০৪:৪৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গাবতলীতে মাদ্রাসায় কোরআন শরিফ দেওয়ার কথা বলে স্বর্ণালংকার ও টাকা আত্মসাৎ, ৩ প্রতারক গ্রেপ্তার

  • Reporter Name
  • ০৭:৪১:৪৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৭৫

গাবতলী (বগুড়া) প্রতিনিধি: বগুড়ার গাবতলীতে মাদ্রাসার জন্য পবিত্র কোরআন শরিফ ও শিক্ষার্থীদের পোশাক দেওয়ার কথা বলে এক নারীর কাছ থেকে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার আত্মসাতের অভিযোগে একটি প্রতারক চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে রংপুর জেলার বদরগঞ্জ থানার কাজীপুর এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—মো. শামসুল সরকার ওরফে মন্ত্রী (৩৩), পিতা মো. আবু সায়েদ; মো. নুরনবী ইসলাম ওরফে নয়ন (২৭), পিতা মো. এনামুল হক এবং মো. শামসুল আলম (২৬), পিতা মো. আমিনুল ইসলাম। তাদের বাড়ি রংপুরের বদরগঞ্জ থানার কাজীপাড়া এলাকায়।
পুলিশ ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন মাস আগে অজ্ঞাতনামা দুই ব্যক্তি নারুয়ামালা এলাকায় বাদী কনিকা আক্তারের বাড়িতে মাদ্রাসার জন্য পবিত্র কোরআন শরিফ দান হিসেবে চান। এ সময় তাদের সঙ্গে বাদীর পরিচয় হয়। কোরআন শরিফ কেনার জন্য ওই দুই ব্যক্তি বাদীর কাছ থেকে ৫০০ টাকা নেন।
এর কিছুদিন পর ওই দুই ব্যক্তি আরও দুই মাদ্রাসাছাত্রকে সঙ্গে নিয়ে পুনরায় কনিকা আক্তারের বাড়িতে যান। মাদ্রাসার ছাত্রদের পোশাক কেনার কথা বলে তার কাছে ২ হাজার ১০০ টাকা চাইলে সরল বিশ্বাসে তিনি তাদের ওই টাকা দেন।
পরবর্তীতে গত ৮ আগস্ট সকাল সাড়ে ৯টার দিকে গাবতলী থানাধীন নাড়ুয়ামালা ইউনিয়নের হাপানিয়া গ্রামে কনিকা আক্তারের নিজ বসতবাড়িতে চারজন ব্যক্তি প্রবেশ করেন। তারা ওই নারী অসুস্থ দাবি করে কবিরাজি চিকিৎসা শুরু করেন।
অভিযোগে বলা হয়, প্রতারকরা প্রথমে তেলপড়া দিয়ে শরীরে মালিশ করতে বলেন। তাদের দেওয়া তেলপড়া শরীরে মাখার পর তারা ঘরের মধ্যে গোলাপ জল ছিটিয়ে কনিকা আক্তারকে স্বর্ণালংকার বের করতে বলেন। একপর্যায়ে তিনি অচেতন হয়ে পড়লে তার স্বর্ণালংকার প্রতারকদের হাতে তুলে দেন।
প্রতারকরা তাকে বলেন, সাত দিনের আগে স্বর্ণালংকার দেখা যাবে না। এর আগে দেখতে গেলে কবিরাজি চিকিৎসা কাজে আসবে না এবং সংসারে ক্ষতি হবে। একই সময় কবিরাজি চিকিৎসার কথা বলে তার কাছ থেকে নগদ ১০ হাজার টাকা নেওয়া হয়।
পরে বিষয়টি বুঝতে পেরে কনিকা আক্তার গাবতলী মডেল থানায় অভিযোগ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত ও অভিযান চালিয়ে মঙ্গলবার ভোরে রংপুরের বদরগঞ্জ থানার কাজীপুর এলাকা থেকে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা একটি পেশাদার প্রতারক চক্রের সদস্য। তারা বিভিন্ন জেলায় ঘুরে মসজিদ ও মাদ্রাসার জন্য দানের কথা বলে মানুষের কাছ থেকে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নিয়ে কৌশলে পালিয়ে যেতেন। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা প্রতারণার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশি কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

জনপ্রিয়

বগুড়ায় প্রেস কাউন্সিলের দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

গাবতলীতে মাদ্রাসায় কোরআন শরিফ দেওয়ার কথা বলে স্বর্ণালংকার ও টাকা আত্মসাৎ, ৩ প্রতারক গ্রেপ্তার

০৭:৪১:৪৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গাবতলী (বগুড়া) প্রতিনিধি: বগুড়ার গাবতলীতে মাদ্রাসার জন্য পবিত্র কোরআন শরিফ ও শিক্ষার্থীদের পোশাক দেওয়ার কথা বলে এক নারীর কাছ থেকে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার আত্মসাতের অভিযোগে একটি প্রতারক চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে রংপুর জেলার বদরগঞ্জ থানার কাজীপুর এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—মো. শামসুল সরকার ওরফে মন্ত্রী (৩৩), পিতা মো. আবু সায়েদ; মো. নুরনবী ইসলাম ওরফে নয়ন (২৭), পিতা মো. এনামুল হক এবং মো. শামসুল আলম (২৬), পিতা মো. আমিনুল ইসলাম। তাদের বাড়ি রংপুরের বদরগঞ্জ থানার কাজীপাড়া এলাকায়।
পুলিশ ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন মাস আগে অজ্ঞাতনামা দুই ব্যক্তি নারুয়ামালা এলাকায় বাদী কনিকা আক্তারের বাড়িতে মাদ্রাসার জন্য পবিত্র কোরআন শরিফ দান হিসেবে চান। এ সময় তাদের সঙ্গে বাদীর পরিচয় হয়। কোরআন শরিফ কেনার জন্য ওই দুই ব্যক্তি বাদীর কাছ থেকে ৫০০ টাকা নেন।
এর কিছুদিন পর ওই দুই ব্যক্তি আরও দুই মাদ্রাসাছাত্রকে সঙ্গে নিয়ে পুনরায় কনিকা আক্তারের বাড়িতে যান। মাদ্রাসার ছাত্রদের পোশাক কেনার কথা বলে তার কাছে ২ হাজার ১০০ টাকা চাইলে সরল বিশ্বাসে তিনি তাদের ওই টাকা দেন।
পরবর্তীতে গত ৮ আগস্ট সকাল সাড়ে ৯টার দিকে গাবতলী থানাধীন নাড়ুয়ামালা ইউনিয়নের হাপানিয়া গ্রামে কনিকা আক্তারের নিজ বসতবাড়িতে চারজন ব্যক্তি প্রবেশ করেন। তারা ওই নারী অসুস্থ দাবি করে কবিরাজি চিকিৎসা শুরু করেন।
অভিযোগে বলা হয়, প্রতারকরা প্রথমে তেলপড়া দিয়ে শরীরে মালিশ করতে বলেন। তাদের দেওয়া তেলপড়া শরীরে মাখার পর তারা ঘরের মধ্যে গোলাপ জল ছিটিয়ে কনিকা আক্তারকে স্বর্ণালংকার বের করতে বলেন। একপর্যায়ে তিনি অচেতন হয়ে পড়লে তার স্বর্ণালংকার প্রতারকদের হাতে তুলে দেন।
প্রতারকরা তাকে বলেন, সাত দিনের আগে স্বর্ণালংকার দেখা যাবে না। এর আগে দেখতে গেলে কবিরাজি চিকিৎসা কাজে আসবে না এবং সংসারে ক্ষতি হবে। একই সময় কবিরাজি চিকিৎসার কথা বলে তার কাছ থেকে নগদ ১০ হাজার টাকা নেওয়া হয়।
পরে বিষয়টি বুঝতে পেরে কনিকা আক্তার গাবতলী মডেল থানায় অভিযোগ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত ও অভিযান চালিয়ে মঙ্গলবার ভোরে রংপুরের বদরগঞ্জ থানার কাজীপুর এলাকা থেকে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা একটি পেশাদার প্রতারক চক্রের সদস্য। তারা বিভিন্ন জেলায় ঘুরে মসজিদ ও মাদ্রাসার জন্য দানের কথা বলে মানুষের কাছ থেকে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নিয়ে কৌশলে পালিয়ে যেতেন। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা প্রতারণার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশি কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।