০৪:৩০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬

সাঘাটায় তিন সপ্তাহ ধরে ইউএনও নেই, প্রশাসনিক সেবায় ভোগান্তি

  • Reporter Name
  • ০২:৩৯:০১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬
  • ৩৪

সাঘাটা (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি: গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) পদ শূন্য থাকায় প্রশাসনিক কার্যক্রমে কিছুটা স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। বর্তমানে পার্শ্ববর্তী ফুলছড়ি উপজেলার ইউএনওকে সাঘাটার অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হলেও দুই উপজেলার দায়িত্ব একসঙ্গে সামলাতে গিয়ে নিয়মিত প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনায় চাপ তৈরি হচ্ছে।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ সেপ্টেম্বর সাঘাটা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আশরাফুল কবীর বদলি হয়ে ময়মনসিংহ জেলার একটি উপজেলায় যোগদানের উদ্দেশ্যে সাঘাটা থেকে বিদায় নেন। এরপর থেকে ফুলছড়ি উপজেলার ইউএনও মো. মোস্তাফিজুর রহমান সাঘাটা উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন।

প্রশাসন সূত্র আরও জানায়, অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত ইউএনও সপ্তাহে দুই দিন সাঘাটা উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ে অফিস করছেন। ফলে প্রশাসনের বিভিন্ন সেবা নিতে উপজেলা সদরে আসা সাধারণ মানুষ অনেক সময় কাঙ্ক্ষিত কর্মকর্তার সাক্ষাৎ না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। এতে একই কাজে একাধিকবার উপজেলা সদরে আসতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

ভরতখালী ইউনিয়নের বাসিন্দা মশিউর রহমান বলেন, ছোট ভাইয়ের জন্মনিবন্ধন-সংক্রান্ত কাজে ইউএনও কার্যালয়ে গিয়ে জানতে পারেন, ওই দিন ইউএনও অফিসে নেই। ফলে কাজ না করেই তাকে ফিরে যেতে হয়েছে।

ভরতখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফারুক হোসেন বলেন, ইউএনও বদলি হওয়ার পর জন্মনিবন্ধন সংশোধনসহ কয়েকটি প্রশাসনিক কাজে সাধারণ মানুষকে কিছুটা ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। তবে অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত ইউএনও দায়িত্ব নেওয়ার পর পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে।

এ বিষয়ে ফুলছড়ি উপজেলার ইউএনও ও সাঘাটা উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত ইউএনও মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, ‘একজন কর্মকর্তার পক্ষে দুটি স্টেশনের দায়িত্ব প্রতিদিন সামলানো বেশ চাপের। এরপরও নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে জন্মনিবন্ধনসহ প্রয়োজনীয় কার্যক্রম নিয়মিত মনিটরিং করে সম্পন্ন করা হচ্ছে।’

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সাঘাটা উপজেলায় দ্রুত একজন পূর্ণাঙ্গ উপজেলা নির্বাহী অফিসার নিয়োগ দেওয়া হলে প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমবে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

জনপ্রিয়

সোনাতলায় দুর্গাপূজার নিরাপত্তা নিয়ে মন্দির কমিটির নেতাদের সঙ্গে ওসির মতবিনিময়

সাঘাটায় তিন সপ্তাহ ধরে ইউএনও নেই, প্রশাসনিক সেবায় ভোগান্তি

০২:৩৯:০১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬

সাঘাটা (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি: গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) পদ শূন্য থাকায় প্রশাসনিক কার্যক্রমে কিছুটা স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। বর্তমানে পার্শ্ববর্তী ফুলছড়ি উপজেলার ইউএনওকে সাঘাটার অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হলেও দুই উপজেলার দায়িত্ব একসঙ্গে সামলাতে গিয়ে নিয়মিত প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনায় চাপ তৈরি হচ্ছে।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ সেপ্টেম্বর সাঘাটা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আশরাফুল কবীর বদলি হয়ে ময়মনসিংহ জেলার একটি উপজেলায় যোগদানের উদ্দেশ্যে সাঘাটা থেকে বিদায় নেন। এরপর থেকে ফুলছড়ি উপজেলার ইউএনও মো. মোস্তাফিজুর রহমান সাঘাটা উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন।

প্রশাসন সূত্র আরও জানায়, অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত ইউএনও সপ্তাহে দুই দিন সাঘাটা উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ে অফিস করছেন। ফলে প্রশাসনের বিভিন্ন সেবা নিতে উপজেলা সদরে আসা সাধারণ মানুষ অনেক সময় কাঙ্ক্ষিত কর্মকর্তার সাক্ষাৎ না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। এতে একই কাজে একাধিকবার উপজেলা সদরে আসতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

ভরতখালী ইউনিয়নের বাসিন্দা মশিউর রহমান বলেন, ছোট ভাইয়ের জন্মনিবন্ধন-সংক্রান্ত কাজে ইউএনও কার্যালয়ে গিয়ে জানতে পারেন, ওই দিন ইউএনও অফিসে নেই। ফলে কাজ না করেই তাকে ফিরে যেতে হয়েছে।

ভরতখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফারুক হোসেন বলেন, ইউএনও বদলি হওয়ার পর জন্মনিবন্ধন সংশোধনসহ কয়েকটি প্রশাসনিক কাজে সাধারণ মানুষকে কিছুটা ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। তবে অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত ইউএনও দায়িত্ব নেওয়ার পর পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে।

এ বিষয়ে ফুলছড়ি উপজেলার ইউএনও ও সাঘাটা উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত ইউএনও মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, ‘একজন কর্মকর্তার পক্ষে দুটি স্টেশনের দায়িত্ব প্রতিদিন সামলানো বেশ চাপের। এরপরও নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে জন্মনিবন্ধনসহ প্রয়োজনীয় কার্যক্রম নিয়মিত মনিটরিং করে সম্পন্ন করা হচ্ছে।’

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সাঘাটা উপজেলায় দ্রুত একজন পূর্ণাঙ্গ উপজেলা নির্বাহী অফিসার নিয়োগ দেওয়া হলে প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমবে।