০২:০৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সোনাতলায় আদালতের নির্দেশে বসতভিটা উদ্ধার

  • Reporter Name
  • ০৪:০৮:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ নভেম্বর ২০২২
  • ৯৩

সোনাতলা (বগুড়া) প্রতিনিধিঃ বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার উত্তর বাঁশহাটা গ্রামের শ্রী হরিপদর বসতবাড়ী উচ্ছেদ করে বাদী পক্ষকে দখল দেওয়া হয়েছে। ২২ নভেম্বর মঙ্গলবার জেলা বগুড়ার ল‍্যান্ড সার্ভে ট্রাইবুন‍্যাল এর নির্দেশে বগুড়া জর্জকোর্ট এ‍্যাডভোকেট কমিশনার দুর্নীতি দমন কমিশন আনোয়ার হোসেন এর উপস্থিতে বসত বাড়ী উচ্ছেদ করা হয়েছে। বসতবাড়ী উচ্ছেদ করে জমি দখল করে লাল ফ্লাগ দিয়ে ঢোল বাজিয়ে বাদী পক্ষকে দখল বুঝিয়ে দেন। এসময় সোনাতলা থানা পুলিশ উপস্থিত ছিল।

জানা যায় বাঁশহাটা গ্রামের মৃত হরেন্দ্র নাথ রায় তপশীল বর্ণিত ৪৪৭দাগের ২১শতক জমিতে স্বত্ববান দখলদার নিযুক্ত থাকাবস্থায় গত ১৫মার্চ ১৯৯৯ সালে সম্পাদিত ও রেজিষ্ট্রিকৃত ১২০৩ নম্বর কবলা দলিল মূলে সাবেক হাল দাগ ৪৪৭ বর্তমানে ৬৯৮ হাল দাগে ২১ শতাংশ জমি একই গ্রামের মৃত কাশেম আলী খন্দকারের ছেলে মান্নান খন্দকারের কাছে বিক্রয় করে।

সেই জমির উপর দীর্ঘদিন থেকে উপজেলার উত্তর বাশহাটা গ্রামে বাঁশহাটা মৌজার জেএল খতিয়ান ৪৪৭ দাগে ২১ শতাংশ জমিতে হরিপদ বসতবাড়ী নির্মাণ করে বসবাস করে আসছে।

ওই জমি একই গ্রামের মৃত কাশেম আলী খন্দকারের ছেলে মান্নান খন্দকার তার দাবি করে ২০১৩ সালে জেলা বগুড়ার ল‍্যান্ড সার্ভে ট্রাইবুন‍্যাল আদালতে মামলা করেন। দীর্ঘ ১২ বছর শেষে এ বছর মান্নান খন্দকারের পক্ষে রায় দেয় আদালত। আদালতের আদেশের প্রেক্ষিতে গত ২২ নভেম্বর বগুড়া জেলা এ‍্যাডভোকেট কমিশনার দুর্নীতি দমন কমিশন আনোয়ার হোসেন বসতবাড়ী উচ্ছেদ করে জমি বাদী মান্নান কে দখল স্বত্ব দেয়ার নির্দেশ দেন।

এবিষয়ে হরিপদ জানান, দীর্ঘদিন যাবৎ তার নানার দেওয়া জমির উপর বসতবাড়ী নির্মাণ করে বসবাস করে আসছে। হঠিৎ জানতে পারে এই জমির উপর মামলা করছে। তিনি এই জমির সাবেক দাগ ৪৪৭ এবং বর্তমানে ৬৯৫ হাল দাগ হয়েছে। কিন্তু আদালত থেকে তারা ৬৯৮ দাগে ২১শতাংশ জমি রায় পায়। আজকে তারা আমাকে উচ্ছেদ করে দিয়ে জমি দখল করছে। তিনি আরও বলেন, আদালত থেকে বসতবাড়ী উচ্ছেদের ৭দিন সময় দিয়ে একটি নোটিশ প্রদান করে যেহেতু আমার জমির দাগ নম্বর ৬৯৫ কিন্তু নোটিশটি ৬৯৮দাগের উপর সেজন‍্য আমি নোটিশে স্বাক্ষর করি। আদালত নোটিশে স্বাক্ষর নেওয়ার পর আজ আমার বসতবাড়ী ভেঙ্গে দিয়েছে। পরিবার পরিজন নিয়ে আমি এখন অসহায়।

ওপর দিকে মামলার বাদি মান্নান খন্দকারের ছেলে ডাক্তার মোহাম্মাদ আমিনুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন থেকে এই জমি নিয়ে গ্রাম‍্য শালিশি হয় আমাদের পক্ষে রায় দেয় কিন্তু দখন দিচ্ছিলনা। পরবর্তীতে আমরা আদালতে মামলা করি আদালত আমাদেরকে রায় দেন, আমরা ন্যায় বিচার পেয়েছি। আদালত আমাদেরকে জমি ফিরিয়ে দিয়েছেন।

জেলা আদালতের জেলা বগুড়ার ল‍্যান্ড সার্ভে ট্রাইবুন‍্যাল এর নির্দেশে বগুড়া জর্জকোর্ট এ‍্যাডভোকেট কমিশনার দুর্নীতি দমন কমিশন আনোয়ার হোসেন বলেন, আদালতের নির্দেশ মতে ৭দিন সময় বেধে দিয়ে বশতবাড়ী সরিয়ে নিতে বলা হয়েছিল সরিয়ে না নেওয়ায় আজ কোর্টের আদেশে বসতবাড়ী উচ্ছেদ করে জমি বাদী পক্ষকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

জনপ্রিয়

বগুড়ায় প্রেস কাউন্সিলের দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

সোনাতলায় আদালতের নির্দেশে বসতভিটা উদ্ধার

০৪:০৮:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ নভেম্বর ২০২২

সোনাতলা (বগুড়া) প্রতিনিধিঃ বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার উত্তর বাঁশহাটা গ্রামের শ্রী হরিপদর বসতবাড়ী উচ্ছেদ করে বাদী পক্ষকে দখল দেওয়া হয়েছে। ২২ নভেম্বর মঙ্গলবার জেলা বগুড়ার ল‍্যান্ড সার্ভে ট্রাইবুন‍্যাল এর নির্দেশে বগুড়া জর্জকোর্ট এ‍্যাডভোকেট কমিশনার দুর্নীতি দমন কমিশন আনোয়ার হোসেন এর উপস্থিতে বসত বাড়ী উচ্ছেদ করা হয়েছে। বসতবাড়ী উচ্ছেদ করে জমি দখল করে লাল ফ্লাগ দিয়ে ঢোল বাজিয়ে বাদী পক্ষকে দখল বুঝিয়ে দেন। এসময় সোনাতলা থানা পুলিশ উপস্থিত ছিল।

জানা যায় বাঁশহাটা গ্রামের মৃত হরেন্দ্র নাথ রায় তপশীল বর্ণিত ৪৪৭দাগের ২১শতক জমিতে স্বত্ববান দখলদার নিযুক্ত থাকাবস্থায় গত ১৫মার্চ ১৯৯৯ সালে সম্পাদিত ও রেজিষ্ট্রিকৃত ১২০৩ নম্বর কবলা দলিল মূলে সাবেক হাল দাগ ৪৪৭ বর্তমানে ৬৯৮ হাল দাগে ২১ শতাংশ জমি একই গ্রামের মৃত কাশেম আলী খন্দকারের ছেলে মান্নান খন্দকারের কাছে বিক্রয় করে।

সেই জমির উপর দীর্ঘদিন থেকে উপজেলার উত্তর বাশহাটা গ্রামে বাঁশহাটা মৌজার জেএল খতিয়ান ৪৪৭ দাগে ২১ শতাংশ জমিতে হরিপদ বসতবাড়ী নির্মাণ করে বসবাস করে আসছে।

ওই জমি একই গ্রামের মৃত কাশেম আলী খন্দকারের ছেলে মান্নান খন্দকার তার দাবি করে ২০১৩ সালে জেলা বগুড়ার ল‍্যান্ড সার্ভে ট্রাইবুন‍্যাল আদালতে মামলা করেন। দীর্ঘ ১২ বছর শেষে এ বছর মান্নান খন্দকারের পক্ষে রায় দেয় আদালত। আদালতের আদেশের প্রেক্ষিতে গত ২২ নভেম্বর বগুড়া জেলা এ‍্যাডভোকেট কমিশনার দুর্নীতি দমন কমিশন আনোয়ার হোসেন বসতবাড়ী উচ্ছেদ করে জমি বাদী মান্নান কে দখল স্বত্ব দেয়ার নির্দেশ দেন।

এবিষয়ে হরিপদ জানান, দীর্ঘদিন যাবৎ তার নানার দেওয়া জমির উপর বসতবাড়ী নির্মাণ করে বসবাস করে আসছে। হঠিৎ জানতে পারে এই জমির উপর মামলা করছে। তিনি এই জমির সাবেক দাগ ৪৪৭ এবং বর্তমানে ৬৯৫ হাল দাগ হয়েছে। কিন্তু আদালত থেকে তারা ৬৯৮ দাগে ২১শতাংশ জমি রায় পায়। আজকে তারা আমাকে উচ্ছেদ করে দিয়ে জমি দখল করছে। তিনি আরও বলেন, আদালত থেকে বসতবাড়ী উচ্ছেদের ৭দিন সময় দিয়ে একটি নোটিশ প্রদান করে যেহেতু আমার জমির দাগ নম্বর ৬৯৫ কিন্তু নোটিশটি ৬৯৮দাগের উপর সেজন‍্য আমি নোটিশে স্বাক্ষর করি। আদালত নোটিশে স্বাক্ষর নেওয়ার পর আজ আমার বসতবাড়ী ভেঙ্গে দিয়েছে। পরিবার পরিজন নিয়ে আমি এখন অসহায়।

ওপর দিকে মামলার বাদি মান্নান খন্দকারের ছেলে ডাক্তার মোহাম্মাদ আমিনুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন থেকে এই জমি নিয়ে গ্রাম‍্য শালিশি হয় আমাদের পক্ষে রায় দেয় কিন্তু দখন দিচ্ছিলনা। পরবর্তীতে আমরা আদালতে মামলা করি আদালত আমাদেরকে রায় দেন, আমরা ন্যায় বিচার পেয়েছি। আদালত আমাদেরকে জমি ফিরিয়ে দিয়েছেন।

জেলা আদালতের জেলা বগুড়ার ল‍্যান্ড সার্ভে ট্রাইবুন‍্যাল এর নির্দেশে বগুড়া জর্জকোর্ট এ‍্যাডভোকেট কমিশনার দুর্নীতি দমন কমিশন আনোয়ার হোসেন বলেন, আদালতের নির্দেশ মতে ৭দিন সময় বেধে দিয়ে বশতবাড়ী সরিয়ে নিতে বলা হয়েছিল সরিয়ে না নেওয়ায় আজ কোর্টের আদেশে বসতবাড়ী উচ্ছেদ করে জমি বাদী পক্ষকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।