০৫:২৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সোনাতলায় পূজার প্রস্তুতি, খড়-বাঁশ-মাটিতে রূপ নিচ্ছে দুর্গাপ্রতিমা

  • Reporter Name
  • ০৩:৫৩:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫৮

স্টাফ রিপোর্টার, সোনাতলাঃ শারদীয় দুর্গোৎসবকে সামনে রেখে বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার বিভিন্ন মন্দিরে শুরু হয়েছে প্রতিমা তৈরির কর্মযজ্ঞ। খড়, বাঁশ ও মাটি দিয়ে ধীরে ধীরে দেবী দুর্গাসহ তাঁর সঙ্গীদের অবয়ব ফুটিয়ে তুলছেন মৃৎশিল্পীরা। উৎসব যত এগিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে কারিগরদের ব্যস্ততা।

উপজেলার বিভিন্ন মন্দির ঘুরে দেখা গেছে, কোথাও বাঁশ ও খড় দিয়ে প্রতিমার প্রাথমিক কাঠামো তৈরির কাজ চলছে, আবার কোথাও কাঠামোর ওপর মাটির প্রলেপ দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। দেবী দুর্গার পাশাপাশি গণেশ, কার্তিক, লক্ষ্মী ও সরস্বতীর প্রতিমার কাঠামোও তৈরি করছেন কারিগররা।

কারিগরদের ভাষ্য অনুযায়ী, কাঠামো তৈরির পর কয়েক ধাপে মাটি দিয়ে প্রতিমার বিভিন্ন অংশের আকৃতি দেওয়া হয়। মাটি শুকিয়ে গেলে শুরু হয় রং ও সাজসজ্জার কাজ। সবশেষে শাড়ি, গহনা ও অন্যান্য অলংকারে প্রতিমাগুলোকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দেওয়া হয়।

মন্দির কমিটির সদস্যরা জানান, আগামী ১৬ অক্টোবর থেকে দুর্গোৎসব শুরু হয়ে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে। এ উপলক্ষে মন্দিরগুলোতে ইতোমধ্যে বিভিন্ন প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। পূজার দিনগুলোতে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, ঢাকের বাদ্য এবং ভক্তদের উপস্থিতিতে মন্দির প্রাঙ্গণ উৎসবমুখর হয়ে উঠবে।

প্রতিমা তৈরির কাজে ফরিদপুর থেকে সোনাতলায় এসেছেন কারিগর রবীন্দ্রনাথ পাল। তাঁর সঙ্গে সহযোগী হিসেবে কাজ করছেন কার্তিক চন্দ্র পাল ও বিমল চন্দ্র পাল।

রবীন্দ্রনাথ পাল জানান, একটি প্রতিমা সম্পূর্ণ করতে সাধারণত ২০ থেকে ২৫ দিন সময় প্রয়োজন হয়। প্রতিমার আকার, নকশা ও নির্মাণের ধরন অনুযায়ী মজুরি নির্ধারণ করা হয়। প্রতিটি প্রতিমার জন্য ৩৫ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত মজুরি নেওয়া হলেও বড় ও জটিল নকশার প্রতিমার ক্ষেত্রে তা ৮০ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে।

তিনি আরও জানান, চলতি মৌসুমে সোনাতলাসহ বিভিন্ন এলাকায় চুক্তিভিত্তিক ৬ থেকে ৮টি প্রতিমা তৈরির কাজ করছেন তাঁরা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিমা তৈরি করে সংশ্লিষ্ট মন্দির কমিটির কাছে বুঝিয়ে দেওয়াই এখন তাঁদের প্রধান লক্ষ্য।

মৃৎশিল্পীরা জানান, প্রতিমা তৈরির শুরুতে বাঁশ ও খড় দিয়ে শক্ত কাঠামো তৈরি করা হয়। এরপর সেই কাঠামোর ওপর পর্যায়ক্রমে মাটি লাগিয়ে দেবী ও তাঁর সঙ্গীদের অবয়ব তৈরি করা হয়। মাটি শুকানোর পর রং, অলংকার ও বিভিন্ন সাজসজ্জার উপকরণ যোগ করা হয়।

দুর্গাপূজার সময় ঘনিয়ে আসায় সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগররা। তাঁদের দক্ষ হাতে সাধারণ খড়-বাঁশ-মাটির কাঠামো ধীরে ধীরে পরিণত হচ্ছে শারদীয় দুর্গোৎসবের আরাধ্য প্রতিমায়।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

জনপ্রিয়

বগুড়ায় প্রেস কাউন্সিলের দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

সোনাতলায় পূজার প্রস্তুতি, খড়-বাঁশ-মাটিতে রূপ নিচ্ছে দুর্গাপ্রতিমা

০৩:৫৩:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার, সোনাতলাঃ শারদীয় দুর্গোৎসবকে সামনে রেখে বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার বিভিন্ন মন্দিরে শুরু হয়েছে প্রতিমা তৈরির কর্মযজ্ঞ। খড়, বাঁশ ও মাটি দিয়ে ধীরে ধীরে দেবী দুর্গাসহ তাঁর সঙ্গীদের অবয়ব ফুটিয়ে তুলছেন মৃৎশিল্পীরা। উৎসব যত এগিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে কারিগরদের ব্যস্ততা।

উপজেলার বিভিন্ন মন্দির ঘুরে দেখা গেছে, কোথাও বাঁশ ও খড় দিয়ে প্রতিমার প্রাথমিক কাঠামো তৈরির কাজ চলছে, আবার কোথাও কাঠামোর ওপর মাটির প্রলেপ দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। দেবী দুর্গার পাশাপাশি গণেশ, কার্তিক, লক্ষ্মী ও সরস্বতীর প্রতিমার কাঠামোও তৈরি করছেন কারিগররা।

কারিগরদের ভাষ্য অনুযায়ী, কাঠামো তৈরির পর কয়েক ধাপে মাটি দিয়ে প্রতিমার বিভিন্ন অংশের আকৃতি দেওয়া হয়। মাটি শুকিয়ে গেলে শুরু হয় রং ও সাজসজ্জার কাজ। সবশেষে শাড়ি, গহনা ও অন্যান্য অলংকারে প্রতিমাগুলোকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দেওয়া হয়।

মন্দির কমিটির সদস্যরা জানান, আগামী ১৬ অক্টোবর থেকে দুর্গোৎসব শুরু হয়ে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে। এ উপলক্ষে মন্দিরগুলোতে ইতোমধ্যে বিভিন্ন প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। পূজার দিনগুলোতে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, ঢাকের বাদ্য এবং ভক্তদের উপস্থিতিতে মন্দির প্রাঙ্গণ উৎসবমুখর হয়ে উঠবে।

প্রতিমা তৈরির কাজে ফরিদপুর থেকে সোনাতলায় এসেছেন কারিগর রবীন্দ্রনাথ পাল। তাঁর সঙ্গে সহযোগী হিসেবে কাজ করছেন কার্তিক চন্দ্র পাল ও বিমল চন্দ্র পাল।

রবীন্দ্রনাথ পাল জানান, একটি প্রতিমা সম্পূর্ণ করতে সাধারণত ২০ থেকে ২৫ দিন সময় প্রয়োজন হয়। প্রতিমার আকার, নকশা ও নির্মাণের ধরন অনুযায়ী মজুরি নির্ধারণ করা হয়। প্রতিটি প্রতিমার জন্য ৩৫ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত মজুরি নেওয়া হলেও বড় ও জটিল নকশার প্রতিমার ক্ষেত্রে তা ৮০ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে।

তিনি আরও জানান, চলতি মৌসুমে সোনাতলাসহ বিভিন্ন এলাকায় চুক্তিভিত্তিক ৬ থেকে ৮টি প্রতিমা তৈরির কাজ করছেন তাঁরা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিমা তৈরি করে সংশ্লিষ্ট মন্দির কমিটির কাছে বুঝিয়ে দেওয়াই এখন তাঁদের প্রধান লক্ষ্য।

মৃৎশিল্পীরা জানান, প্রতিমা তৈরির শুরুতে বাঁশ ও খড় দিয়ে শক্ত কাঠামো তৈরি করা হয়। এরপর সেই কাঠামোর ওপর পর্যায়ক্রমে মাটি লাগিয়ে দেবী ও তাঁর সঙ্গীদের অবয়ব তৈরি করা হয়। মাটি শুকানোর পর রং, অলংকার ও বিভিন্ন সাজসজ্জার উপকরণ যোগ করা হয়।

দুর্গাপূজার সময় ঘনিয়ে আসায় সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগররা। তাঁদের দক্ষ হাতে সাধারণ খড়-বাঁশ-মাটির কাঠামো ধীরে ধীরে পরিণত হচ্ছে শারদীয় দুর্গোৎসবের আরাধ্য প্রতিমায়।