ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি- বগুড়ার আদমদীঘিতে মাদক, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, জুয়া ও অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন আদমদীঘি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. কামরুজ্জামান মিয়া।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে সান্তাহার রেলওয়ে জংশন স্টেশন এলাকায় পথচারী ও স্থানীয়দের উদ্দেশে সচেতনতামূলক বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ আহ্বান জানান।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন আদমদীঘি থানার এসআই মো. ইন্তেজারুল ইসলাম, এসআই খোকন চন্দ্র ভৌমিকসহ স্থানীয় আলেম-ওলামা, তরুণ সমাজ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
ওসি মো. কামরুজ্জামান মিয়া বলেন, মাদক ব্যক্তি ও একটি পরিবারের জন্য যেমন ক্ষতিকর, তেমনি এটি সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্যও বড় ধরনের হুমকি। মাদকের বিস্তার রোধে শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর নির্ভর করলে হবে না। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে।
তিনি বলেন, অনেক সময় বন্ধুবান্ধবের প্রভাবে, কৌতূহল কিংবা হতাশা থেকে একজন ব্যক্তি মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়ে। পরবর্তী সময়ে আসক্তি বাড়তে থাকলে নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও তৈরি হয়। ফলে মাদক প্রতিরোধের পাশাপাশি তরুণ ও কিশোরদের সচেতন করা অত্যন্ত জরুরি।
এরপর বিকেল ৫টার দিকে রাণীনগর বাজার স্ট্যান্ড এলাকায় এবং সাড়ে ৫টার দিকে পাল্লাপাড়া এলাকায়ও সচেতনতামূলক বক্তব্য দেন ওসি।
রাণীনগর বাজার স্ট্যান্ড এলাকায় বক্তব্যকালে তিনি বলেন, মাদক মানুষের জীবন, পরিবার ও সামাজিক মূল্যবোধকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। মাদকের বিস্তার রোধে প্রতিটি পরিবারকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। সন্তানদের চলাফেরা, বন্ধুত্ব ও কর্মকাণ্ড সম্পর্কে অভিভাবকদের সচেতন থাকতে হবে।
তিনি আরও বলেন, শিশু-কিশোরদের মাদকের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে বোঝাতে হবে। শুধু কঠোর শাসন নয়, তাদের সঙ্গে ভালো আচরণ ও পারিবারিক বন্ধন দৃঢ় করার মাধ্যমেও মাদক থেকে দূরে রাখা সম্ভব।
পরিবারকে মাদকমুক্ত রাখতে মায়েদের পাশাপাশি সব অভিভাবকের সচেতন ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে মিশছে এবং কী করছে—এসব বিষয়ে খোঁজ রাখার পাশাপাশি তাদের জন্য নিরাপদ ও সুন্দর পারিবারিক পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
ওসি মো. কামরুজ্জামান মিয়া বলেন, মাদক, সন্ত্রাস ও অন্যান্য অপরাধ দমনে পুলিশ কঠোর অবস্থানে থাকবে। তবে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা প্রয়োজন। এজন্য জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, ধর্মীয় নেতা, গণমাধ্যমকর্মী ও সাধারণ জনগণের সক্রিয় সহযোগিতা অপরিহার্য।
তিনি তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতন করতে নিয়মিত সভা, প্রচার-প্রচারণা এবং বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেন। একই সঙ্গে মাদক ব্যবসা ও মাদক সেবনের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান।
সচেতনতামূলক বক্তব্যে তিনি মাদকমুক্ত পরিবার গড়ে তোলার পাশাপাশি চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, জুয়া ও অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে সামাজিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
‘মাদকমুক্ত পরিবার গড়ি, মাদকমুক্ত সমাজ গড়ি—নিজে বাঁচি, দেশকে বাঁচাই’—এই প্রত্যয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
এম আব্দুর রাজ্জাক 


















