০৪:০০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কাহালুর মেধাধী শিক্ষার্থী প্রভার রাশিয়ায় এমবিবিএস পড়ার সুযোগ

কাহালু (বগুড়া) প্রতিনিধিঃ সামাজিক নানা প্রতিবন্ধকতা মোকাবেলা করে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় শতাধিক সনদপ্রাপ্ত ও চিত্রাঙ্কন, সংগীত, নৃত্য, অভিনয়ের ক্ষেত্রে বেশ কয়েকটি পুরস্কার জয়ী বগুড়ার কাহালু উপজেলার উলট্ট পূর্বপাড়ার মোছা. জারিন ফারিহা রাশিয়ায় ইউরোপ অঞ্চলে Chechen State Medical University ‡Z (Doctor of medicine/MD/MBBS ) পড়াশোর সুযোগ পাচ্ছে। রাশিয়াতে এমবিবিএস পড়াশোনার সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বগুড়া জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ তোফিকুর রহমান প্রভার হাতে অনুদানের চেক প্রদান করেন।

নি¤œ মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান এস এম জাকির হোসেন তার একমাত্র কন্যা প্রভাকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করতে বিদেশে কঠোর পরিশ্রম করছেন। তার অবর্তমানে স্ত্রী মোছা: রওশন আরা একমাত্র কন্যার ইচ্ছাকে গুরুত্ব দিয়ে একজন সফল মাতার ভূমিকা পালন করছেন। প্রভার শিক্ষা জীবনের সূচনা হয় “কাহালু বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল এন্ড কলেজ” থেকে। এখান থেকে কৃতিত্বের সাথে পিএসসি পাশ করে কাহালু সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়। সেখান থেকে এসএসসি পাশ করে কাহালু সরকারি কলেজে ভর্তি হয়ে কৃতিত্বের সাথে এইচএসসি পাশ করে।

বিয়াম স্কুলে পড়াশোনা চলাকালেই প্রভা চিত্রাঙ্কন, অবৃতি, নৃত্য, সংগীত, নাটকসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে বরাবরই প্রথম স্থানের অধিকারী হয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষা জীবন থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত সর্বক্ষেত্রেই সফল হয়েছে প্রভা। স্থানীয় থেকে শুরু করে জেলা, বিভাগ ও জাতীয় পর্যায়ে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে প্রথম স্থানের অধিকারী হয়ে শতাধিক সনদ পেয়েছে। বিশেষ করে, চিত্রাঙ্কন, আবৃতি, রচনা, বিতর্ক প্রতিযোগিতা, উপস্থিত বক্তৃতা, তাৎক্ষণিক গল্প বলা, বিভিন্ন কুইজ প্রতিযোগিতা, সংগীত, অভিনয়, নৃত্যসহ নানা প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে ক্রেস্ট ও অসংখ্য পুরস্কার পেয়েছে প্রভা।

ছোটবেলা থেকে সাংস্কৃতিক চর্চা ও অনুশীলনের মাধ্যমে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে নিজের ইচ্ছা পুরুণের দ্বারপ্রান্তে প্রভা। উপজেলা, জেলা, বিভাগ ও জাতীয় পর্যায়ে তার উল্লেখযোগ্য অর্জনের মধ্যে রয়েছে সেরা শিক্ষার্থী, জাতীয় মেধা অন্বেষণ, সৃজনশীল মেধা অন্বেষণ প্রতিযোগিতায় প্রথম হওয়া থেকে শুরু করে বছরের সেরা মেধাবী খেতাব পাওয়া।

এছাড়াও উচ্চাঙ্গনৃত্য (ভরত, কথক, ওডিসি, মুনিপুরী), লোকনৃত্য ও সাধারণ নৃত্যে দারুণ পারদর্শী মেধাবী শিক্ষার্থী প্রভা। রবীন্দ্র সংগীত, নজরুলগীতি, ভাওয়াইয়া গান গাওয়া থেকে শুরু করে অভিনয়, কবিতা পাঠসহ নাট্য ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও প্রভা তার প্রতিভার সাক্ষর রেখেছে। প্রভার বাবা এসএম জাকির হোসেনের পদচারণা ছিল ঐতিহ্যবাহী কাহালু থিয়েটারে। পিতার মত প্রভাও কাহালু থিয়েটারের নাটক থেকে শুরু করে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছে।

প্রভার মা রওশন আরা জানান, বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় প্রভাকে নিয়ে যাওয়ায় সমাজের কিছু মানুষের নানা কটুকথা শুনতে হয়েছে তাকে। তারপরেও একমাত্র কন্যার ইচ্ছাশক্তিকে প্রাধান্য দিয়ে বছরের পর বছর ধৈর্য ধরে কন্যাকে প্রতিভাবান হিসেবে গড়ে তুলতে নিরলসভাবে পরিশ্রম করেছেন। মেয়ে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ায় অনেকে অবজ্ঞা করেছে। সমাজের কিছু মানুষ আছে প্রতিভার মূল্যায়ণ করেনা। কিছু শিক্ষিত মানুষ এমনকি কয়েক শিক্ষকও বলতেন মেয়েকে শুধু ভালোভাবে পড়াশোনা করানোই উত্তম। বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে পড়াশোনার ক্ষতি করা উচিত নয়। সামাজিক নানা প্রতিকুলতা ও প্রতিবন্ধকতাকে পিছনে ফেলে প্রবাসী জাকির হোসেন ও তার স্ত্রী রওশন আরা মেয়েকে ছোটবেলা থেকেই উৎসাহ দিয়েছেন। কন্যার সফলতায় অনেকে যখন প্রশংসা করেন, তখন জাকির ও রওশন আরার বুকটা ভওে যায়। মানুষের কটুকথা সহ্য করে কন্যার ইচ্ছাশক্তিকে প্রাধান্য দিয়ে তারা কোনো ভুল করেনি।

জারিন ফারিহা প্রভা জানান, আমার বাবা-মায়ের স্বপ্ন ও আমার ইচ্ছা ছিল বড় হয়ে আমি একদিন এমবিবিএস ডাক্তার হবো। সেই ইচ্ছাশক্তি নিয়েই মনোযোগ দিয়ে পড়াশুনার পাশাপানি সর্বক্ষেত্রে জ্ঞান অর্জনের জন্য বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে অনেকটা সফল হয়েছি। সমাজ ব্যবস্থার কথা বিবেচনা করে মাকে নিয়ে ভোরে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়ে শিক্ষামূলক কাজে অংশগ্রহণ করে সেইদিনই বাড়িতে ফিরে এসেছি। প্রয়োজনে বাসে কাউন্টারের বসার আসনে কখনো চোখ বুঝিয়েছি। ঢাকাতে নিজের আত্মীয়স্বজন না থাকায় হোটেল ও পরিচিত কারো বাড়িতে রাত কাটাইনি। আমি যেখানে গিয়ে মা সবসময় আমার পাশেই থাকতো। আমার ইচ্ছাকে সবসময় বাবা-মা প্রাধান্য দিয়েছে বলেই আমি রাশিতে এমবিবিএস পড়াশোনার সুযোগ পাচ্ছি।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

জনপ্রিয়

বগুড়ায় প্রেস কাউন্সিলের দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

কাহালুর মেধাধী শিক্ষার্থী প্রভার রাশিয়ায় এমবিবিএস পড়ার সুযোগ

০১:০৬:০৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কাহালু (বগুড়া) প্রতিনিধিঃ সামাজিক নানা প্রতিবন্ধকতা মোকাবেলা করে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় শতাধিক সনদপ্রাপ্ত ও চিত্রাঙ্কন, সংগীত, নৃত্য, অভিনয়ের ক্ষেত্রে বেশ কয়েকটি পুরস্কার জয়ী বগুড়ার কাহালু উপজেলার উলট্ট পূর্বপাড়ার মোছা. জারিন ফারিহা রাশিয়ায় ইউরোপ অঞ্চলে Chechen State Medical University ‡Z (Doctor of medicine/MD/MBBS ) পড়াশোর সুযোগ পাচ্ছে। রাশিয়াতে এমবিবিএস পড়াশোনার সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বগুড়া জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ তোফিকুর রহমান প্রভার হাতে অনুদানের চেক প্রদান করেন।

নি¤œ মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান এস এম জাকির হোসেন তার একমাত্র কন্যা প্রভাকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করতে বিদেশে কঠোর পরিশ্রম করছেন। তার অবর্তমানে স্ত্রী মোছা: রওশন আরা একমাত্র কন্যার ইচ্ছাকে গুরুত্ব দিয়ে একজন সফল মাতার ভূমিকা পালন করছেন। প্রভার শিক্ষা জীবনের সূচনা হয় “কাহালু বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল এন্ড কলেজ” থেকে। এখান থেকে কৃতিত্বের সাথে পিএসসি পাশ করে কাহালু সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়। সেখান থেকে এসএসসি পাশ করে কাহালু সরকারি কলেজে ভর্তি হয়ে কৃতিত্বের সাথে এইচএসসি পাশ করে।

বিয়াম স্কুলে পড়াশোনা চলাকালেই প্রভা চিত্রাঙ্কন, অবৃতি, নৃত্য, সংগীত, নাটকসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে বরাবরই প্রথম স্থানের অধিকারী হয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষা জীবন থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত সর্বক্ষেত্রেই সফল হয়েছে প্রভা। স্থানীয় থেকে শুরু করে জেলা, বিভাগ ও জাতীয় পর্যায়ে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে প্রথম স্থানের অধিকারী হয়ে শতাধিক সনদ পেয়েছে। বিশেষ করে, চিত্রাঙ্কন, আবৃতি, রচনা, বিতর্ক প্রতিযোগিতা, উপস্থিত বক্তৃতা, তাৎক্ষণিক গল্প বলা, বিভিন্ন কুইজ প্রতিযোগিতা, সংগীত, অভিনয়, নৃত্যসহ নানা প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে ক্রেস্ট ও অসংখ্য পুরস্কার পেয়েছে প্রভা।

ছোটবেলা থেকে সাংস্কৃতিক চর্চা ও অনুশীলনের মাধ্যমে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে নিজের ইচ্ছা পুরুণের দ্বারপ্রান্তে প্রভা। উপজেলা, জেলা, বিভাগ ও জাতীয় পর্যায়ে তার উল্লেখযোগ্য অর্জনের মধ্যে রয়েছে সেরা শিক্ষার্থী, জাতীয় মেধা অন্বেষণ, সৃজনশীল মেধা অন্বেষণ প্রতিযোগিতায় প্রথম হওয়া থেকে শুরু করে বছরের সেরা মেধাবী খেতাব পাওয়া।

এছাড়াও উচ্চাঙ্গনৃত্য (ভরত, কথক, ওডিসি, মুনিপুরী), লোকনৃত্য ও সাধারণ নৃত্যে দারুণ পারদর্শী মেধাবী শিক্ষার্থী প্রভা। রবীন্দ্র সংগীত, নজরুলগীতি, ভাওয়াইয়া গান গাওয়া থেকে শুরু করে অভিনয়, কবিতা পাঠসহ নাট্য ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও প্রভা তার প্রতিভার সাক্ষর রেখেছে। প্রভার বাবা এসএম জাকির হোসেনের পদচারণা ছিল ঐতিহ্যবাহী কাহালু থিয়েটারে। পিতার মত প্রভাও কাহালু থিয়েটারের নাটক থেকে শুরু করে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছে।

প্রভার মা রওশন আরা জানান, বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় প্রভাকে নিয়ে যাওয়ায় সমাজের কিছু মানুষের নানা কটুকথা শুনতে হয়েছে তাকে। তারপরেও একমাত্র কন্যার ইচ্ছাশক্তিকে প্রাধান্য দিয়ে বছরের পর বছর ধৈর্য ধরে কন্যাকে প্রতিভাবান হিসেবে গড়ে তুলতে নিরলসভাবে পরিশ্রম করেছেন। মেয়ে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ায় অনেকে অবজ্ঞা করেছে। সমাজের কিছু মানুষ আছে প্রতিভার মূল্যায়ণ করেনা। কিছু শিক্ষিত মানুষ এমনকি কয়েক শিক্ষকও বলতেন মেয়েকে শুধু ভালোভাবে পড়াশোনা করানোই উত্তম। বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে পড়াশোনার ক্ষতি করা উচিত নয়। সামাজিক নানা প্রতিকুলতা ও প্রতিবন্ধকতাকে পিছনে ফেলে প্রবাসী জাকির হোসেন ও তার স্ত্রী রওশন আরা মেয়েকে ছোটবেলা থেকেই উৎসাহ দিয়েছেন। কন্যার সফলতায় অনেকে যখন প্রশংসা করেন, তখন জাকির ও রওশন আরার বুকটা ভওে যায়। মানুষের কটুকথা সহ্য করে কন্যার ইচ্ছাশক্তিকে প্রাধান্য দিয়ে তারা কোনো ভুল করেনি।

জারিন ফারিহা প্রভা জানান, আমার বাবা-মায়ের স্বপ্ন ও আমার ইচ্ছা ছিল বড় হয়ে আমি একদিন এমবিবিএস ডাক্তার হবো। সেই ইচ্ছাশক্তি নিয়েই মনোযোগ দিয়ে পড়াশুনার পাশাপানি সর্বক্ষেত্রে জ্ঞান অর্জনের জন্য বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে অনেকটা সফল হয়েছি। সমাজ ব্যবস্থার কথা বিবেচনা করে মাকে নিয়ে ভোরে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়ে শিক্ষামূলক কাজে অংশগ্রহণ করে সেইদিনই বাড়িতে ফিরে এসেছি। প্রয়োজনে বাসে কাউন্টারের বসার আসনে কখনো চোখ বুঝিয়েছি। ঢাকাতে নিজের আত্মীয়স্বজন না থাকায় হোটেল ও পরিচিত কারো বাড়িতে রাত কাটাইনি। আমি যেখানে গিয়ে মা সবসময় আমার পাশেই থাকতো। আমার ইচ্ছাকে সবসময় বাবা-মা প্রাধান্য দিয়েছে বলেই আমি রাশিতে এমবিবিএস পড়াশোনার সুযোগ পাচ্ছি।