০৪:২৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬

সোনাতলায় সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ: গাছ কাটার অভিযোগ তদন্ত ও নিরাপত্তার দাবি

  • Reporter Name
  • ০৩:১৯:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬
  • ৮৪

স্টাফ রিপোর্টার- বগুড়ার সোনাতলায় আদালতে বিচারাধীন একটি সম্পত্তিতে জোরপূর্বক প্রবেশ করে প্রায় ৮০টি গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পক্ষ থেকে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সোনাতলায় আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের গড়ফতেপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. জাকিরুল ইসলাম জাকির। তিনি মুঞ্জুরুল ইসলামের ছেলে।

সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জাকিরুল ইসলাম বলেন, গড়ফতেপুর মৌজার সাবেক ৩০৪ দাগের একটি সম্পত্তি তার নানি মোছা. হাসনা বানুর নামে কবলা দলিলভুক্ত। পরবর্তীতে ওয়ারিশসূত্রে তারা ওই সম্পত্তি ভোগদখল করে আসছেন। সেখানে তাদের বসতঘরসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছপালা রয়েছে।

তার দাবি, সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে একটি পক্ষ দীর্ঘদিন ধরে তাদের ভোগদখলে বাধা ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আসছে। এ বিষয়ে তার নানি হাসনা বানু বগুড়ার বিজ্ঞ সহকারী জজ আদালতে ৮৯/২০২৩ নম্বর মামলা দায়ের করেন। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে বলে তিনি জানান।

জাকিরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, গত ৫ অক্টোবর সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে মো. খলিলুর রহমান, মো. নান্নু মিয়া, মোছা. নুরুন নাহার বেগম ও মো. সুজন মিয়াসহ কয়েকজন তাদের ভোগদখলীয় সম্পত্তিতে প্রবেশ করেন। পরে তারা ছোট-বড় বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় ৮০টি গাছ কেটে ফেলেন। এতে আনুমানিক দুই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, গাছ কাটতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে অভিযুক্তরা তাকে গালিগালাজ করেন এবং মারধরের চেষ্টা করেন। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে গাছপালা কেটে ফেলা ও শারীরিক ক্ষতির হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

ঘটনার সময় স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন বলে সাংবাদিক সম্মেলনে জানানো হয়। তাদের মধ্যে মো. রাসেল সরকার ও মো. জুলফিকার আলী বাবলাসহ আরও কয়েকজন ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী বলে দাবি করেন জাকিরুল ইসলাম।

তিনি বলেন, “আমরা কোনো সংঘাত চাই না এবং আইন নিজের হাতে তুলে নিতে চাই না। সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ যেহেতু আদালতে বিচারাধীন, তাই আদালতের মাধ্যমেই এর নিষ্পত্তি চাই।”

সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে ৫ অক্টোবরের গাছ কাটার অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত, ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি যাচাই এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত বিতর্কিত সম্পত্তিতে কোনো পক্ষ যাতে জোরপূর্বক কোনো কার্যক্রম চালাতে না পারে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।

জাকিরুল ইসলাম বলেন, “আমরা কারও বিরুদ্ধে অন্যায় প্রতিশোধ চাই না। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে যারা আইন ভঙ্গ করেছে বলে প্রমাণিত হবে, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়াই আমাদের দাবি।”

অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

জনপ্রিয়

সোনাতলার জোড়গাছায় মরণফাঁদ বাঁশের সেতু, ভ্যান পড়ে চালকসহ ২ জন আহত

সোনাতলায় সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ: গাছ কাটার অভিযোগ তদন্ত ও নিরাপত্তার দাবি

০৩:১৯:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার- বগুড়ার সোনাতলায় আদালতে বিচারাধীন একটি সম্পত্তিতে জোরপূর্বক প্রবেশ করে প্রায় ৮০টি গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পক্ষ থেকে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সোনাতলায় আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের গড়ফতেপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. জাকিরুল ইসলাম জাকির। তিনি মুঞ্জুরুল ইসলামের ছেলে।

সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জাকিরুল ইসলাম বলেন, গড়ফতেপুর মৌজার সাবেক ৩০৪ দাগের একটি সম্পত্তি তার নানি মোছা. হাসনা বানুর নামে কবলা দলিলভুক্ত। পরবর্তীতে ওয়ারিশসূত্রে তারা ওই সম্পত্তি ভোগদখল করে আসছেন। সেখানে তাদের বসতঘরসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছপালা রয়েছে।

তার দাবি, সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে একটি পক্ষ দীর্ঘদিন ধরে তাদের ভোগদখলে বাধা ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আসছে। এ বিষয়ে তার নানি হাসনা বানু বগুড়ার বিজ্ঞ সহকারী জজ আদালতে ৮৯/২০২৩ নম্বর মামলা দায়ের করেন। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে বলে তিনি জানান।

জাকিরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, গত ৫ অক্টোবর সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে মো. খলিলুর রহমান, মো. নান্নু মিয়া, মোছা. নুরুন নাহার বেগম ও মো. সুজন মিয়াসহ কয়েকজন তাদের ভোগদখলীয় সম্পত্তিতে প্রবেশ করেন। পরে তারা ছোট-বড় বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় ৮০টি গাছ কেটে ফেলেন। এতে আনুমানিক দুই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, গাছ কাটতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে অভিযুক্তরা তাকে গালিগালাজ করেন এবং মারধরের চেষ্টা করেন। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে গাছপালা কেটে ফেলা ও শারীরিক ক্ষতির হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

ঘটনার সময় স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন বলে সাংবাদিক সম্মেলনে জানানো হয়। তাদের মধ্যে মো. রাসেল সরকার ও মো. জুলফিকার আলী বাবলাসহ আরও কয়েকজন ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী বলে দাবি করেন জাকিরুল ইসলাম।

তিনি বলেন, “আমরা কোনো সংঘাত চাই না এবং আইন নিজের হাতে তুলে নিতে চাই না। সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ যেহেতু আদালতে বিচারাধীন, তাই আদালতের মাধ্যমেই এর নিষ্পত্তি চাই।”

সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে ৫ অক্টোবরের গাছ কাটার অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত, ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি যাচাই এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত বিতর্কিত সম্পত্তিতে কোনো পক্ষ যাতে জোরপূর্বক কোনো কার্যক্রম চালাতে না পারে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।

জাকিরুল ইসলাম বলেন, “আমরা কারও বিরুদ্ধে অন্যায় প্রতিশোধ চাই না। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে যারা আইন ভঙ্গ করেছে বলে প্রমাণিত হবে, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়াই আমাদের দাবি।”

অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।