০৪:৩৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬

সোনাতলায় ৫৩ মন্দিরে দুর্গাপূজা, উৎসবের রঙে সাজছে মণ্ডপ

  • Reporter Name
  • ০২:৪৪:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬
  • ৩৩

স্টাফ রিপোর্টার- শরতের শুভ্র আকাশ, কাশফুলের দোলা আর ঢাকের বাদ্যির প্রতীক্ষায় দিন কাটাচ্ছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। আর কয়েকদিন পরই শুরু হচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব। উৎসবকে ঘিরে বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপে এখন চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ মন্দিরেই প্রতিমা তৈরির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। কোথাও মাটির কাজ শেষ হয়েছে, আবার কোথাও চলছে প্রতিমার অবয়ব নিখুঁত করার কাজ। খড়, বাঁশ ও মাটির কাঠামোতে ইতোমধ্যে ফুটে উঠেছে দেবী দুর্গা ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের প্রতিমা। মাটির কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর রং-তুলির আঁচড়ে প্রতিমাগুলোকে দেওয়া হবে পূর্ণাঙ্গ রূপ।

প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন মৃৎশিল্পীরা। দিন-রাত পরিশ্রম করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার চেষ্টা করছেন তারা। প্রতিমার পাশাপাশি মণ্ডপের প্যান্ডেল, গেট, তোরণ, আলোকসজ্জা ও অন্যান্য সাজসজ্জার কাজও এগিয়ে চলছে।

মন্দির কমিটির সদস্যরা জানান, প্রতিমার রং ও সাজসজ্জার কাজ শেষ হলেই পূজামণ্ডপগুলো উৎসবের রূপ পেতে শুরু করবে। কয়েক দিনের মধ্যেই আলোকসজ্জা ও অন্যান্য প্রস্তুতি সম্পন্ন হবে। এদিকে দুর্গোৎসবকে সামনে রেখে সনাতনী পরিবারগুলোতেও শুরু হয়েছে কেনাকাটা। নতুন পোশাক, পূজার সামগ্রীসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে স্থানীয় বাজারগুলোতে বাড়ছে মানুষের উপস্থিতি।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, সোনাতলা উপজেলা শাখার সভাপতি বিকাশ চন্দ্র ও সাধারণ সম্পাদক মনোরঞ্জন জানান, চলতি বছর সোনাতলা উপজেলায় মোট ৫৩টি মন্দিরে শারদীয় দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ১৬ অক্টোবর থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত বিভিন্ন মন্দিরে পূজার আনুষ্ঠানিকতা চলবে।

তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পৌরসভা এলাকায় ৮টি, সদর ইউনিয়নে ৪টি, মধুপুর ইউনিয়নে ৭টি, তেকানী চুকাইনগরে ৩টি, পাকুল্লায় ৫টি, জোড়গাছায় ৮টি, দিগদাইড়ে ১২টি এবং বালুয়া ইউনিয়নে ৬টি মন্দিরে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছে।

এদিকে দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। সোনাতলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কবির হোসেন বলেন, দুর্গাপূজা নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্ন করতে ইতোমধ্যে উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে একাধিক দফায় আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় করা হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রতিটি পূজামণ্ডপে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অন্যান্য সদস্য ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও পূজামণ্ডপগুলোতে নজরদারি রাখবে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সোনাতলার প্রতিটি পূজামণ্ডপে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

সব মিলিয়ে দুর্গোৎসবকে ঘিরে সোনাতলার বিভিন্ন মন্দিরে এখন বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি শেষে ষষ্ঠী থেকে বিজয়া দশমী পর্যন্ত ভক্ত ও দর্শনার্থীদের পদচারণায় পূজামণ্ডপগুলো মুখর হয়ে উঠবে—এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

জনপ্রিয়

সাঘাটায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরির ঘটনায় পুলিশের অভিযান, একজন গ্রেপ্তার

সোনাতলায় ৫৩ মন্দিরে দুর্গাপূজা, উৎসবের রঙে সাজছে মণ্ডপ

০২:৪৪:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার- শরতের শুভ্র আকাশ, কাশফুলের দোলা আর ঢাকের বাদ্যির প্রতীক্ষায় দিন কাটাচ্ছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। আর কয়েকদিন পরই শুরু হচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব। উৎসবকে ঘিরে বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপে এখন চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ মন্দিরেই প্রতিমা তৈরির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। কোথাও মাটির কাজ শেষ হয়েছে, আবার কোথাও চলছে প্রতিমার অবয়ব নিখুঁত করার কাজ। খড়, বাঁশ ও মাটির কাঠামোতে ইতোমধ্যে ফুটে উঠেছে দেবী দুর্গা ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের প্রতিমা। মাটির কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর রং-তুলির আঁচড়ে প্রতিমাগুলোকে দেওয়া হবে পূর্ণাঙ্গ রূপ।

প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন মৃৎশিল্পীরা। দিন-রাত পরিশ্রম করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার চেষ্টা করছেন তারা। প্রতিমার পাশাপাশি মণ্ডপের প্যান্ডেল, গেট, তোরণ, আলোকসজ্জা ও অন্যান্য সাজসজ্জার কাজও এগিয়ে চলছে।

মন্দির কমিটির সদস্যরা জানান, প্রতিমার রং ও সাজসজ্জার কাজ শেষ হলেই পূজামণ্ডপগুলো উৎসবের রূপ পেতে শুরু করবে। কয়েক দিনের মধ্যেই আলোকসজ্জা ও অন্যান্য প্রস্তুতি সম্পন্ন হবে। এদিকে দুর্গোৎসবকে সামনে রেখে সনাতনী পরিবারগুলোতেও শুরু হয়েছে কেনাকাটা। নতুন পোশাক, পূজার সামগ্রীসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে স্থানীয় বাজারগুলোতে বাড়ছে মানুষের উপস্থিতি।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, সোনাতলা উপজেলা শাখার সভাপতি বিকাশ চন্দ্র ও সাধারণ সম্পাদক মনোরঞ্জন জানান, চলতি বছর সোনাতলা উপজেলায় মোট ৫৩টি মন্দিরে শারদীয় দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ১৬ অক্টোবর থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত বিভিন্ন মন্দিরে পূজার আনুষ্ঠানিকতা চলবে।

তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পৌরসভা এলাকায় ৮টি, সদর ইউনিয়নে ৪টি, মধুপুর ইউনিয়নে ৭টি, তেকানী চুকাইনগরে ৩টি, পাকুল্লায় ৫টি, জোড়গাছায় ৮টি, দিগদাইড়ে ১২টি এবং বালুয়া ইউনিয়নে ৬টি মন্দিরে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছে।

এদিকে দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। সোনাতলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কবির হোসেন বলেন, দুর্গাপূজা নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্ন করতে ইতোমধ্যে উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে একাধিক দফায় আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় করা হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রতিটি পূজামণ্ডপে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অন্যান্য সদস্য ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও পূজামণ্ডপগুলোতে নজরদারি রাখবে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সোনাতলার প্রতিটি পূজামণ্ডপে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

সব মিলিয়ে দুর্গোৎসবকে ঘিরে সোনাতলার বিভিন্ন মন্দিরে এখন বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি শেষে ষষ্ঠী থেকে বিজয়া দশমী পর্যন্ত ভক্ত ও দর্শনার্থীদের পদচারণায় পূজামণ্ডপগুলো মুখর হয়ে উঠবে—এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।