স্টাফ রিপোর্টার- একসময় সরকারি গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র, দলিল ও মূল্যবান সামগ্রী নিরাপদে সংরক্ষণের অন্যতম মাধ্যম ছিল ভারী লোহার সিন্দুক। তবে আধুনিক সংরক্ষণ ব্যবস্থা চালু হওয়ার পর সময়ের সঙ্গে এসব সিন্দুকের ব্যবহার অনেকটাই কমে গেছে। বগুড়ার সোনাতলা ভূমি অফিস চত্বরে থাকা তেমনই একটি পুরোনো লোহার সিন্দুক এখন অযত্ন-অবহেলায় পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে।
সোমবার সরেজমিনে সোনাতলা ভূমি অফিসে গিয়ে দেখা যায়, অফিসের সামনের একটি পরিত্যক্ত স্থানে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে রয়েছে ভারী লোহার তৈরি সিন্দুকটি। দীর্ঘদিন খোলা জায়গায় পড়ে থাকায় এর বিভিন্ন অংশে মরিচা ধরেছে। ধুলো-ময়লা ও বৃষ্টিসহ নানা প্রাকৃতিক কারণে ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সিন্দুকটির কাঠামো।
স্থানীয়দের মতে, একসময় সরকারি দপ্তরগুলোতে গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ও মূল্যবান সামগ্রী সংরক্ষণে এ ধরনের লোহার সিন্দুকের ব্যাপক ব্যবহার ছিল। বর্তমানে আধুনিক আলমারি, ফাইলিং ব্যবস্থা ও ডিজিটাল সংরক্ষণ পদ্ধতির কারণে পুরোনো এসব সিন্দুকের প্রয়োজনীয়তা অনেকটাই কমে গেছে।
ভূমি অফিসে সেবা নিতে আসা ঠাকুরপাড়া গ্রামের তোজাম্মেল হক বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তিনি সিন্দুকটি একই স্থানে পড়ে থাকতে দেখছেন। এটি দেখতে পুরোনো হলেও একসময় যে গুরুত্বপূর্ণ কাজে ব্যবহৃত হয়েছে, সেটি সহজেই বোঝা যায়। অযত্নে ফেলে রেখে নষ্ট করার পরিবর্তে এটি সংস্কার করে সংরক্ষণ করা হলে পুরোনো সরকারি সম্পদের স্মৃতি ধরে রাখা সম্ভব।
এ বিষয়ে সোনাতলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জুয়েল মিয়া বলেন, বর্তমানে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ নথি সংরক্ষণের জন্য আধুনিক আলমারি, ফাইলিং ব্যবস্থা ও ডিজিটাল পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে পুরোনো ভারী সিন্দুকের ব্যবহার আগের তুলনায় কমে গেছে।
তিনি আরও বলেন, কোনো সরকারি সম্পদ অব্যবহৃত অবস্থায় দীর্ঘদিন ফেলে রাখা উচিত নয়। প্রয়োজন অনুযায়ী তা নিলামে বিক্রি, পুনঃব্যবহার কিংবা সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। তিনি নিশ্চিত করেন, ভূমি অফিসের সামনে পড়ে থাকা সিন্দুকটি ভূমি অফিসেরই সম্পদ।
Reporter Name 


















