স্টাফ রিপোর্টার- বগুড়ার সোনাতলা সরকারি নাজির আখতার কলেজে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক সংকট বিরাজ করছে। কলেজটির অনুমোদিত ৩৫টি শিক্ষক পদের মধ্যে ১৬টিই বর্তমানে শূন্য। বিশেষ করে প্রাণিবিদ্যা ও তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ে কোনো শিক্ষক না থাকায় খণ্ডকালীন শিক্ষকের মাধ্যমে পাঠদান চালিয়ে নিতে হচ্ছে। এতে নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হওয়ায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
জানা গেছে, বগুড়া জেলা শহর থেকে প্রায় ৩১ কিলোমিটার উত্তরে সোনাতলা সরকারি নাজির আখতার কলেজের অবস্থান। ১৯৬৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি ১৯৮৪ সালে জাতীয়করণ করা হয়। বর্তমানে কলেজটিতে বাংলা, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি, অর্থনীতি, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, ব্যবস্থাপনা ও হিসাববিজ্ঞান বিষয়ে অনার্স কোর্স চালু রয়েছে।
কলেজ সূত্রে জানা যায়, বিভিন্ন বিভাগে শিক্ষক ও প্রদর্শকের একাধিক পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। বাংলা বিভাগে একজন প্রভাষক, ইংরেজিতে একজন সহকারী অধ্যাপক, অর্থনীতিতে একজন, রাষ্ট্রবিজ্ঞানে একজন, দর্শনে একজন, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতিতে একজন, ইতিহাসে একজন প্রভাষক এবং গণিতে একজন প্রভাষকের পদ শূন্য রয়েছে।
এ ছাড়া রসায়নে একজন প্রদর্শক, পদার্থবিজ্ঞানে একজন সহকারী অধ্যাপক ও একজন প্রদর্শক এবং উদ্ভিদবিদ্যায় একজন প্রদর্শকের পদও শূন্য রয়েছে। প্রাণিবিদ্যা বিভাগে সহকারী অধ্যাপক ও প্রদর্শকের দুটি পদ থাকলেও দুটিই বর্তমানে শূন্য। একইভাবে হিসাববিজ্ঞান বিভাগে একজন সহকারী অধ্যাপক, আইসিটি বিভাগে একজন শিক্ষক এবং সহকারী লাইব্রেরিয়ান পদসহ মোট ১৬টি পদ শূন্য রয়েছে।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, প্রাণিবিদ্যা ও আইসিটি বিষয়ে বর্তমানে কোনো স্থায়ী শিক্ষক না থাকায় খণ্ডকালীন শিক্ষক দিয়ে পাঠদান পরিচালনা করা হচ্ছে। এতে নিয়মিত ও কাঙ্ক্ষিত মানের পাঠদান নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। শিক্ষক সংকটের কারণে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় অভিভাবকরাও তাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।
এ বিষয়ে সোনাতলা সরকারি নাজির আখতার কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. মুঞ্জুর কাদের বলেন, “কলেজে শিক্ষকের অনুমোদিত ৩৫টি পদ রয়েছে। এর মধ্যে বর্তমানে ১৬টি পদ শূন্য। বিষয়টি জানিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে একাধিকবার লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে। তবে এখনো শূন্য পদগুলো পূরণ হয়নি। বিশেষ করে দুটি বিষয়ে কোনো শিক্ষক না থাকায় খণ্ডকালীন শিক্ষক দিয়ে শ্রেণি কার্যক্রম চালু রাখা হয়েছে।”
শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দাবি, শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে দ্রুত শূন্য পদগুলোতে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে প্রাণিবিদ্যা ও আইসিটি বিষয়ে স্থায়ী শিক্ষক পদায়নের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের শিক্ষক সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর উদ্যোগ নেবে—এমন প্রত্যাশা তাদের।
Reporter Name 


















