরে প্রধান শিক্ষক জাহিদুল ইসলামের সঙ্গে তারা দুর্ব্যবহার ও তাকে লাঞ্ছিত করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ঘটনার পর প্রধান শিক্ষক অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত সারিয়াকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বগুড়ায় পাঠানো হয়।
প্রধান শিক্ষক জাহিদুল ইসলাম বলেন, এডহক কমিটির সভাপতি নির্বাচনের বিষয়টি মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের সিদ্ধান্ত। এতে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কোনো ভূমিকা নেই। এরপরও বিদ্যালয়ে প্রবেশ করে তাকে লাঞ্ছিত করা হয়েছে। সময়মতো চিকিৎসা না পেলে বড় ধরনের বিপদ হতে পারত বলেও তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও উপযুক্ত বিচার দাবি করেন তিনি।
সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মিকাইল ইসলাম জানান, বিষয়টি নিয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ ইতোমধ্যে বিদ্যালয় পরিদর্শন করেছে। পাশাপাশি অসুস্থ প্রধান শিক্ষকের শারীরিক অবস্থারও খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে।- সূত্র- দৈনিক করতোয়া অনলাইন।
Reporter Name 


















