মুহাম্মাদ আবু মুসা- বগুড়ার গাবতলী উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের তছলিম উদ্দিন তরফদার ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ অ্যাডভোকেট জহুরুল ইসলাম কামালকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) নির্দেশনা অনুযায়ী কলেজের গভর্নিং বডি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছেন কলেজ কর্তৃপক্ষ।
কলেজ সূত্রে জানা যায়, অধ্যক্ষ জহুরুল ইসলাম কামালের বিরুদ্ধে চাকরির পাশাপাশি আইন পেশায় যুক্ত থাকা, দুর্নীতি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হওয়া, একাধিক মামলায় অভিযুক্ত থাকা এবং সনদপত্র জালিয়াতিসহ বিভিন্ন অভিযোগ তুলে স্থানীয় বাসিন্দা মোসলেম উদ্দিন গত ১০ সেপ্টেম্বর ঢাকার শিক্ষা ভবনে মাউশির মহাপরিচালক বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন।
অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মাউশির মহাপরিচালকের কার্যালয় থেকে বিষয়টি যথাযথ প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তির জন্য কলেজের সভাপতি মাসুদুর রহমান মাসুদকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপর কলেজের গভর্নিং বডি বিষয়টি নিয়ে সভা করে এবং অধ্যক্ষকে পৃথক সময়ে তিন দফা কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়।
কলেজ কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, সর্বশেষ গত ১ অক্টোবর অধ্যক্ষ তিনটি নোটিশের বিষয়ে একসঙ্গে আংশিক জবাব দেন। তবে তার দেওয়া জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় গভর্নিং বডি তাকে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেয়। মাউশির পক্ষ থেকে বিষয়টির তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ সাময়িক বরখাস্ত বহাল থাকবে বলে কলেজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
এদিকে অধ্যক্ষের সাময়িক বরখাস্তের পর কলেজের জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে আমিনুর ইসলামকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
তছলিম উদ্দিন তরফদার ডিগ্রি কলেজের সভাপতি মাসুদুর রহমান মাসুদ বলেন, “মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রক্রিয়া অনুসরণ করে অ্যাডভোকেট জহুরুল ইসলাম কামালকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আমিনুর ইসলাম বলেন, “কলেজের সভাপতি ও গভর্নিং বডি জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে আমাকে দায়িত্ব দিয়েছেন। যতদিন দায়িত্বে থাকব, সবার সহযোগিতা নিয়ে কলেজের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করব।”
তবে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্তকে সম্পূর্ণ অনিয়মতান্ত্রিক দাবি করেছেন অ্যাডভোকেট জহুরুল ইসলাম কামাল। গত ৬ অক্টোবর মোবাইল ফোনের হোয়াটসঅ্যাপে এ প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে ২৭টি মামলা থাকার অভিযোগ সঠিক নয়। তার বিরুদ্ধে ১৪টি মামলা ছিল, যার মধ্যে ১১টি প্রত্যাহার হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
আইন পেশায় যুক্ত থাকার অভিযোগের বিষয়ে জহুরুল ইসলাম কামাল বলেন, তিনি ২০১৭ সাল থেকে আইন পেশার সঙ্গে যুক্ত নন। ওই সময় একটি মামলায় কারাগারে যাওয়ার পর বগুড়া আইনজীবী সমিতির তালিকা থেকে তার নাম বাদ দেওয়া হয় বলেও দাবি করেন তিনি।
সনদপত্র জালিয়াতির অভিযোগও অস্বীকার করে তিনি বলেন, তার কোনো জাল সনদপত্র নেই এবং তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। তবে দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কারাগারে যাওয়ার বিষয়টি তিনি স্বীকার করেছেন। যথাযথ তদন্ত হলে অভিযোগগুলোর প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে বলেও তিনি দাবি করেন।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে মাউশির মহাপরিচালক প্রফেসর ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল, পরিচালক (কলেজ ও প্রশাসন) প্রফেসর মো. নাজমুল হক এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিনের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে স্থানীয় কয়েকজন শিক্ষানুরাগী দাবি করেছেন, নানা কারণে কলেজটিতে বর্তমানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে গেছে। এমনকি শিক্ষক-কর্মচারীর তুলনায় শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কম বলে তারা জানিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষের পৃথক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
Reporter Name 














