সোনাতলা সংবাদ ডেস্কঃ বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার জোড়গাছা ইউনিয়নের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া বাঙালি নদীর তীরবর্তী এলাকায় নদীভাঙন ও অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের আশঙ্কায় উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নদীর তীরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও ফসলি জমির কাছাকাছি ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলনের চেষ্টা করা হলে ভাঙন আরও তীব্র হওয়ার পাশাপাশি কৃষিজমি ও বিভিন্ন অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
জোড়গাছা ইউনিয়নের সর্জনপাড়া, হলিদাবগা, জোড়গাছা ও খোদাদিলেরপাড়া মৌজার ওপর দিয়ে প্রবাহিত বাঙালি নদীর দুই তীর প্রতিবছরই ভাঙনের কবলে পড়ে। এতে স্থানীয় কৃষকদের ফসলি জমি, বসতবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, রাস্তাঘাটসহ বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এলাকাবাসীর দাবি, নদীভাঙন থেকে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও জনবসতি রক্ষায় কয়েক বছর আগে নদীর বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ অংশে ব্লক স্থাপন করা হয়। এর মধ্যে সোনাকানিয়া শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী জামে মসজিদ, হলিদাবগা ঐতিহ্যবাহী জামে মসজিদ, বাঙালি হাট ও আশপাশের বসতিপূর্ণ এলাকা উল্লেখযোগ্য। এছাড়া হুয়াকুয়া-সর্জনপাড়া বাঙালি সেতু এবং বগুড়া-গাবতলী-সৈয়দ আহমদ কলেজ স্টেশন-চরপাড়া-ভেলুরপাড়া-সোনাতলা হয়ে মোকামতলা পর্যন্ত এলজিইডির সড়কের বিভিন্ন অংশও নদীভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে বলে তারা জানান।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও কৃষিজমির কাছাকাছি ড্রেজার বসিয়ে একটি চক্র অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের চেষ্টা করছে। এতে নদীর তীরের মাটি সরে গিয়ে ভাঙন বৃদ্ধি এবং আবাদি জমি ও স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ভুক্তভোগী জমির মালিক ও স্থানীয়দের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় সংসদ সদস্য কাজী রফিকুল ইসলামের হস্তক্ষেপে উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশ এর আগে অভিযান পরিচালনা করে। স্থানীয়দের ভাষ্য, ওই অভিযানের সময় বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত ড্রেজারসহ সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম সরিয়ে দেওয়া হয়। এতে আপাতত নদী তীরবর্তী কৃষিজমি ও বিভিন্ন স্থাপনা রক্ষা পেয়েছে বলে তারা দাবি করেন।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই ঘটনার পরও অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের তৎপরতা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। মাঝে মধ্যে কিছু কৃষককে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও পাওয়া যাচ্ছে। আবারও নদীতে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলনের চেষ্টা করা হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
এলাকাবাসীর দাবি, নতুন করে বালু উত্তোলন শুরু হলে নদীভাঙন বেড়ে গিয়ে মসজিদ, হাট-বাজার, বসতবাড়ি, ফসলি জমি এবং জনসাধারণের চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বিশেষ করে বগুড়া-গাবতলী-সোনাতলা-মোকামতলা সড়কের নিরাপত্তা নিয়েও তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
ভুক্তভোগীদের দাবি, জনস্বার্থে সর্জনপাড়া-হুয়াকুয়া বাঙালি সেতু থেকে সোনাকানিয়া মসজিদ, হলিদাবগা বাঙালি হাট হয়ে সাতবেকী পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার নদী এলাকায় বালু উত্তোলনের ওপর স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হোক। একই সঙ্গে নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে নদী ও নদীতীরবর্তী কৃষিজমি এবং সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা রক্ষার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে সোনাতলা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জুয়েল মিয়া বলেন, “অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। কেউ অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, নদীভাঙনপ্রবণ এই এলাকায় অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারি ও কার্যকর পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে।
Reporter Name 














